সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান কোটা সংস্কারের দাবিতে ও বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনকারীদের ওপর পুলিশি হামলার প্রতিবাদে ফুঁসে উঠেছে কুমিল্লার  শিক্ষার্থীরা।

সোমবার কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে নগরীর পূবালী চত্বরে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেছেন।

শিক্ষার্থীরা জানান, সরকারি চাকরিতে কোটা সংস্কার করে ১০ ভাগে নিয়ে আসা, নির্ধারিত কোটায় যোগ্য প্রার্থী না পাওয়া গেলে শুন্য থাকার পদসমূহে মেধার ভিত্তিতে নিয়োগসহ পাঁচ দফা দাবিতে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ কুমিল্লা জেলা শাখার সদস্যরা কুমিল্লা জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে স্মারক লিপি প্রদান করেন। পরে দুপুর ১২টা থেকে শিক্ষার্থীরা কুমিল্লা নগরীর পূবালী চত্বরে অবস্থান নিয়ে দাবি আদায়ে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। এ সময় আন্দোলনকারীরা ঢাকায় শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশি হামলার বিচার দাবি করেন।

এ সময় তাদের সাথে আন্দোলনে যুক্ত হয়েছে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ,কুমিল্লা সরকারি কলেজ, কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজসহ নগরীর বিভিন্ন কলেজের শিক্ষার্থীরা।

এদিকে, কোটা সংস্কার আন্দোলনে একাত্মতা পোষণ করে কেন্দ্রীয় কমিটির নির্দেশনা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা প্রায় সবকটি বিভাগে তাদের ক্লাস বর্জন করে। কোটা সংস্কার আন্দোলন কুমিল্লা অঞ্চলের আহ্বায়ক ও কুবির ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী মাজহারুল ইসলাম হানিফ তাদের কর্মসূচি প্রসঙ্গে বলেন, ‘দেশব্যাপী চলমান আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় আজও কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। আমাদের অংশ নিয়েছে কুমিল্লার বেশ কয়েকটি কলেজের শিক্ষাথীরা। শাহবাগে গতকালের হামলার ঘটনার পর গৃহীত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী যথারীতি ক্লাস বর্জন কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।

আন্দোলনে একাত্মতা প্রকাশ কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ৮ম ব্যাচের জাহিদ জানান, ‘কোটা নামক একটা অনিয়ম ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান। দাবী আদায় না হওয়া পর্যন্ত আমরা ক্লাসে ফিরবনা’।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আবু হানিফ, ফয়সাল, তানজিনা ও রনি জানান, দেশের সকল বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে একাত্বতা পোষণ করে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সকল বিভাগের ক্লাস বর্জন করেছে। তাদের দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত তারা অহিংস আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর ড. কাজী মোহাম্মদ কামাল উদ্দিনকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন, ‘শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জনের বিষয়ে আমরা জানিনা। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা যথা সময়েই এসেছে এবং শিক্ষার্থীরা ক্লাসে থাকলে আমরা অবশ্যই ক্লাশ নিব’।

এদিকে দুপুর আড়াইটার দিকে কড়া পুলিশ    প্রহারায়  আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল করে পুনরায় পূবালী চত্বরে এসে বিক্ষোভ  মিছিল করে।

উল্লেখ্য, কোটা সংস্কারের দাবিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর গত ৮ এপ্রিল হামলা চালায় পুলিশ। শাহবাগে পুলিশের হামলায় গুরুতর আহত হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থী। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক অবরোধ করলে তাদের উপরও চড়াও হন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে পুলিশি হামলার বিচার দাবি করেন শিক্ষার্থীরা।

রেজাউল করিম রাসেল/এএস