রাত পোহালেই মুসলমান ধর্মাবলম্বীদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। বরাবরের মতো এবারও রাজধানীতে ঈদুল আজহার প্রধান জামাত হবে জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে, সকাল সাড়ে ৭টায়। এ ছাড়া বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে ঈদের পাঁচটি জামাত হবে পর্যায়ক্রমে।

জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে প্রধান জামাতে ইমামতি করবেন তেজগাঁও রেলওয়ে জামে মসজিদের খতিব ও ইসলামিক ফাউন্ডেশনের সম্পাদক ড. মাওলানা মুশতাক আহমেদ। সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি, মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, রাজনীতিবিদ, কূটনৈতিকসহ সব শ্রেণিপেশার মানুষ এ জামাতে অংশ নেবেন।

সাধারণত রাষ্ট্রপতিও জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে ঈদের নামাজ পড়েন।তবে এবার তিনি হজ করতে সপরিবারে সৌদি আরবে অবস্থান করছেন।

ঈদ জামাতের জন্য ইতোমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে হাই কোর্ট সংলগ্ন জাতীয় ঈদগাহ মাঠ। সেখানে একসঙ্গে প্রায় ৩৫ হাজার মানুষের নামাজ পড়ার ব্যবস্থা করেছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। প্রধান ঈদ জামাত ঘিরে কয়েক স্তরের নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা ঈদগাহ মাঠ পরিদর্শন করে জঙ্গি হামলাসহ অন্যান্য নিরাপত্তার কোনো হুমকি নেই বলে আশ্বস্ত করেছেন।

তবে আবহাওয়া দুর্যোগপূর্ণ হলে ঈদগাহের বদলে আধাঘণ্টা পিছিয়ে সকাল ৮টায় জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে ঈদের প্রধান জামাত হবে।

বায়তুল মোকাররমে ৫টি জামাত
এদিকে প্রতিবছরের মতো এবারও জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজ আদায়ে পাঁচটি জামাত অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম জামাত সকাল ৭টায়, তারপর এক ঘণ্টা পর পর তিনটি জামাত এবং পঞ্চম ও সর্বশেষ জামাত সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে অনুষ্ঠিত হবে।

প্রথম জামাত : সকাল ৭টায়
প্রথম জামাতে ইমামতি করবেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের পেশ ইমাম হাফেজ মাওলানা এহসানুল হক, মুকাব্বির থাকবেন বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদ খাদেম আব্দুল হাদী।

দ্বিতীয় জামাত : সকাল ৮টায়
ইমামতি করবেন বায়তুল মোকাররমের পেশ ইমাম মাওলানা মুহীউদ্দিন কাসেম। মুকাব্বির থাকবেন বায়তুল মোকাররমের অবসরপ্রাপ্ত মুয়াজ্জিন হাফেজ ক্বারী মো. আতাউর রহমান।

তৃতীয় জামাত : সকাল ৯টায়
ইমামতি করবেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুফাসসির মাওলানা আবু সালেহ পাটোয়ারী। মুকাব্বির থাকবেন বায়তুল মোকাররমের চিফ খাদেম মো. শহিদ উল্লাহ।

চতুর্থ জামাত : সকাল ১০টায়
ইমামতি করবেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের পরিচালক মাওলানা মো. আনিসুজ্জামান সিকদার। মুকাব্বির থাকবেন বায়তুল মোকাররম মসজিদের খাদেম হাফেজ মো. রুহুল আমিন।

পঞ্চম ও সর্বশেষ জামাত : সকাল ১০টা ৪৫ মিনিটে
সর্বশেষ এ জামাতে ইমাম থাকবেন ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মুফতি মাওলানা মোহাম্মদ আবদুল্লাহ। মুকাব্বির থাকবেন খাদেম হাফেজ মো. জহিরুল ইসলাম।

আবহাওয়া অফিস ঈদের দিন সারাদেশেই কম-বেশি বৃষ্টির আভাস দিয়ে রেখেছে। তারা বলছে, দেশের মধ্যাঞ্চল, অর্থাৎ ঢাকা ও তার আশেপাশের অঞ্চল- যেমন ফরিদপুর, পাবনা, কুমিল্লা এসব এলাকায় বৃষ্টির পরিমাণ বেশি হতে পারে। উত্তরাঞ্চল এবং দক্ষিণাঞ্চলে তুলনামূলক বৃষ্টি কম থাকবে।

