খুলনা-যশোর অঞ্চলের রাষ্ট্রায়ত্ত নয়টি পাটকলের শ্রমিকেরা ২০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতাসহ ৫ দফা দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে। রোববার সকাল ১০টা থেকে স্ব-স্ব মিল গেটে শ্রমিক সভার মধ্য দিয়ে ১১ দিনের এ কর্মসূচি পালন শুরু হয়েছে।

দাবিগুলো হচ্ছে, অবিলম্বে মিলগুলোকে পূর্ণঙ্গরূপে উৎপাদনমুখী করতে পাটখাতে প্রয়োজনীয় অর্থ ছাড়, পাটজাত পণ্যের দেশীয় বাজার সুরক্ষা ও সম্প্রসারণের জন্য প্রণীত আইন ২০০২ এবং ম্যান্ডেটরি প্যাকেজিং অ্যাক্ট ২০১০ অবিলম্বে বাস্তবায়ন, পে-কমিশনের মতো অবিলম্বে রাষ্ট্রায়ত্ত শিল্পে শ্রমিকদের জন্য মজুরি কমিশন বোর্ড গঠন, ১ জুলাই ২০১৩ ঘোষিত ২০ ভাগ মহার্ঘ ভাতা প্রদান ও খালিশপুর, দৌলতপুর জাতীয় এবং কর্ণফুলী জুট মিলের শ্রমিকদের স্থায়ীকরণ।

বিজেএমসি’র খুলনা আঞ্চলিক সমন্বয়কারী মো. রফিকুল ইসলাম বলেন, মিলে প্রায় ২০ হাজার মেট্রিক টন পাটজাত পণ্য মজুদ রয়েছে। মিলগুলোর উৎপাদিত পাটজাতপণ্য সিরিয়া, ইরাক, ইরান, সুদান ও মিশরসহ বিশ্বের প্রায় ৮/১০টি দেশে যায়। তবে, দেশের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও বিশ্ববাজারে চাহিদা কম থাকায় পণ্যগুলো বিক্রি করা সম্ভব হচ্ছে না। মিলগুলোয় বর্তমানে ১২ দিনের পাট রয়েছে। মাঝে মধ্যে পাট ক্রয় করা হচ্ছে'।

রাষ্ট্রায়ত্ত জুট মিল সিবিএ-নন সিবিএ ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক ও ক্রিসেন্ট জুট মিলের সিবিএ’র সাধারণ সম্পাদক সোহরাব হোসেন বলেন, '৫ দফা দাবিতে সংগঠনের পক্ষ থেকে ১১ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। ২৪ এপ্রিল শ্রমিক জনসভার মাধ্যমে পরবর্তী কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে'।

ক্রিসেন্ট জুট মিলের শ্রমিক ক্লাবের সামনে সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সিবিএ সভাপতি মো. দ্বীন ইসলাম। উপস্থিত ছিলেন, প্লাটিনাম জুবিলী জুট মিলে সিবিএ সভাপতি কাওসার আলী মৃধা, খালিশপুর জুট মিলে সেলিম শিকদার, স্টার জুট মিলে সিবিএ সভাপতি বেল্লাল মল্লিক, আলীম জুট মিলে, সিবিএ সভাপতি আ. সালাম, ইস্টার্ন জুট মিলে সিবিএ সভাপতি মো. আলাউদ্দীন, জেজেআই জুট মিলে সিবিএ সভাপতি হাসান উল্লাহ, কার্পেটিং জুট মিলে সিবিএ সভাপতি মুনসুর আলী প্রমুখ।

সমাবেশে বক্তারা অবিলম্বে ৫ দফা বাস্তবায়নের জন্য বিজেএমসি কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর আহ্বান জানান।

জেআই