নোয়াখালী সদর উপজেলার ১ নং চরমটুয়া ইউনিয়নের আওয়ামীলিগের সহ-সভাপতি ও বাবুল মেম্বার (৫৫) কে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও জবাই করে হত্যা করা হয়েছে।

ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামীলিগের সাধারন সম্পাদক বাবলু’র সাথে আধিপত্য বিস্তার ও পুর্ব শত্রুতার জের ধরে তার ক্যাডার বাহিনীরা গত রোববার রাত ১১ টায় আওয়ামীলিগ নেতা বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে কিছুদুর গেলে লেদু মিয়া সওদাগরের রাস্তার মাথায় এলোপাতাড়ি কুপিয়ে ও গলা জবাই হত্যা করে রেখে পালিয়ে যায়।

সকালে পথচারীরা নিহত আওয়ামীলিগের নেতার লাশ রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখে থানায় সংবাদ দিলে ওসি সহ অপর পুলিশেরা ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

থানা থেকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ছুরতহাল করে নিহত মেম্বারের লাশ তার বাড়িতে নিয়ে গেলে শত শত আওয়ামীলিগ যুবলীগ ও তার ভক্তরা জানাযায় অংশ গ্রহন করে। জানাযা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে নিহত মেম্বারের লাশ দাফন করা হয়। নিহত বাবুল মেম্বার খলিশাটোলা গ্রামের হাবিব উল্লাহ’র ছেলে।

এলাকাবাসী জানান, গত ইউনিয়ন নির্বাচনে ইউনিয়ন আওয়ামীলিগের সহ-সভাপতি জনপ্রিয় নিহত বাবুল ইউনিয়ন চেয়াম্যান নির্বাচন করতে প্রস্তুতি নেয়। এ সংবাদ ইউনিয়ন আওয়ামীলিগের সাধারন সম্পাদক ও চেয়ারম্যান বাবলু, বাবুল মেম্বারকে চেয়ারম্যান নির্বাচন করতে বাধা দেয়।

বাবলু অবস্থা বেগতিক দেখে তার দলীয় নেতাকর্মীদের সমর্থন নিয়ে মেম্বার নির্বাচন করে বিপুল ভোটে নির্বাচিত হয়েছে। নির্বাচনের পর থেকে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলিগের সাধারন সম্পাদক বাবলুর সাথে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে নিহত বাবুল মেম্বারের সাথে।

নাম প্রকাশ অনিচ্ছুক ইউনিয়ন আওয়ামীলিগের কর্মীরা জানান, গত ইউনিয়ন নির্বাচনের পর থেকে ইউনিয়নে উপজেলা পরিষদ থেকে হতদরিদ্র্রদের কাজের বিনিময়ে টাকা ও কাবিখা  বর্তমান চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামীলিগের সাধারন সম্পাদক বাবুল ইউনিয়নের অধিকাংশ কাজ না করে তার সমর্থকদের নিয়ে কোটি টাকা লুট পাট করছে। কাজ না করে লুটপাট করায় ইউনিয়ন আওয়ামীলিগের সহ-সভাপতি নিহত বাবুল মেম্বার সহ তার সমর্থকরা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করে।

আগামীতে ইউনিয়ন নির্বাচনে নিহত বাবুল মেম্বার চেয়ারম্যান প্রার্থী হয়ে বিজয়ী হলে বর্তমান চেয়ারম্যান বিপুল ভোটে হেরে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যাতে আগামী ইউনিয়ন নির্বাচন বাবুল মেম্বার বর্তমান চেয়ারম্যানের প্রতিপক্ষ চেয়ারম্যান প্রার্থী হতে না পারে এ প্রতিহিংসার জের ধরে বাবলু চেয়ারম্যান তার ক্যাডারদের দিয়ে এ নৃশংস হত্যাকান্ড ঘটিয়ে এলাকাতে তীব্র সমালোচনার রোষানলে পড়ে যায়।

বর্তমান চেয়ারম্যান ও ইউনয়ন আওয়ামীলিগের সাধারন সম্পাদক বাবলু  তার বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, রাজনৈতিক কারণে কোন্দল থাকতেই পারে। তবে, বাবুল মেম্বারকে পাশের ইউনিয়নের বিএনপির সোলেমান ক্যাডার ও তার সমর্থকরা এ হত্যাকান্ড ঘটাতে পারে।

এদিকে সুধারাম মডেল থানার ওসি আনোয়ার হোসেন ঘটনা নিশ্চিত যুগান্তরকে করে জানান, এলাকায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে আওয়ামীলিগ নেতাকে নৃশংস ভাবে খুন করা হয়েছে। এ ব্যাপারে ক্লু উদঘাটন করতে তদন্ত চলছে।

এসএইচ