৭১’এর মহান স্বাধীনতাযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী মুক্তিযোদ্ধাদের মাসিক ভাতা ১০ হাজার টাকা করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

শনিবার সকালে সশস্ত্রবাহিনী দিবস উপলক্ষে ঢাকা সেনানিবাসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি ঘোষণা দেন। এসয় প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনী বিভাগে বীরশ্রেষ্ঠদের উত্তরাধিকারী এবং নির্বাচিত সংখ্যক খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের উত্তরাধিকারীদের সংবর্ধনা জানান।

তিনি বলেন, স্বাধীনতাবিরোধীদের চক্রান্ত রুখে দিতে এজন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।

এর আগে শিখা অনির্বাণে ফুল দিয়ে মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জাতির পিতার আদর্শ অনুসরণ করে বর্তমান সরকার সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নে সর্বাত্মকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি সশস্ত্র বাহিনী দুর্যোগ মোকাবিলা, অবকাঠামো নির্মাণ, আর্তমানবতার সেবা, বেসামরিক প্রশাসনকে সহায়তা এবং বিভিন্ন জাতিগঠনমূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করছে। জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যগণ আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করছেন।

প্রধানমন্ত্রী ‘সশস্ত্র বাহিনী দিবস ২০১৫ উপলক্ষে দেয়া এক বাণীতে গতকাল একথা বলেন। আগামীকাল ‘সশস্ত্র বাহিনী দিবস। এ উপলক্ষে তিনি সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর সকল সদস্যকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিটি সদস্য দেশপ্রেম, পেশাদারিত্ব এবং উন্নত নৈতিকতার আদর্শে স্ব স্ব দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করে যাবেন প্রত্যাশা করে প্রধানমন্ত্রী বাণীতে বলেন, আমাদের মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাসে ২১ নভেম্বর বিশেষ গৌরবময় স্থান দখল করে আছে। আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে পরিচালিত মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন ১৯৭১ সালের এই দিনে সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর অকুতোভয় সদস্যরা সম্মিলিতভাবে দখলদার বাহিনীর বিরুদ্ধে সমন্বিত আক্রমণের সূচনা করেন। মুক্তিবাহিনী, বিভিন্ন আধাসামরিক বাহিনীর সদস্যগণ ও দেশপ্রেমিক জনতা এই সমন্বিত আক্রমণে একতাবদ্ধ হন।

তিনি বলেন, ‘ঐক্যবদ্ধ এই আক্রমণের মুখে দখলদার বাহিনী আত্মসমর্পণে বাধ্য হয়। ১৬ ডিসেম্বর হানাদার পাকিস্তানী বাহিনীকে পরাজিত করে আমরা চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করি। আমরা পাই স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশ; নিজস্ব পতাকা এবং জাতীয় সঙ্গীত। মহান মুক্তিযুদ্ধে বাঙালি জাতির অগ্রযাত্রা ও বিজয়ের স্মারক হিসেবে প্রতি বছর ২১ নভেম্বর ‘সশস্ত্র বাহিনী দিবস’ পালন করা হয়। ’

এর আগে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে সমগ্র বাঙালি জাতি ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর যুদ্ধ-বিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনের পাশাপাশি জাতির পিতা একটি আধুনিক ও চৌকস সশস্ত্র বাহিনী গড়ে তোলার কাজ শুরু করেন। সেনাবাহিনীর জন্য তিনি মিলিটারি একাডেমি, কম্বাইন্ড আমর্ড স্কুল ও প্রতিটি কোরের জন্য ট্রেনিং স্কুলসহ আরও অনেক সামরিক প্রতিষ্ঠান এবং ইউনিট গঠন করেন। তিনি চট্টগ্রামে বাংলাদেশ নৌবাহিনী ঘাঁটি ঈসা খাঁ উদ্বোধন করেন।

বঙ্গবন্ধুর ব্যক্তিগত উদ্যোগে তৎকালীন যুগোশ্লাভিয়া থেকে নৌবাহিনীর জন্য দু’টি জাহাজ সংগ্রহ করা হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, যেগুলো প্রায় ৪০ বছর পর আজও চালু আছে। একইভাবে বিমান বাহিনীর জন্য বঙ্গবন্ধু তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন থেকে সুপারসনিক মিগ-২১ জঙ্গিবিমানসহ হেলিকপ্টার, পরিবহণ বিমান ও র‌্যাডার সংগ্রহ করেন। তাঁর হাতে গড়া সশস্ত্র বাহিনী আজ পেশাদারিত্ব ও দক্ষতার স্বাক্ষর রাখছে দেশ ও বিদেশের সকল কর্মকাণ্ডে।

প্রধানমন্ত্রী সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে গৃহীত সকল কর্মসূচির সর্বাঙ্গীণ সাফল্য কামনা করেন।

এআই