বিজয় দিবসের ৪৫ বছর পৃর্ণ হয়েছে। মহান বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে চট্টগ্রাম মহানগরীতে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মাননা প্রদান করেছে ছাত্র শিবির।
আজ ১৭ ডিসেম্বর চট্রগ্রামে মহান বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে এক অনুষ্ঠানে এই সম্মননা প্রদান করা হয়।
উক্ত অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরী পরিষদ সদস্য ও চট্টগ্রাম মহানগরী উত্তর সভাপতি সালাউদ্দিন মাহমুদ বলেন, ৪৭ সালের স্বাধীনতা পরবর্তী পাকিস্তানী শাসকের বৈরী আচরণ থেকে এ অঞ্চলের মানুষের অধিকার পুনরুদ্ধার করার জন্য আপামর জনতা তাদের জীবন বাজি রেখে অস্ত্র হাতে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। সশস্ত্র সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আমরা শত্রু মুক্ত স্বাধীন জাতি হিসেবে পথ চলা শুরু করি। যেখানে স্বাধীনতার মূল স্বপ্নই ছিল শান্তিপূর্ণ গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ। কিন্তু সেই স্বপ্ন আজ ক্ষত বিক্ষত করে দিয়েছে জবর দখলকারী বর্তমান ফ্যাসিবাদী সরকার।
তিনি আর ও বলেন ,তারা গণতন্ত্রকে পকেট বন্দি করতে জনগণের ভোটের অধিকার, মত প্রকাশের অধিকার, স্বাধীনভাবে চলাফেরা করার অধিকার কেড়ে নিয়েছে। ক্ষমতাসীন সরকার মানুষের বেঁচে থাকার অধিকার কেড়ে নিয়ে তথাকথিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের নামে অতি চতুরতার সাথে জাতির মাঝে বিভক্তির দেয়াল তৈরি করে দিয়েছে। এ ঘৃণ্য কাজটি তারা শুধু আমজনতার মাঝেই করেনি জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মাঝেও সে বিভক্তির দেয়াল এঁকে দিয়েছে। যা কখনোই কারো কাম্য ছিল না।
শিবির নেতা বলেন, যুদ্ধকালীন আ’লীগ নেতারা দিল্লী আশ্রিত থাকলেও তারা নিজেদেরকে একমাত্র মুক্তিযোদ্ধার দল হিসেবে পরিচিত করাতে গিয়ে বর্তমানে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বকে হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে। ক্ষমতাসীনদের বিভেদের এ হীণ রাজনীতি শুধুমাত্র দেশকে পিছিয়ে দিচ্ছে না ধ্বংস করছে আগামীর অযুথ সম্ভাবনাকে। পক্ষ-বিপক্ষের কালিমা লেপন করে প্রকৃত পক্ষে জাতিকে এক গভীর অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এটা দেশ ও জাতি বিনাশী তৎপরতা ছাড়া আর কিছুই নয়। আধিপত্যবাদী শক্তির এজেন্ডা বাস্তবায়ন করতেই পরিকল্পিতভাবে ফ্যাসিবাদীরা জাতিকে বিভক্তির দিকে ঠেলে দিয়েছে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, অপার সম্ভাবনায় ভরপুর আমাদের এ প্রিয় মাতৃভূমি বাংলাদেশ। তাই এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে দেশের শান্তিকামী মানুষ কোন বিভক্তি নয় বরং ঐক্য দেখতে চায়। ক্ষমতাসীনদের দেশের প্রতি মায়া দেখানো বুলি শুধু কথায় সীমাবদ্ধ না রেখে বাস্তবে পরিণত করতে হবে। এর মাধ্যমেই জাতি উন্নতির শিখরে অবস্থান করবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে স্বাধীনতা যুদ্ধে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করা হয়।
নগর উত্তর সেক্রেটারী নাজিব আহসান’র পরিচালনায় এতে আরো বক্তব্য রাখেন শিবির নেতা মাহবুবুর রহমান, কামাল কুতুবী. ডরদোয়ান জিসান প্রমুখ। সম্মাননা প্রদান অনুষ্ঠানে জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধের বিভিন্ন ঘটনার স্মৃতিচারণ করেন।
এআই