ঢাকায় যেসব স্থানে ঈদে জামাত হবে
ঢাকার ১ হাজার ৪৩৫টি মসজিদ ও ১৮৯টি ঈদগাহে ঈদের জামাত হবে এবার। সে অনুযায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা সাজিয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশ।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে সকাল ৮টায় এবং ৯টায় দুটি জামাত হবে। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সলিমুল্লাহ মুসলিম হল মসজিদে সকাল সাড়ে ৭টায়, ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলে সকাল ৮টায় এবং ফজলুল হক মুসলিম হলের পূর্ব পাশের খেলার মাঠে সকাল সাড়ে ৭টায় জামাত হবে। আবহাওয়া খারাপ হলে হলের মসজিদে জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

আজিমপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আবাসিক এলাকার বায়তুন নূর জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৭টায় হবে ঈদের জামাত। আবহাওয়া খারাপ হলে ঈদের জামাত হবে কেন্দ্রীয় মসজিদ বা হলের মসজিদে।

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ঈদের জামাত হবে সকাল ৭টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠে। আবহাওয়া ভালো না থাকলে বা বৃষ্টি হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্ধারিত তিনটি মসজিদে ঈদ জামাত হবে। আজিমপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় আবাসিক এলাকার বায়তুন নূর জামে মসজিদে ঈদের জামাত হবে সকাল ৮টায়।

জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজার টানেলে পবিত্র ঈদুল আজহার নামাজের জামাত সকাল ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে। জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ, হুইপবৃন্দ, মন্ত্রিপরিষদের সদস্য, সংসদ সদস্যবৃন্দ ও সংসদ সচিবালয়ের কর্মচারীসহ মুসল্লিরা এ জামাতে অংশ নেবেন।

এ ছাড়া মগবাজারের বিটিসিএল (সাবেক টিঅ্যান্ডটি) কলোনির জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৭টায় ঈদের নামাজ অনুষ্ঠিত হবে। এ জামাত সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত থাকবে।

এ ছাড়া গুলশান সেন্ট্রাল মসজিদে সকাল সাড়ে ৬টা, সাড়ে ৭টা ও সাড়ে ৮টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে। লালবাগ শাহী মসজিদে সকাল ৭টা ও ৮টায় ঈদের দুটি জামাত হবে। পুরান ঢাকা তারা মসজিদে সকাল সাড়ে ৭টায় ও ৮টায় হবে ঈদের জামাত। সোবহানবাগ জামে মসজিদে সকাল ৭টায় হবে ঈদ জামাত।

বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় ছয়টি জামাত হবে। মারকাজুল ফিকরিল ইসলামী (বড় মসজিদ) মসজিদে সকাল ৭টায়, সকাল সোয়া ৭টায় সি ব্লকের উম্মে কুলসুম জামে মসজিদে, সাড়ে ৭টায় এফ ব্লক জামে মসজিদে, ৮টায় জি ব্লকের বায়তুল জান্নাত জামে মসজিদে ঈদ জামাত হবে। কে ব্লকের মদিনাতুল উলুম মসজিদে সকাল ৭টায় এবং এন ব্লকের ফকিহুল মিল্লাত মুফতি আবদুর রহমান জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৭টায় ঈদের জামাত হবে।

এ ছাড়া রাজধানীর ধানমন্ডির তাকওয়া মসজিদে সকাল ৭টা ও সাড়ে ৮টায়, ধানমন্ডি ঈদগাহ জামে মসজিদে সকাল ৭টায়, মিরপুর দারুস সালাম এলাকার মীর বাড়ি আদি (মাদবর বাড়ি) জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৭টায় ও সকাল ৮টায়, মিরপুর ১২ নম্বর সেকশনের হারুন মোল্লাহ্ ঈদগাহে সকাল ৭টায়, মতিঝিলের আরামবাগের দেওয়ানবাগ শরিফে সকাল ৭টা ও সাড়ে ৮টায় ঈদের জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

দারুস সালামের মাতবর বাড়ি জামে মসজিদে সকাল ৭টায় ও সকাল সাড়ে ৮টায় ঈদ জামাত হবে। এলিফ্যান্ট রোডের তাকওয়া মসজিদে সকাল সাড়ে ৭টায়, বায়তুল আমান জামে মসজিদে সকাল সাড়ে ৭টায়, ঈদগাহ মাঠে সকাল ৮টায় জামাত অনুষ্ঠিত হবে।

এবার ১৯৬তম ঈদ জামাতের জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দান। সকাল ৯টায় এ জামাতে ইমামতি করবেন মাওলানা ফরীদ উদ্দীন মাসঊদ। শোলাকিয়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে যাচ্ছে দিনাজপুর গোর-এ-শহীদ বড় ময়দান। গত ঈদুর ফিতরে প্রায় ২২ একর আয়তনের এ মাঠে পাঁচ থেকে ছয় লাখ মানুষ সেখানে একসঙ্গে নামাজ পড়ছেন বলে দাবি করেছেন আয়োজকরা। এবারও সকাল সাড়ে ৮টায় সেখানে ঈদের জামাত হবে।

এবিএস