চট্টগ্রামে 'বন্দিদশা' থেকে ফিলিপাইনের দুই নারীকে তিনসন্তানসহ উদ্ধারের পর আদালত তাদের নিজ জিম্মায় মুক্তি দিয়েছেন।

তারা যদি নিজ দেশ ফিলিপাইনে চলে যেতে চান তাহলে নিরাপত্তা দিয়ে বিমানবন্দরে পৌছে দিতে নগরীর পাঁচলাইশ থানার ওসিকেও নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম মহানগর হাকিম এসএম মাসুদ পারভেজ এর আদালত এসব আদেশ দেন। এ সময় শিশু সন্তানদের বাবা জিম্মা চাইলে তা নামঞ্জুর করেন আদালত।

এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে চট্টগ্রাম নগরের পাঁচলাইশ থানার নাসিরাবাদ আবাসিক এলাকার ৬ নম্বর সড়কের ২০ নম্বর বাড়ির প্রবাসী তফাজ্জল করিমের বাসা থেকে ফিলিপাইনের দুই নারী ও তাদের সন্তানদের উদ্ধার করে জিডিমুলে আদালতে হাজির করে পুলিশ।

জানা গেছে, এক ফিলিপাইন নারীকে বিয়ে করে বাংলাদেশে নিয়ে আসে রাউজানের দুবাই প্রবাসী তফাজ্জল করিম। এ তথ্য গোপন করে পরে আরেক ফিলিপাইন নারীকে বিয়ে করে তফাজ্জল। তাকেও বাংলাদেশে নিয়ে আসে। বিষয়টি জানার পর দুই নারীই তফাজ্জলের ওপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে। তারা দু’জনই নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু তফাজ্জল স্বজনদের হেফাজতে তাদের আটকে রেখে ফের দুবাই ফিরে যান। বৃহস্পতিবার ফিলিপাইন দূতাবাসের অনুরোধে তাদের উদ্ধার করে পুলিশ।

উদ্ধার হওয়াদের মধ্যে আছেন- প্রথম স্ত্রী এমিলি সি গ্রুস (৪০) ও তার সন্তান আশরাফ করিম (৮) ও ইয়াকুব করিম (২১ মাস)। দ্বিতীয় স্ত্রী ম্যারি ডি লিয়ন (২৭) ও তার সন্তান জায়াফ করিম (দু’মাস)। এদের মধ্যে আশরাফ ও ইয়াকুব বাংলাদেশি পাসপোর্টধারী। জায়াফের জন্মও বাংলাদেশে। বৃহস্পতিবার ফিলিপাইন দুতাবাসের অনুরোধে তাদের উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, এগার বছর আগে দুবাইয়ে এমিলিকে বিয়ে করেন তফাজ্জল। এরপর তাকে বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। তাকে দেশে রেখে দুবাই ফিরে যান তফাজ্জল। তিন বছর আগে প্রথম স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদ হয়ে গেছে- এমন মিথ্যা তথ্য দিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করেন ম্যারিকে। তাকেও বাংলাদেশে নিয়ে আসেন। দেশে এসে দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি জানার পর দুই স্ত্রীই তার ওপর ক্ষুব্দ হন। তারা নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করেন। তফাজ্জল দুই স্ত্রীকে যেতে না দিয়ে স্বজনদের হেফাজতে রেখে দুবাই চলে যান। এরপর থেকে মূলত তারা বন্দি অবস্থায় ছিলেন।

এ প্রসঙ্গে পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মহিউদ্দিন মাহমুদ বলেন, ‘ফিলিপাইনের দুই নারীকে রেখে কৌশলে দুবাই চলে যান তফাজ্জল। এরপর তার বাসায় বন্দি ছিল। তাদের বাসা থেকে বের হতে দেওয়া হতো না। বিষয়টি ফিলিপাইনের দূতাবাস জানার পর তাদের উদ্ধার করতে সিএমপি কমিশনারকে চিঠি দিয়ে অনুরোধ জানান।

বৃহস্পতিবার তাদের উদ্ধার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালতে নির্দেশনা অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এমই