একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের উদ্দেশ্য করে নির্বাচন কমিশনার কবিতা খানম বলেছেন, আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন সব সময় আপনাদের পাশে আছে। কিন্তু বৈষম্যমূলক আচরণের ক্ষেত্রে আপনাদের জবাবদিহিতার জায়গা থেকে কখনোই নির্বাচন কমিশন ছাড় দিয়ে কথা বলবে না।
আগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবনে রোববার সকালে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের দ্বিতীয় দিনের ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের উদ্দেশ্য করে কবিতা খানম আরও বলেন, আইনের ব্যবহারটা কিন্তু আপনারাই প্রথম করবেন। আপনারাই ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করবেন। আপনারাই আচরণবিধিমালাকে সঙ্গে নিয়ে কর্মপরিধি রচনা করবেন। তাই আমরা চাই, আইনের প্রয়োগ যেনো প্রশ্নের উর্ধ্বে থাকে। আপনাদের দ্বারা আইন যাতে অসম্মানিত না হয়। প্রতিটা ক্ষেত্রেই আইনের প্রয়োগ পক্ষপাতহীন হতে হবে।
তিনি বলেন, ‘প্রার্থীর পরিচয় মূখ্য আর অন্য সব পরিচয় গৌণ’ যদি এটাই মনে রাখতে পারেন বা এটা বিশ্বাস করেন, আমি বিশ্বাস করি আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে কোনো ধরণের বৈষম্যের কারণ ঘটবে না। সততা, সাহসের সঙ্গে এবং মেধা প্রয়োগ করে আইনের ব্যবহার করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, যেহেতু আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ বাহিনী বিশেষ করে বিজিবি ও সেনা বাহিনী রয়েছে। তারা আপনাদের নির্দেশনার অপেক্ষায় থাকবে। সুতরাং সঠিক সময়ে, সঠিকভাবে, সঠিক নির্দেশনা যাতে আসে। এ ক্ষেত্রে কোনো ধরণের ব্যত্যয় নির্বাচন কমিশন ছোট করে দেখবে না।
কবিতা খানম বলেন, ‘আচরণ বিধিমালাটা আপনারা আত্মস্থ করবেন। আমাদের পক্ষ থেকে আপনাদের প্রতি এটা একটা নির্দেশনা থাকবে। আচরণবিধিটা যদি সঠিকভাবে বুঝতে না পারেন। তাহলে আচরণবিধি প্রয়োগেও আপনারা বিভিন্নভাবে প্রতিকূলতার সম্মুখীন হবেন।’
‘সুতরাং নির্বাচনের সঙ্গে সম্পৃক্ত প্রত্যেকটি আইনই কিন্তু আপনাদেরকে ভালোভাবে জানতে হবে এবং প্রয়োগের ক্ষেত্রে সঠিকভাবে প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। আইনের প্রয়োগ যদি সঠিকভাবে সম্পন্ন করা যায়। আমার মনে হয় না নির্বাচনের মাঠে কোনো ধরণের বিচ্ছৃঙ্খলা হওয়ার সম্ভাবনার অবকাশ থাকবে’ যোগ করেন এ নির্বাচন কমিশনার।
নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের উদ্দেশ্য করে তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচন কমিশন থেকে আপনারা আজকে এই বিশ্বাস নিয়ে যাবেন যে, নির্বাচন কমিশন, আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে আপনাদের পাশে আছে। কিন্তু বৈষম্যমূলক আচরণের ক্ষেত্রে আপনাদের জবাবদিহিতার জায়গা থেকে কখনোই নির্বাচন কমিশন ছাড় দিয়ে কথা বলবে না।’
এই নির্বাচন কমিশনার বলেন, ‘যেহেতু নির্বাচন কমিশনের ভাবমূর্তি, দেশের ভাবমূর্তি, সর্বপরি যেহেতু আপনারা প্রশাসনের একটি অংশ, আমি মনে করি প্রশাসনের ভাবমূর্তিও আপনাদের দ্বারাই খাটো হতে পারে, আপনাদের দ্বারাই উন্নত হতে পারে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা চাই আপনাদের সহযোগিতায় নির্বাচন পরিচালনায় সম্পৃক্ত প্রতিটি কর্মকর্তা-কর্মচারির সহযোগিতায় একটি সুষ্ঠু, গ্রহণযোগ্য এবং প্রশ্নের উর্ধ্বে একটি নির্বাচন সম্পন্ন করতে। এটা এদেশের প্রতিটি জনগণের আকাঙ্খা, আমাদের আকাঙ্খা, প্রতিটি ভোটারের আকাঙ্খা। এটা পূরণ করার সামর্থ আপনাদের আছে এটা আমরা বিশ্বাস করি’ উল্লেখ করেন কবিতা খানম।
এসএম





