গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের আওয়ামী লীগের এমপি মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন হত্যা মামলায় প্রধান আসামিসহ ৭ জনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
আজ (২৮ নভেম্বর) বৃহস্পতিবার দুপুর পৌনে ১২টার দিকে আলোচিত এই মামলার রায় ঘোষণা করেন গাইবান্ধা জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক দিলীপ কুমার ভৌমিক।
এর আগে' কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ৫ আসামিকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। রায় ঘোষণাকে কেন্দ্র করে জোরদার করা হয় আদালত এলাকার নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
সাজাপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন- সাবেক সংসদ সদস্য (জাপা) (অব.) কর্নেল আব্দুল কাদের খান, তার পিএস শামছুজ্জোহা, গাড়ি চালক হান্নান, ভাতিজা মেহেদি, শাহীন ও রানা। সাজাপ্রাপ্ত অপর আসামি চন্দন কুমার ভারতে পলাতক রয়েছেন। আরেক আসামি কসাই সুবল কারাগারে অসুস্থ অবস্থায় মারা যান।
এছাড়া লিটন হত্যার ঘটনায় অস্ত্র আইন মামলায় গত ১১ এপ্রিল আবদুল কাদের খানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেন আদালত।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন গাইবান্ধা জেলা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম শফিক।
রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করে এমপি লিটনের স্ত্রী খুরশিদ জাহান স্মৃতি দ্রুত রায় কার্যকরের দাবি জানান।
আসামি পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল হামিদ জানান, এই মামলায় কাদের খানকে ফাঁসানো হয়েছে। মামলার রায় সন্তোষজনক না হওয়ায় আমরা উচ্চ আদালতের শরণাপন্ন হবো।
এর আগে, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে এই মামলার সব আসামিকে গাইবান্ধা জেলা কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়।
২০১৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় সুন্দরগঞ্জের বামনডাঙ্গার মাস্টারপাড়ার নিজ বাড়িতে দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হন মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন। এই ঘটনায় অজ্ঞাত ৫-৬ জনকে আসামি করে সুন্দরগঞ্জ থানায় মামলা করে লিটনের বড় বোন ফাহমিদা কাকুলী বুলবুল।
তদন্ত শেষে কাদের খানসহ ৮ জনের বিরুদ্ধে ২০১৭ সালের ৩০ এপ্রিল আদালতে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। ২০১৭ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি বগুড়া বাসা থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ।
২০১৮ সালের ৮ এপ্রিল এমপি লিটন হত্যা মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু হয়ে তা শেষ হয় ৩১ অক্টোবর। এ পর্যন্ত আদালতে মামলার বাদী, নিহতের স্ত্রী ও তদন্ত কর্মকর্তাসহ ৫৯ জন সাক্ষী সাক্ষ্য দিয়েছেন।
এমবি





