সরকারের তেলে মাথায় তেল দেয়ার বদ অভ্যাস হয়েছে, তা বন্ধ করতে আগামীকাল হবিগঞ্জ যাচ্ছি। পুঁজি বা ক্যাপিটালের পুঁজা নয়, জনগণের পুঁজা করতে হব।

তাদের অধিকারের ব্যাপারে সচেষ্ট থাকতে হবে বলে মন্তব্য করেন জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মিজানুর রহমান।

রোববার জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে ইন্ডিজোস সোশাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন এবং চা-শ্রমিকবৃন্দ আয়োজিত চা-জনগোষ্ঠীর মানবাধিকার ও আর্থ-সামাজিক উন্নয়ন বিষয়ক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

মিযানুর রহমান বলেন, ১৯০৫ সালের ভূমি আইন অনুযায়ি চা-বাগানের মালিক শ্রমিকরা অন্য কেউ নয়।

২০০ থেকে ২৫০ বছরের ভূমি ব্যবহার, ভোগ দখলের কারণে চা বাগানের ভূমি তাদের অর্জিত অধিকারে পরিণত হয়েছে।

তিনি বলেন, ১৯৬২ সালের আন্তর্জাতিক সালিশ আদালত ভারতের ৩২০ বর্গ কিলোমিটার জমি, যা পাকিস্তান গো-চারণ ভূমি হিসেবে ব্যবহার করে আসছিল,তা পাকিস্তানের ভোগ দখলের কারণে সে ভূমির মালিক পাকিস্তানই অর্জন করে।

চাঁন্দপুর চা-বাগানের ৫১১ একর ধানি জমিতে সরকার কর্তৃক স্পেশাল ইকনোমিক জোন করার সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি বলেন, এদের কাছ থেকে ভূমি হরণ করায় কোন বাগাদুরি নাই । যদি পারেন, তাহলে ভূমি দস্যুদের কাছ থেকে ভূমি উদ্ধার করুন, তাহলেই প্রকাশ পাবে রাষ্ট্রের বাহাদুরি।

চা-শ্রমিকদের ছুটির দিন মজুরি না দেওয়া প্রসঙ্গে মানবাধিকার চেয়ারম্যান বলেন, এটা প্রচলিত শ্রম আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এর জন্য সরকারকে আইনের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে।

অভিযোগ করে তিনি আরও বলেন, চা শ্রমিকদেরকে ঘুম পাড়িয়ে রাখার জন্য নাম মাত্র মূল্যে মদ সরবরাহ করা হচ্ছে। যাতে তারা ঘোরের মধ্যে থাকে এবং অধিকার সম্পর্কে সচেতন না হয় বা তাদের অধিকার আদায়ে বিস্ফোরণ ঘটাতে না পারে।

এ সময় তিনি বলেন, এই মাস শোকের মাস। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন ছিল সুখি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার। কিন্তু চা-শ্রমিকদের জীবন-যাত্রা হচ্ছে এর বিপরীত মুখী । এটা বন্ধ করতে হবে।

তিনি বলেন, এই স্পেশাল ইকনোমিক জোন বন্ধ করার দাবি জানিয়ে শ্রমিক নেতারা বলেন, চা বাগানের মাটি আমাদের মা, এই ভূমি নিতে হলে আমাদের মেরে এর ভিতরে ডুকিয়ে দিন। তাহলে আর ভূমির দরকার হবে না।

চা-শ্রমিকদের দুঃখ কষ্ট তুলে ধরে অর্থমন্ত্রীকে ইঙ্গিত করে বাংলাদেশ কমিউনিষ্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, ৪০ বছর ধরে সিলেটের অর্থমন্ত্রী দিয়ে দেশ চলছে।

দৈনিক ৬৯ টাকা মজুরি দিয়ে ১ মাসের জন্য যদি অর্থমন্ত্রীকে সেখানে পাঠানো যেত তাহলেই তিনি শ্রমিকদের জ্বালা বুঝতেন।

সৈয়দ আবুল মকসুদ বলেন, আগে আমার ছেলে, মাটিও মানুষের পেটে ভাত, তার পরেই মধ্যম আয়ের দেশ নিয়ে চিন্তা করতে হবে।

কৃষকের ফসলি জমি কেড়ে নিয়ে, তাদের বাস-ভূমি থেকে বিতাড়িত করে ইকোনোমিক জোনের কোন প্রয়োজন নেই।

দূর্বল লোকের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা, তাদের বিতাড়িত করে সমাজের উচুঁ শ্রেণীর জন্য উচ্চ বিলাসি পরিকল্পনা এসব পরিহার করতে হবে। এদের প্রতি রাষ্ট্রের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন করতে হবে।

তিনি বলেন, চা- শ্রমিকদের নূনতম মজুরি নির্ধারণ করতে, সামাজিকও সাংস্কৃতিক চর্চায় যাতে কোন ব্যঘাত না ঘটে তার জন্য সরকারের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

আলোচনা সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন, আদিবাসী বিষয়ক জাতীয় কোয়ালিশনের মহাসচিব প্রফেসর মেজবা কামাল, সংগঠনের সভাপতি স্বপন সাঁওতাল প্রমুখ।

এমএ/এমএইচ