মহানগরীর আসাম কলোনি এলাকার অনিক ইনলাম। তার স্ত্রীর কোল আলো করে পৃথিবীতে এসেছে নতুন অতিথি। খুশির সংবাদটি অনেক আত্মীয়-স্বজনদের কানে না পৌঁছাতেই বাড়িতে এসে হাজির হয় হিজরাদের একটি দল। উপস্থিত হয়েই ৫ হাজার টাকা দাবি। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে শুরু হয় হট্টগোল। এরপরে এক হাজার টাকা দিতে রাজী হলেও তারা শোনেন না তার কথা। একে একে আরো কয়েকজন ওই বাড়িতে এসে উপস্থিত হয়। শুরু হয় অশালীন অঙ্গ-ভঙ্গি ও পোশাক খুলে ফেলার হুমকি।
বেগতিক হয়ে অনিক ইসলামকে আরও কিছু টাকা বাড়িয়ে দিয়ে হিজরাদের বিদায় করতে হয়। এসব কর্মকাণ্ড ছদ্মবেশী পুরুষ হিজরাদের বলে দাবি করেছেন হিজরাদের নতুন গুরু মোহনা।
রাজশাহী মহানগরীতে আবারও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে হিজরারা। হিজরাদের গুরু মায়া খানের মৃত্যুর পরে তাদের চাঁদাবাজিতে অতিষ্ট হয়ে উঠেছে নগরবাসী। এসব বিষয়ে প্রশাসন কোনো ধরনের ব্যবস্থা না নেয়ায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।
নগরীর কয়েক জায়গা থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে, প্রতিদিন নগরীর বিভিন্ন স্থানে গিয়ে মোটা অংকের চাঁদাবাজি করছে তারা। তাদের প্রথম লক্ষ্য যে বাড়িতে নবজাতক আছে চিহ্নিত করে ওইসব বাড়িতে অভিযান চালানো। বাড়িগুলোতে ঢুকে পাঁচ হাজার থেকে শুরু করে অবস্থাভেদে ২০ হাজার পর্যন্ত দাবি করছে তারা। কেউ প্রতিবাদ করলে অশালীন অঙ্গ-ভঙ্গি ও গালি শুরু হয়। এ নিয়ে প্রায় জায়গায় অস্বস্তিকর পরিবেশের সৃষ্টি হচ্ছে। সংঘর্ষের ঘটনাও পর্যন্ত ঘটে।
একই অভিযোগ করেন ওই এলাকার কালা চাঁন। তিনি জানান, কয়েকদিন আগে তার মেয়ের সন্তান হয়। তার বাড়িতেও একই রকমভাবে ৫ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে। টাকা না দিলে একই রকমভাবে অঙ্গ-ভঙ্গি দেখানো হুমকি দেয়।
কালা চাঁদসহ ওই এলাকার আরও কয়েকজন জানান, টাকা আয়ের সহজ উপায় হিসেবে তারা এই পথ বেছে নিয়েছেন বলে জানান তারা। তারা আসলে পুরুষ হলেও মেয়েদের কাপড় পরে হিজরা সেজে চাঁদাবাজি করছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খ্লা বাহিনীর কোনোরকম পদক্ষেপ না থাকায় তারা এভাবে চাঁদাবাজির সুযোগ পাচ্ছে।
এদিকে, মায়া খানের মৃত্যুর পরে মোহনা নামে এক হিজরাকে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে গুরুর দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এখনো বিষয়টি সবার মাঝে প্রচার হয়নি। তবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে মোহনার নাম প্রকাশ করতে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হবে বলে কয়েকজন জানান।
এ ধরনের কর্মকাণ্ডের তীব্র নিন্দা রাজশাহী মহানগরীতে হিজরাদের নতুন গুরু মোহনা নিজেও জানিয়েছেন। তিনি জানান, এ ধরনের কর্মকাণ্ড প্রকৃত হিজরারা করেন না। মূলত যারা পুরুষ বেশে হিজরা তারাই এসব কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।
তিনি জানান, প্রকৃত হিজরাদের অনেক কষ্ট। সমাজে বাঁচতে হলে সাধারণ মানুষের পাশে থেকেই হিজরাদের বাঁচতে হবে। যারা এ ধরনের আচরণ করে তারা মূলত হিজরাই না। এরা পুরুষ। নিজেদের আখের গোছাতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড সমাজে করে বেড়াচ্ছে। এসব ছদ্মবেশীরা প্রকৃতি হিজরাদের সব ধরনের অধিকার কেড়ে নিয়েছে। আগামীতে এসব অধিকার প্রকৃত হিজরাদের কাছে ফিরিয়ে দেয়া হবে।
আগামীতে হিজরাদের মধ্যে ধর্মীয় মূল্যবোধ জাগ্রত করার জন্য কাজ করবেন বলে তিনি জানান।
ঢাকা, ১৩ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, জেআই





