প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভানত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী, এটা তো সাময়িক পদ। কিন্তু মানুষকে সেবা করা, মানুষের সেবক হয়ে থাকা সব থেকে বড় কাজ। সেটাই আমি করবার চেষ্টা করি।’
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় গণভবনে বড়দিন-২০১৫ উপলক্ষে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমার চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই। আমার বাবা সারা জীবন এ দেশের মানুষের জন্যই সংগ্রাম করেছেন। মানুষের মুক্তির জন্য সংগ্রাম করেছেন। তিনি স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন। একটি স্বাধীন রাষ্ট্র কীভাবে গড়ে উঠবে এটা তাঁর স্বপ্ন ছিল। তাঁর বড় সন্তান হিসেবে সেই স্বপ্নের কথা কিছুটা অবশ্যই আমার জানার সৌভাগ্য হয়েছে। তাই যখনই রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ পেয়েছি, আমি নিজেকে এ দেশের মানুষের সেবক হিসেবেই গণ্য করি’।
তিনি বলেন, ‘প্রত্যেকে একে অপরের ধর্মের প্রতি সম্মান দেখাবে। এটা হচ্ছে মূল শিক্ষা। মুক্তিযুদ্ধ ও স্বাধীনতার চেতনা। সকল ধর্মের অমর বাণী হচ্ছে শান্তি। সেই শান্তি আমরা চাই। বাংলাদেশ একটি শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করুক, উন্নত ও সমৃদ্ধিশালী হোক—সেটাই আমাদের লক্ষ্য।’
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যিশুখ্রিষ্ট সব সুখ, ত্যাগ ও ভোগ ত্যাগ করেছেন মানবকল্যাণে। ক্ষুধার্ত, রোগ ক্লিষ্ট মানুষের সেবা তিনি করেছিলেন। মানবতাকেই সব থেকে বড় করে তিনি দেখেছিলেন।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের দেশে খ্রিষ্টান সম্প্রদায়ের যাঁরা রয়েছেন, প্রতি বছর আপনারা বড়দিনের উৎসব পালন করেন এবং এই উৎসব উদ্যাপন করেন। এই উৎসবে আমরা সকলেই শরিক হতে চাই এবং শরিক হই।’
তিনি বলেন, ‘আমরা একে অপরকে যদি শ্রদ্ধা জানাতে না পারি, অন্য ধর্মকে শ্রদ্ধা জানাতে না পারি, তাহলে নিজের ধর্মকে কীভাবে শ্রদ্ধা জানাব। সেটাই হচ্ছে সবচেয়ে বড় কথা। আমাদের ইসলাম ধর্ম শান্তি ও সম্প্রীতির কথা বলেছে এবং সকল ধর্মের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শনের কথা আমাদের মহানবী (স.) বলে গেছেন। আমরা চাই—আমাদের দেশ এগিয়ে যাক। এ দেশের প্রতিটি মানুষ শান্তিতে বসবাস করুক।’
বাংলাদেশের মানুষ অসাধ্যসাধন করতে পারে উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘এই বাঙালি জাতির পিতার আহ্বানে সাড়া দিয়ে অস্ত্র হাতে তুলে নিয়ে বিজয় অর্জন করেছে। আমরা সেই বিজয়ী জাতি। কারও অন্যায় অপবাদ মাথা পেত নেব না। আমরা প্রতিবাদ করেছি এবং চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি।’
তিনি বলেন, ‘পদ্মা সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। এতে আরেকটি কাজ হয়েছে যে, দেশের মানুষের মাঝে আত্মবিশ্বাস ফিরে এসেছে। এই আত্মবিশ্বাস সব থেকে বড়, সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ। যেকোনো কাজ করতে গেলে নিজের ওপর বিশ্বাস থাকতে হবেযে হ্যাঁ, আমরাও পারি।’
বাংলাদেশ যেন ধীরে ধীরে এগিয়ে যায় এ জন্য তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত মানুষকে সাহায্য করা হচ্ছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা জানি অনেক বাধা আছে, বিঘ্ন আছে। তবে মানুষের কল্যাণে কাজ করতে গেলে অনেক বাধা আমাদের অতিক্রম করতে হবে। কিন্তু সেই বাধা-বিঘ্ন কখনো আমাদের কাজের গতিকে শ্লথ করতে পারবে না। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে, এগিয়ে যাবে। সে ক্ষেত্রে আপনাদের সহযোগিতা চাই।’
খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সদস্যরা রবীন্দ্র সঙ্গীত ‘আনন্দলোকে মঙ্গলালোকে বিরাজ সত্য সুন্দর’ গানটি গেয়ে প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। বিশপ পল শিশির সরকার পবিত্র বাইবেল থেকে পাঠ করে অনুষ্ঠান শুরু করেন।
খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের নেতৃবৃন্দ ফুলের তোড়া উপহার দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানান। এ উপলক্ষে গণভবনে একটি ‘ক্রিসমাস ট্রি’ সাজানো হয় এবং বড়দিনের তাৎপর্য, যীশু খ্রিস্টের বন্দনা ও দেশাত্মবোধক গান পরিবেশন করা হয়।
খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের প্রতিনিধি দলে বিশপ, ফাদার এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ যোগ দেন। ধর্মবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যক্ষ মতিউর রহমান, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ও বাংলাদেশ খ্রিস্টান অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিএ) সভাপতি প্রমোদ মানকিন, আর্চবিশপ প্যাট্রিক ডি রোজারিও এবং অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব নির্মল রোজারিও অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন।
পরে প্রধানমন্ত্রী বড়দিনের একটি কেক কাটেন এবং বিসিএ সভাপতি ও মহাসচিব প্রধানমন্ত্রীকে বড়দিনের একটি কার্ড উপহার দেন। প্রধানমন্ত্রী কেক ও মিষ্টি দিয়ে প্রতিনিধিদলের সদস্যদের আপ্যায়ন করেন।
কেবি





