র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ান (র‌্যাব) মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ বলেছেন, চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগে জঙ্গিবাদের উত্থান ঘটতে পারে এ আশংকাকে উড়িয়ে দেয়া যায় না।

মঙ্গলবার বিকালে ময়মনসিংহ সার্কিট হাউজে র‌্যাব মহাপরিচালক বেনজীর আহমদ এসব কথা বলেন।

তিনি বলেছেন, আমরা চাই চলমান (অনগোয়িং) অপচেষ্টার অবসান ঘটুক। আমরা চাই না দেশের কোনো নিরীহ সাধারণ মানুষ সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের দ্বারা নৃশংস হত্যাকান্ডের শিকার হোক।

তিনি বলেন, সন্ত্রাসী কর্মকান্ড এখন দেশে নয় বৈশ্বিক বিষয়ে পরিণত হয়েছে। সন্ত্রাসবাদী কর্মকান্ড যেকোনো লোক যেকোনো দেশেই করতে পারে। এটা এখন বর্ডারলেস, ফেইসলেস। যা আইডেন্টিফাই করা বেশ টাফ (কঠিন)।

তিনি আরও বলেন, এই যে ঘৃণ্য ‘অপচেষ্টা’ ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ডকে প্রয়াস করা হচ্ছে আমরা নাগরিকদের সাথে নিয়ে এর বিরুদ্ধে আমাদের কার্যক্রমকে আরো জোরদার করবো।

র‌্যাব ডিজি বেনজীর বলেন, গত জানুয়ারীর সাত তারিখ থেকে যে স্কেলে নাশকতা শুরু করা হয়েছিল এর বিরুদ্ধে সবাই কাজ করায় এখন কমেছে। আমরা আশা করবো শান্তির জন্য যে ঐক্য, সমৃদ্ধির জন্য যে বোঝাপড়া এবং দেশের অগ্রগতির জন্য আমাদের তীব্র আকাক্ষায় সবাই যদি উদ্বুদ্ধ হই, তাহলে ইনশাল্লাহ দ্রুতই অবসান হবে এবং আমরা মুক্তি পাবো।

সাম্প্রতিক নাশকতা সম্পর্কে বেনজীর আহমদ বলেন, আমরা সার্বক্ষনিক নজরদারি করছি। গত ২/১দিন ধরে যে ঘটনাগুলো ঘটেছে এগুলো আমাদের নজরে আছে। নিশ্চয়ই এভাবে চলতে দেব না।

তিনি বলেন, দেশের মুল শক্তি হচ্ছে জনগন। রাষ্ট্র ও জনগণের সম্বলিত শক্তি হচ্ছে অপরিসীম। সেটির যদি আমরা মেলবন্ধন তৈরি করতে পারি তাহলে যারা এধরণের কাজ করছেন তারা ফলবতি হবেন না।

অভিজিৎ হত্যাকান্ড সম্পর্কে র‌্যাবের ডিজি বলেন, ফারাবির কর্মকান্ড তার ব¬গেই রয়েছে। তার কর্মকান্ড উন্মুক্ত। এধরণের সন্ত্রাসী কর্মকান্ডের সাথে তার জড়িত থাকার দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। ইতিপূর্বেও তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। জামিনে বেরিয়ে আসার পরও আবার এধরণের অপপ্রচারে বা কর্মকান্ড তার বগে অব্যাহত ছিল।

ডিজি বলেন, অভিজিৎ হত্যাকান্ডের পর মিডিয়াতে ফারাবিকে নিয়েই লেখালেখি হয়েছে। ব্রগার রাজিব হত্যাকান্ডের সময়ও তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

এঘটনার পর র‌্যাব তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়। মামলার তদন্দকারি ডিবি পুলিশের হাতে ফারাবিকে হস্তান্তর করা হয়েছে। অভিজিৎ হত্যাকান্ডের সাথে যারাই জড়িত তাদেরকে গ্রেপ্তার করতে পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব কাজ করছে।

