নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুনের ঘটনায় দায়ের করা মামলা থেকে অব্যাহতি পাওয়া দুই আওয়ামী লীগ নেতা ঘটনার প্রায় ১৫ মাস পর পাল্টা মামলার আবেদন করেছেন।

থানা আওয়ামী লীগের বহিষ্কৃত সেক্রেটারি হাজী ইয়াছিন মিয়া ও সেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি আমিনুল হক রাজুর দায়ের করা পৃথক তিন মামলায় সাত খুনে নিহত কাউন্সিলর নজরুল ইসলামের ভাই আবদুস সালাম, শ্বশুর শহীদুল ইসলাম ওরফে শহীদ চেয়ারম্যানসহ বেশ কয়েকজনকে বিবাদী করা হয়েছে।

সাত খুনের পর থেকে বিবাদীদের হুমকিতে পলাতক থাকার কারণে মামলা করতে বিলম্ব হয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে মামলার আবেদনে।

২৮ জুলাই নারায়ণগঞ্জ চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পৃথকভাবে মামলা তিনটির আবেদন করা হয়। তবে বৃহস্পতিবার বাদী পক্ষের আইনজীবী এ্যাডভোকেট মহসিন মিয়া বিষয়টি সাংবাদিকদের অবহিত করেন।

আদালত ওই তিনটি মামলার আবেদন গ্রহণ করে ৩০ আগস্টের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসিকে নির্দেশ দিয়েছেন।

আদালতে দায়ের করা হাজী ইয়াছিন মিয়ার একটি মামলায় বিবাদী করা হয়েছে নিহত নজরুলের শ্বশুর শহীদুল ইসলামকে। অন্যরা হলেন, নজরুলের ভাই আবদুস সালাম, সাইদুল, মামুন, রফিকুল ইসলাম মিন্টু ও রনি। মামলার আবেদনে হাজী ইয়াছিন মিয়া অভিযোগ করেন, ‘২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নজরুল ইসলামসহ সাতজনকে অপহরণের পর বিবাদীরা গিয়ে ইয়াছিনের কাছে এক কোটি টাকা চাঁদা দাবি করে। অন্যথায় সাত খুনের মামলায় আসামি করার হুমকি দেয়। কিন্তু টাকা দিতে রাজি না হওয়ায় ২৮ এপ্রিল ফতুল্লা মডেল থানায় মামলা করে ইয়াসিনকে দ্বিতীয় আসামি করা হয়। পরে বিবাদীরা ৩০ এপ্রিল সিদ্ধিরগঞ্জের মৌচাকে মেসার্স সামস ফিলিং স্টেশনে হামলা করে ২০ লাখ টাকা লুটসহ ৫০ লাখ টাকার সম্পদের ক্ষতি করে।

হাজী ইয়াছিন মিয়ার দায়ের করা অপর মামলার আসামিরা হলেন— আবদুস সালাম, রফিকুল ইসলাম মিন্টু, মামুন, সাইদুল, রনি, কবির হোসেন, বাবুল মিয়া, মোহাম্মদ আলী ও জহিরুল ইসলাম। ওই মামলায় অভিযোগ করা হয়, ২০১৪ সালের ১ মে আসামিরা ইয়াসিনের বাড়িতে হামলা করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ভাঙচুরসহ ১০টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায়।

তৃতীয় মামলার বাদী সিদ্ধিরগঞ্জ থানা সেচ্ছাসেবক লীগের আমিনুল হক ভূঁইয়া রাজু। এ মামলার বিবাদীরা হলেন— শহীদুল ইসলাম, আবদুস সালাম, রফিকুল ইসলাম মিন্টু, মামুন, সাইদুল, রনি, কবির হোসেন, বাবুল মিয়া, মোহাম্মদ আলী, জহিরুল ইসলাম, মনির হোসেনসহ ২০-২৫ জন। মামলায় অভিযোগ করা হয়, বিবাদীরা মিলে ২০১৪ সালের ১ মে রাজুর বাড়িতে হামলা করে সাড়ে তিন লাখ টাকার সম্পদ লুটপাট করে।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকতা (ওসি) মোহাম্মদ সরফত জানান, আদালত থেকে কোনো মামলার কাগজ আসেনি। আসলে আইনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এএইচ