পার্বত্য খাগড়াছড়ির জনবহুল মাটিরাঙ্গার লক্ষাধিক মানুষ চিকিৎসা বঞ্চিত। দিনের পর দিন হাসপাতালে অনুপুস্থিত থাকেন মাটিরাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো: খায়রুল আলম। তিনি প্রতিদিনই সাড়ে ১১টা থেকে সড়ে ১২টার পরে হাসপাতালে আসেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগীদের। হাসপাতালের একমাত্র চিকিৎসক ডা: উম্মে সালমা পান্না এখনকার চিকিৎসা প্রার্থীদের একমাত্র ভরসা।
এ হাসপাতালে একদিকে চিকিৎসক স্বল্পতা আর অন্যদিকে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার দায়িত্ব পালনে গাফেলতি নানা সঙ্কট তৈরী করেছে। নানা সঙ্কট আর ইউএইচএফপিও‘র অনিয়মের কারণে হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তার অব্যাহত অনুপুস্থিতি নিয়ে এলাকার চিকিৎসা সেবা প্রার্থী থেকে শুরু করে খোদ জনপ্রতিনিধিরাও বিভিন্ন সময় ক্ষোভ প্রকাশ করে বিভিন্ন ফোরামে বক্তব্য দিয়েছেন।
উপজেলা পরিষদের আইন-শৃঙ্খলা সভায় এনিয়ে খোদ মাটিরাঙ্গা উপজেলা চেয়ারম্যান মো: তাজুল ইসলাম তাজু নিজেও ক্ষোভ প্রকাশ করে তাকে সংশোধনের পরামর্শ দিলেও তিনি নিজেকে সংশোধন করতে পারেননি।
এদিকে খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মো: খায়রুল আলম ভারপ্রাপ্ত স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও তিনি কোথাও ‘ভারপ্রাপ্ত’শব্দটি ব্যবহার করেননা। তিনি নিজেকে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন।
হাসপাতালের গাইনী বিশেষজ্ঞ ডা: কামরুন নাহার দীর্ঘদিন ধরে কর্মস্থলে অনুপুস্থিত থাকলেও তিনি তার বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি বলেও অভিযোগ উঠেছে উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন সভায়।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ডা: কামরুন নাহার মাঝে মাঝে এসে হাজিরা দিয়ে আবারও চলে যান। তিনি চট্টগ্রামে নিয়মিত চেম্বার করে থাকেন বলে জানা গেছে। একজন ডাক্তার উচ্চতর প্রশিক্ষনে থাকায় ডা: উম্মে সালমা পান্না‘কে রোগী দেখা নিয়ে বেশ হিমশিম খেতে হচ্ছে।
মাটিরাঙ্গা পৌরসভার কাউন্সিলর মো: আলাউদ্দিন লিটন অভিযোগ করে বলেন ইতিপূর্বে থাকা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তাগণ এখানে নিয়মিত রোগী দেখলেও তিনি কখনো কোন রোগী দেখেন না। তিনি অনিয়মের কথা উল্লেখ করে তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, “তার খুঁটির জোর কোথায়”।
মাটিরাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রয়োজনীয় ডাক্তার না থাকায় ম্যালেরিয়া, জন্ডিস ও ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন রোগের চিকিৎসার জন্য চিকিৎসা প্রার্থীদের এলাকার হাতুড়ে ডাক্তার, বৈদ্য ও কবিরাজের শরণাপন্ন হতে হয়। হাসপাতালে একমাত্র এক্স-রে মেশিন সরবরাহ করা হলেও বছরের পর বছর তা অলস পড়ে আছে। ফলে রোগীরা এক্সরে সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
এদিকে আজ বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এ প্রতিনিধি হাসপাতালে গেলেও দেখা মিলেনি মাটিরাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো: খায়রুল আলম এর। জানা গেছে তিনি তখনও হাসপাতালে আসেনি। হাসপাতালে কর্মরত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি ক্ষোভের সাথেই বলেন, তার বিলম্বে আসাটা যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। তার অনুপুস্থিতির কারণে প্রশাসনিক কাজে জটিলতার সৃষ্টি হয় বলেও জানান তারা।
হাসপাতালে গিয়ে মাটিরাঙ্গা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো: খায়রুল আলমকে না পাওয়ায় তার কোনো বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি। অন্যদিকে তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্ঠা করা হলেও তার ফোনে সংযোগ পাওয়া যায়নি।
ঢাকা, ২৭ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, কেএইচ