“স্লিপারসেল” কী এমন এক প্রশ্নের জবাবে র‌্যাব ডিজি মুম্বাইয়ে তাজ হোটেলে হামলার ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, প্লানিং করা হয়েছে এক জায়গায়, অস্ত্র আনা হয়েছে এক দেশ থেকে, ট্রেনিং করানো হয়েছে আরেক দেশে লোক আনা হয়েছে আরেক দেশ থেকে এনে অপারেশন করা হয়েছে।

তার মানে ‘ইট ইজ গোয়িং ইসক্রেজিংলি গেটিং বর্ডারলেস’। যে কারণে সন্ত্রাসবাদীদের মধ্যে জাতীয় ও আঞ্চলিক ইনফ্লুয়েন্স থাকে। এমন টেকনিক আমাদের দেশের সন্ত্রাসবাদীরা ব্যবহার করছে।

‘স্লিপারসেল’ হলো একটি কৌশল বা টেকনিক। যার মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদীরা এধরণের অপারেশন করে। এটা আমাদের দেশে প্রথম নয়, ইউরোপ আমেরিকাতে অনেক আগেই এমন ঘটনা ঘটেছে। এটা চালু করে আল কায়দা।

এটা নিয়ন্ত্রণের উপায় কী জানতে চাইলে র‌্যাব ডিজি বলেন, এটা বলবো না, তাহলে তারা কাউন্টার মেজার নিবে। অনেক বিষয় আছে যা মিডিয়াকে জানতে হবে না। আমরা যদি মিডিয়াতে সমস্ত কৌশল বলে দিই তাহলে তারা কাউন্টার কৌশল নেবে। তবে স্লিপারসেল সম্পর্কে আমরা কী করবে তা বলবো না।

রাজনৈতিক অস্থিরতার সুযোগে দেশে জঙ্গিবাদের উত্থানের আশঙ্কা করেন কিনা এমন প্রশ্নের জবাবে বেনজীর আহমদ বলেন, আমি এই আশঙ্কাকে উড়িয়ে দেই না। কারণ যখন এধরণের সন্ত্রাস তৈরি করার অপচেষ্টা করা হয় তখন সেই পরিবেশে অবশ্যই ধর্মীয় মৌলবাদ মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে। এই সন্ত্রাসবাদকে তাদের পরিবেশের জন্য তারা অনুকূল মনে করে।

আমরা মনে করি যত দ্রুত সম্ভব এই সন্ত্রাসী কর্মকান্ড সবাই মিলে দমন করতে হবে। যাতে ধর্মীয় জঙ্গিবাদ পুনরায় মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে না পারে।

চট্টগ্রামের অস্ত্র উদ্ধার না হলে দেশে বড় ধরণের ঘটনা ঘটতে পারতো বলেও মনে করেন তিনি। এর মধ্যদিয়ে নিকটতম একটা দুযোর্গ মোকাবিলা করতে সক্ষম হওয়ায় তিনি আল্লাহর কাছে শোকরিয়া জানান।

এসময় র‌্যাবের সহকারী মহাপরিচালক কর্ণেল জিয়াউল আহসান, পরিচালক (অর্থ ও প্রশাসন) উইং কমান্ডার মোফাজ্জল হোসাইন, জেলা প্রশাসক মোস্তাকীম বিল্লাহ ফারুকী, র‌্যাব-১৪ এর অধিনায়ক অতিরিক্ত উপ-মহাপরিচালক রফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার মঈনুল হক উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে সকাল ১১ টায় হেলিকপ্টারযোগে ময়মনসিংহে এসে সদর উপজেলার আকুয়া কান্দাপাড়ায় র‌্যাব-১৪ ব্যাটালিয়নের সদর দপ্তরের প্রস্তাবিত জায়গা পরিদর্শন করে। পরে তিনি র‌্যাব দরবারে বক্তব্য রাখেন।

 

এসএইচ