ব্যাপক উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মধ্যদিয়ে দেশের ২৩৪টি পৌরসভায় ভোটগ্রহণ চলছে। বুধবার সকাল ৮টা থেকে শুরু হওয়া ভোটগ্রহণ বিরতিহীনভাবে চলবে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। এ নির্বাচনে ৭০ লাখ ৯৯ হাজার ১৪৪ জন ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ৩৫ লাখ ৫২ হাজার ২৮৪ জন ও নারী ভোটার ৩৫ লাখ ৮৬ হাজার ৮৬০ জন। ভোট গ্রহণের দায়িত্বে রয়েছেন ৬৬ হাজার ৭৬৮ জন কর্মকর্তা।
এদিকে কোনো কোনো পৌরসভায় ভোট গ্রহণের আগে থেকেই সহিংসতা শুরু হয়েছে। বরগুনার গগন স্কুল কেন্দ্রে ভোটারদের সঙ্গে যৌথবাহিনীর ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। এ সময় ওসি ও সাংবাদিকসহ ১০জন আহত হয়েছেন। কেন্দ্র দখল ও অনিয়মের অভিযোগে নড়াইলের কালিয়ায় নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী।
রাতে ব্যালট পেপার ছিনতাইয়ের ঘটনায় মাদারীপুরের কালকিনি পৌরসভায় ২টি ও কুমিল্লার বড়ুরার এক কেন্দ্র স্থগিত করা হয়েছে।এছাড়া ভোট শুরুর পর চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে ২টি, জামালপুর সদরে ১টি ও সরিষাবাড়িতে ১টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। আধিপত্য বিস্তার ও জালভোটের অভিযোগে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রগুলোর প্রিসাইডিং কর্মকর্তারা ভোটগ্রহণ স্থগিত করেন।
কালকিনি পৌরসভার দুটি কেন্দ্রে অগ্রিম সিল মারার কারণে নৌকা প্রতীকের ১১’শ ৩ টি ব্যালট জব্দ করা হয়েছে। একইসঙ্গে ওই ভোট কেন্দ্রে ভোট গ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে।
এ দিকে নির্বাচনে কোনো ধরনের অনিয়ম হলে তা বরদাস্ত করা হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দিন আহমদ। এ ছাড়া নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হবে বলে দাবি করেছেন ইসি সচিব সিরাজুল ইসলাম।
মঙ্গলবার রাত ৯টায় সিইসি সাংবাদিকদের বলেন, ‘নির্বাচনে দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের উপর রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব নিরপেক্ষভাবে আইন মোতাবেক পালন করতে আমি নির্দেশ দিচ্ছি। নির্বাচন কমিশন এ ক্ষেত্রে কোনো ধরনের শৈথিল্য, অনিয়ম বা পক্ষপাতিত্ব বরদাস্ত করবে না।’
মাঠ পর্যায় থেকে আশঙ্কার কথা না জানালেও নির্বাচনের শেষ দিন মঙ্গলবার ইসিতে আওয়ামী লীগ ও বিএনপি পাল্টাপাল্টি অভিযোগ করেছে- তাদের নেতাকর্মীদের হামলা ও হয়রানি করা হচ্ছে। এ ছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছে বিএনপি। শেষ দিন প্রধান নির্বাচন কমিশনার কাজী রকিব উদ্দিন আহমদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে শঙ্কার কথা জানিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. মঈন খান।
নির্বাচনে ২০টি রাজনৈতিক দলের ৬৬০ জন এবং স্বতন্ত্রভাবে ২৮৫ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের ২৩৪ ও বিএনপির ২২৩ জন প্রার্থী রয়েছেন। মোট মেয়র প্রার্থী ৯৪৫ জন। দীর্ঘ সাত বছর পর ধানের শীষ ও নৌকার মধ্যে লড়াই হচ্ছে এই নির্বাচনের মাধ্যমে। এ নির্বাচন দুটি দলের মর্যাদার লড়াই বলে অনেকে মনে করছেন।
ভোটে মেয়র পদে ৯৪৫ প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রয়েছেন। সাধারণ কাউন্সিলর ৮ হাজার ৭৪৬ ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে ২ হাজার ৪৮০ জন। এদের মধ্যে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মেয়র পদে ৭ জন এবং কাউন্সিলর পদে ৯৪ জন ও নারী কাউন্সিলর পদে ৪০ জন নির্বাচিত হয়েছেন।
এআই





