কক্সবাজারের চকরিয়া পৌর শহরের ফুটপাত থেকে আমের ঝুড়ি সরানোকে কেন্দ্র করে পুলিশ-যুবলীগ ও সৈনিক লীগের মধ্যে ত্রিমুখি সংঘর্ষ হয়েছে। এ সময় সাংবাদিক-পুলিশসহ গুলিবিদ্ধ হয়েছেন ৭ জন এবং হামলায় আহত হয়েছেন অন্তত আরও ২০ জন। আহতরা চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টা থেকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা পর্যন্ত দফায় দফায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।
গুলিবিদ্ধ আহতরা হলেন- চকরিয়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি এম জাহেদ চৌধুরী, চকরিয়া থানার ওসি (তদন্ত) কামরুল আজম, জেলা সৈনিক লীগ নেতা খলিল উল্লাহ চৌধুরী ও বাহাদুর মিয়া। বাকি তিনজনের পরিচয় জানা যায়নি।
এছাড়া হামলায় আহতরা হলেন- এসআই রুহুল আমিন, এএসআই ফারুক, কনস্টেবল সঞ্জয়, পৌর যুবলীগের সভাপতি হাসানগীর হোছাইন ও শ্রমিকলীগ নেতা জহির। এ ঘটনায় আরো ১২ জন আহত হয়েছে। তাৎক্ষণিকভাবে তাদের নাম পরিচয় পাওয়া যায়নি।
এ ঘটনায় যুবলীগ ও সৈনিক লীগের ৭ নেতাকর্মীকে আহত অবস্থায় আটক করেছে পুলিশ। ঘটনার পর পৌর শহরে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে। আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে ঈদবাজারে।
স্থানীয় ব্যবসায়ী আজিজ উদ্দিন জানান, বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে পৌর শহরের ফুটপাতে আমের দোকান থেকে অবৈধ টোল আদায়কে কেন্দ্র করে পুলিশ ও ফল ব্যবসায়ীদের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়। এ সময় আম ব্যবসায়ী বদিউল আলম ও তার ছেলে ইমনকে বেদম প্রহার করে পুলিশ। এ ঘটনায় প্রতিবাদ করলে সোসাইটি জামে মসজিদ কমিটির সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসাইনের সাথে পুলিশের হাতাহাতি হয়। এ নিয়ে উত্তপ্ত হয়ে উঠে পরিস্থিতি।
তিনি আরও বলেন, বিকেল ৫ টার দিকে এএসপি মোহাম্মদ মাসুদ আলমসহ একদল পুলিশ মহাসড়কের নিউ মার্কেট পয়েন্টে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। এএসপি, ওসি (তদন্ত), যুবলীগের সভাপতি, সৈনিক লীগ নেতা ও সাংবাদিকরা ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তি এবং উত্তপ্ত পরিস্থিতি শান্ত রাখতে চেষ্টা করছিলেন। এসময় তাদের লক্ষ্য করে কয়েক ফুট দূরত্বে দাঁড়িয়ে থাকা পুলিশ কনস্টেবল জাহাঙ্গীর শটগান থেকে গুলি ছুঁড়লে ৭ জন গুলিবিদ্ধ হয়। এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
এদিকে, সন্ধ্যায় চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আহতরা চিকিৎসা নেওয়ার সময় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সাহেদুল ইসলাম, চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ প্রভাষ চন্দ্র ধর জরুরি বিভাগে প্রবেশ করলে তাদের উপর হামলা চালায় যুবলীগ ও সৈনিক লীগের নেতাকর্মীরা। ঘটনা শুনে সহকারী পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে একদল পুলিশ হাসপাতালে যাওয়া মাত্রই তাদের উপরও হামলা চালায় তারা। এ সময় এসআই রুহুল আমিনকে পিটিয়ে অস্ত্র কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা চালায় হামলাকারীরা। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ১৪ থেকে ১৫ রাউন্ড গুলি ছুড়ে। এ ঘটনার পর পৌর শহরের মার্কেটগুলো ক্রেতাশূন্য হয়ে পড়েছে। শহর জুড়ে বিরাজ করছে আতঙ্ক।
চকরিয়া থানার ওসি প্রভাষ চন্দ্র ধর জানান, এ ঘটনায় ৭ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
এএইচ





