মিয়ানমার সেনাবাহিনির দমন-পীড়ন আর জাতিগত নিধনের মুখে বাংলাদেশে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের দেখতে এবং ত্রাণ বিতরণ করতে চট্টগ্রামের কক্সবাজারের উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পে যান বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া।
সোমবার (৩০ অক্টোবর) উখিয়ায় রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন করে রোহিঙ্গাদের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করেন খালেদা জিয়া। সেখানে ত্রাণ বিতরণ শেষে রাত সাড়ে ১১টার দিকে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউস এসে পৌঁছান তিনি। এখানে রাত্রিযাপন করে আজ মঙ্গলবার (৩১ অক্টোবর) সকালে তিনি ঢাকার উদ্দেশে চট্টগ্রাম ত্যাগ করবেন।
দুপুরে কক্সবাজারের উখিয়ায় শফিউল্লাহ কার্টার ঢালা রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শনে যান খালেদা জিয়া। পরিদর্শনকালে তিনি বলেন, ‘আমরা আজকে সরেজমিনে রোহিঙ্গাদের দেখতে এসেছি। যারা ঘরবাড়ি, আত্মীয়-স্বজন, সহায় সম্পদ হারিয়ে এদেশে এসেছে। এ ব্যাপারে বিশ্ববাসীকেও এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছি। শুরুতেই আমি বিবৃতি দেই এই বলে যে- মিয়ানমার থেকে জীবন বাঁচাতে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের এখানে আশ্রয় দেয়া হোক। একই সাথে আমি দাবি জানাই, তারা যেন মর্যাদার সাথে নিরাপদে মিয়ানমারে ফিরে যেতে পারে। শুধু তাই নয়, সেই লক্ষ্যে সরকারকেও জোর কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জানানোর আহ্বান জানাই।’
বিএনপি চেয়ারপারসন বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি গরিব দেশ, ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। এখানে রোহিঙ্গাদের স্থায়ীভাবে আশ্রয় দেয়া সম্ভব না। রোহিঙ্গারা এদেশের পরিবেশ ও ভারসাম্য নষ্ট করছে। আন্তর্জাতিক সংস্থা বিশেষ করে ইউরোপিয় ইউনিয়ন, জাতিসংঘ এবং ওআইসিসহ বিশ্বে বড় বড় রাষ্ট্রগুলোর কাছে আহ্বান করবো তারা যেন জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরত পাঠানোর ব্যবস্থা করে।’
এসময় রোহিঙ্গাদের অতিদ্রুত নিজ দেশে ফেরত নিতে মিয়ানমার সরকারের প্রতি আহ্বান জানান খালেদা জিয়া।
কক্সবাজারের উখিয়ায় শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নেয়া রোহিঙ্গাদের ত্রাণ দিতে গিয়ে এক নারীর মুখে মিয়ানমার সেনাবাহিনির নির্যাতনের বর্ণনা শুনে আবেগআপ্লুত হয়ে পড়েন খালেদা জিয়া।
উল্লেখ্য, গত শনিবার (২৮ অক্টোবর) চট্টগ্রামের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন খালেদা জিয়া। পথে বেশ কয়েকটি জায়গায় তার গাড়িবহরে হামলা চালায় দুর্বৃত্তরা। এতে সাতটি গাড়ি ভাংচুর করা হয়।





