রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. এএফএম রেজাউল করিম সিদ্দিকীকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। শনিবার রাতে নগরীতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয় বলে জানিয়েছেন রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার তমিজউদ্দিন সরদার।
আটক যুবককে মহানগর ডিবি কার্যালয়ে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তবে তদন্তের স্বার্থে তার নাম-পরিচয় এবং আটকের বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।
এদিকে, অধ্যাপক রেজাউল হত্যা মামলা তদন্তের দায়িত্ব মহানগর ডিবি পুলিশে স্থানান্তর করা হয়েছে।
রোববার সকাল ৯টায় হত্যার ঘটনার সার্বিক বিষয় তদারকির জন্য গঠিত ‘মনিটরিং টিম’ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আধা-ঘন্টাব্যাপী বৈঠক করে।
রাবি ভিসির বাসভবনে ওই বৈঠক শেষে বেরিয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন আরএমপি’র অতিরিক্ত কমিশনার ও হত্যার ঘটনার মনিটরিং টিমের প্রধান তমিজউদ্দিন সরদার।
তিনি বলেন, চাঞ্চল্যকর এ হত্যার ঘটনাকে পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। এরই মধ্যে হত্যায় জড়িত সন্দেহে নগরীতে অভিযান চালিয়ে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। তবে তদন্তের স্বার্থে তার নাম-পরিচয় এখন প্রকাশ কার সম্ভব নয় বলে জানানা পুলিশের এই কর্মকর্তা।
আরএমপি’র পুলিশ কর্মকর্তা আরও জানান, মামলাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অধিকতর তদন্তের জন্য তা এরই মধ্যে ডিবিতে স্থানান্তর করা হয়েছে। দ্রুতই পুলিশ হত্যায় জড়িতদের গ্রেফতার করতে পারবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
উল্লেখ্য, গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে রাজশাহীর শালাবাগান এলাকায় নিজ বাসা থেকে একটু দূরে অধ্যাপক রেজাউলকে কুপিয়ে হত্যা করে ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। এতে তার ঘাড়ে তিনটি বড় কোপের আঘাত দেখা যায়। ঘটনাস্থলেই মারা যান তিনি।
এ ঘটনায় তার ছেলে বাদী হয়ে শনিবার বিকালে বোয়ালিয়া মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। পরে এ হত্যার দায় স্বীকার করে বিবৃতি দিয়েছে জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট- আইএস।
পরে রাতে তৃতীয় দফা জানাজা শেষে অধ্যাপক রেজাউল করিমের মরদেহ বাগমারা উপজেলার দরগামাড়িয়া গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে মায়ের কবরের পাশে সমাহিত করা হয়।
এদিকে, এ হত্যার প্রতিবাদে ও দোষীদের গ্রেফতার দাবিতে রাবি ক্যাম্পাসে রোববার সকাল থেকে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে ধর্মঘট পালন করছে রাবির শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।
এমআর





