যশোরের বেনাপোল ও শার্শার সীমান্ত দিয়ে জোর বেগে ভারতীয় পানি প্রবেশ করছে। ভারতীয় পানির চাপে শার্শা বেনাপোলের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হতে শুরু করেছে।
এরই মধ্যে কয়েকশ হেক্টর জমির আমন ধান তলিয়ে গেছে পানির নিচে। পানি নিষ্কাশণের শাখা খাল বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এবং কুদলা ও বেতনা নদীতে একাধিক বাঁধ দেওয়ায় বন্যায় রূপ নিচ্ছে পুরো এলাকা। এতে আতঙ্কিত হয়ে পড়েছেন এলাকাবাসী। ২০০০ সালের বয়াবহ বন্যার স্মৃতি তাড়িয়ে বেড়াচ্ছে তাদের।
বেনাপোল-ঘিবা সীমান্তে কুদলা নদী দিয়ে ভারতীয় পানি আসছে। এ এলাকার অধিকাংশ নদীর ব্রিজের মুখে কচুরী পানা জমে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। বেনাপোলের ধান্যখোলার সীমান্তবর্তী কোদলা, শার্শা উপজেলার বেতনা ও ভারতের ইছামতি নদীর সংযোগ খালগুলোতে বাঁধের কারণে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
শার্শার বাহাদুরপুর ইউপি চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান বলেন, ‘বাঁধ দিয়ে মাছ চাষের কারণে ভারতীয় পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নেই। এতে করে একটু একটু করে পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে নিম্নাঞ্চল। ১৫ বছর আগে ধান্যখোলা ও ঘিবার মধ্যবর্তী স্থানে নির্মিত গির্জাতলা ব্রিজটিও কোনো উপকারে আসছে না।’
‘কোদলা নদীর উপরের ব্রিজটি সড়ক উচ্চতার চাইতে নিচু হওয়ায় ভারতের সুটিয়া স্লুইজ গেট দিয়ে পানি বাংলাদেশে প্রবেশ করার পর ময়লা আবর্জনার কারণে বাধাগ্রস্ত হয়। পানি ধান্যখোলার ধর্মদাহ খাল দিয়ে বাহাদুরপুর বাওড় হয়ে সোনামুখীর বিলে পড়ছে। তবে বিলের সরকারি জমি জবরদখল করে নির্মিত বেড়ীবাঁধ পানিপ্রবাহ বন্ধ করে দিয়েছে। এতে জলাবদ্ধতা দেখা দিচ্ছে।’
‘এছাড়া পশ্চিমবঙ্গের মেহেরানী সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশের শৈলগাড়ী ও দুবলার বিল হয়ে পাকশি ব্রিজের মাধ্যমে বনমান্দার বিলে পানি প্রবেশের কথা। কিন্তু ব্রিজের পশ্চিমপাশে একাধিক বাঁধ দেওয়ায় পানির স্বাভাবিক প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে।’
শার্শার গোগা ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুর রশিদ বলেন, ‘ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত সংলগ্ন ইছামতি নদীর সংযোগ খালগুলোতে পাটা দিয়ে বাঁধ দেয়ায় মাখলার বিল, হেলনার বিল, বল্লির বিল উপচে পড়েছে। যে কোনো সময়ে তলিয়ে যেতে পারে শত শত হেক্টর আমন ধানের খেত।’
এদিকে আমন চাষিরা আশঙ্কা করছেন, এভাবে পানি বাড়তে থাকলে ২০০০ সালের পুনরাবৃত্তি ঘটতে পারে। শার্শা উপজেলার বেনাপোল, বাহাদুরপুর, পুটখালী, ডিহি, লক্ষণপুর, নিজামপুর, গোগা, কায়বা ইউনিয়নের আমন ধানও তলিয়ে যেতে পারে বলে ধারণা করছেন তারা।
এ ব্যাপারে ঘিবার কিরামত আলী ও রঘুনাথপুরের সহিদুল এবং ধান্যখোলার হযরত আলী একই সুরে কথা বললেন। তাদের ভাষ্যমতে- বেতনা, কোদলা ও ইছামতি নদীর প্রত্যেকটি সংযোগ খালে অবৈধ বাঁধ দিয়ে মাছ চাষ করার কারণে পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না। এছাড়া সোনামুখী, বনমান্দা ও মাখলার বিলসহ প্রত্যেকটি স্থানে অপরিকল্পিতভাবে মাছের ঘের নির্মাণ করায় পানি নিষ্কাশনের প্রত্যেকটি প্রবাহ পথ বন্ধ হয়ে নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হচ্ছে। জরুরি ভিত্তিতে অবৈধ বাঁধ অপসারণ না হলে আমন ধান তলিয়ে যাবে।
উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের কর্মকর্তা হিরক কুমার সরকার জানান, এবার শার্শায় ১৮ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে আমন চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। তবে চাষ হয়েছে ১৯ হাজার ২৬০ হেক্টর। গত বছর লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৮ হাজার ৫০০ হেক্টর, অর্জিত হয় ১৮ হাজার ৮৫০ হেক্টর। ভারতীয় পানি বাংলাদেশে প্রবেশ করায় ফসল উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রায় ব্যাপক ক্ষতি হবে।
শার্শা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম শরিফুল ইসলাম জানান, সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্ট দিয়ে ভারতীয় পানি প্রবেশ করছে এটা শুনেছি। তবে আমন ধান জলমগ্নের কোনো খবর পাইনি।
উন্মুক্ত বেতনা নদী, খাল বিল ও কোদলা নদীতে বাঁধ উচ্ছেদের প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘জরুরি ভিত্তিতে বাঁধ অপসারণের বিষয়টি জেলা প্রশাসককে জানানো হয়েছে।’
ঢাকা, ৩০ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, জেআই





