গাইবান্ধার ফুলছড়ি উপজেলার চরাঞ্চলের নারীরা গৃহপালিত গাভীর দুধ বিক্রি করে এখন অনেকটাই স্বাবলম্বী হয়ে উঠছেন। উৎপাদিত দুধ স্থানীয় উদ্যোগে চালু করা দুধ সংগ্রহ কেন্দ্রে ন্যায্য দামে বিক্রি করতে পেরে চরাঞ্চলে নারীরা লাভের মুখ দেখতে শুরু করেছেন।
চরাঞ্চলের নারী রাবেয়া বেগম জানান, নদী ভাঙনে বসতভিটা হারানোর পর ছেলেমেয়ে ও স্বামী সংসার নিয়ে খুব কষ্টে দিন কাটছিল তার। ভাঙন কবলিত আরও অনেক মানুষের সাথে তারা আশ্রয় নেন পেপুলিয়া গ্রামে। তিন বছর আগে বেসরকারি সংগঠন এসকেএস ফাউন্ডেশনের রি-কল প্রকল্পের আওতায় প্রশিক্ষণ গ্রহন করে ২টি গাভী ক্রয় করেন।
এক বছর পর গাভী দুইটির বাচ্চা হলে প্রতিদিন ৬/৭ লিটার দুধ পেতে শুরু করেন। সংগঠনটির সহায়তায় গ্রামের অন্যান্য নারীদের নিয়ে নিজেরাই একটি দুধ সংগ্রহ কেন্দ্র চালু করেছেন। সেখানে ন্যায্য দামে দুধ বিক্রি করে একই স্থান থেকে গাভীর খাবারসহ চিকিৎসার যাবতীয় ঔষধ প্রাপ্তিরও ব্যবস্থা চালু করা হয়। প্রথম বছরের দুধ বিক্রির জমানো টাকা দিয়ে তিনি আরও দুইটি গাভী ক্রয় করেন।
রোজিনা বেগম বলেন, বর্তমানে দুধ বিক্রির টাকা দিয়ে ছেলেমেয়ের লেখাপড়া খরচ চালানোর পাশাপাশি সংসার চালানোর জন্য প্রয়জনীয় উপকরণ সংগ্রহ করেছেন। এখন তার সংসারে আর অভাব নাই।
একই কথা জানালেন উক্ত চরের ছবিয়া বেগম, সবুরা বেগম, বেবী বেগম, লিলি বেগম, জরিনা বেগম, জোবেদা বেগম সহ অনেকে। দুধ বিক্রির টাকা দিয়েই তাদের সংসার চলে।
চরাঞ্চলে উৎপাদিত দুধের মান উন্নত ও খাঁটি হওয়ায় সহসায় কিনছেন লোকজন। দক্ষিণ পেপুলিয়া সমাজ ভিত্তিক সংগঠনের ম্যানেজার সুবিতা বেগম জানান, আমাদের গ্রুপে৩৫ জন সদস্য রয়েছে। গ্রুপের সদস্যরা সবাই দুধ বিক্রি করায় দুধ সংগ্রহ অনেক বেশী হচ্ছে। তিনি বলেন, দেশের মিল্ক কোম্পানি গুলো আমাদের উৎপাদিত দুধ সরাসরি ক্রয় করলে আমরা লাভবান হতাম।
এসকেএস ফাউন্ডেশনের রি-কল প্রকল্পের কো-অর্ডিনেটর বাহারাম খান ও বিজনেস ডেভেলপমেন্ট অফিসার নাদিয়া খাতুন জানান, ফুলছড়ি উপজেলার ফুলছড়ি ও গজারিয়া এবং সাঘাটা উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নে ১২টি দুধ সংগ্রহ কেন্দ্র রয়েছে।
এইচ ই





