বরগুনায় প্রকাশ্যে স্ত্রীর সামনে রিফাত শরীফকে কুপিয়ে হত্যা মামলার প্রধান আসামী সাব্বির আহমেদ নয়ন ওরফে ‘নয়ন বন্ড’ পুলিশের সাথে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হয়েছেন।

মঙ্গলবার (০২ জুলাই) দিবাগত ভোর রাত ৪টার দিকে সদর উপজেলার বুড়িরচর ইউনিয়নের পুরাকাটা এলাকার পায়রা নদী সংলগ্ন চরে তার মরদেহ পাওয়া যায়। নয়ন ঘটনার পর থেকে পলাতক ছিলেন।

সাব্বির হোসেন নয়ন বন্ডের পৈতৃকবাড়ি পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার পশ্চিম সীমান্তে গলাচিপা উপজেলার ৮ নম্বর বকুলবাড়িয়া ইউনিয়নের গুয়া বাশবাড়িয়া গ্রামে।

ওই গ্রামে তার অনেক আত্মীয়-স্বজন রয়েছেন। বরগুনায়ও তার স্বজন ও বন্ধু রয়েছে। কিন্তু তার কর্মকাণ্ডের কারণে কেউ নয়নের পরিচয় দিতে চায় না।

নয়ন বন্ডের চাচা লিটন মোল্লা জানান, নয়নকে আমি দেখিনি। ওর বাবা খুব ভাল মানুষ ছিলেন। বাড়ির সবাই নয়ন বন্ডের লাশ গ্রামের বাড়িতে দাফন করতে নিষেধ করে দিয়েছেন। নয়ন বন্ডের ঘৃণিত কর্মকাণ্ডের কারণে গ্রামের বাড়ির কেউ-ই নয়ন বন্ডকে আত্মীয় পরিচয় দিতে চাচ্ছেন না।

ওই বাড়ির জাহাঙ্গীর মোল্লা ও জাহিদ মোল্লা বলেন, নয়ন বন্ড আমাদের কেউ না, ওরা বরগুনার বাসিন্দা। ওর বাবা বহু বছর আগে বাড়ি ছেড়ে বরগুনায় বসবাস করেন।

নিকটাত্মীয় একজন বরগুনার ধানসিড়ি সড়কে বসবাসরত চাচা আবদুস সালাম জানান, তিনি নয়নের মরদেহ গ্রহণ করতে ইচ্ছুক নন।

নয়নের বাসা সংলগ্নে বসবাসরত খালা নাসিমা বেগম বলেন, আমরা ইচ্ছুক নই, নয়নের মা ঢাকা থেকে এসে মরদেহ গ্রহণ করবেন।  

উল্লেখ্য, গত ২৬ জুন (বুধবার) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বরগুনা সরকারি কলেজের সামনের সড়কে স্ত্রীর সামনে প্রকাশ্যে রামদা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে শাহ নেয়াজ রিফাত শরীফকে (২৫)। তার স্ত্রী আয়েশা আক্তার মিন্নি হামলাকারীদের সঙ্গে লড়াই করেও তাদের দমাতে পারেননি। একাধারে রিফাতকে কুপিয়ে অস্ত্র উঁচিয়ে এলাকা ত্যাগ করে হামলাকারীরা।

গুরুতর আহত রিফাতকে এদিন বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হলে বিকালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান। এই ঘটনার ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হলে এনিয়ে দেশজুড়ে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়

এমবি