নোয়াখালীর সূবর্ণচর উপজেলার চরজব্বর থানার সদ্য ক্লোজ্ড ওসি এ.কে.এম এনামুল কবিরের বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেফাতার বানিজ্য, মাদক ব্যবসায়ীদের অর্থের বিনিময়ে পৃষ্টপোষকতায়, যাত্রী পরিবহন ভাড়া মোটর সাইকেল চালকের কাছে মাসোয়ারা সহ বিভিন্ন অপরাধ মূলক কর্মকান্ডে জড়িয়ে প্রতি মাসে প্রায় ২০ লাখ টাকা সহ কোটি টাকা হাতি নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। ওসির দাপোটে এই উপজেলার ৯ ইউনিয়নের বিরোধী দলের নেতা কর্মীরা, বাজারে ব্যবসায়ী, প্রবাসিরা অতিষ্ট হয়েছে ।
গত ২ বছরে বিরোধী দল নেতা কর্মী, ইউনিয়নের মেম্বার ব্যবসায়ী ও প্রবাসিদের বাড়ীতে রাতে ওসি ঢুকে এজাহারে নাম না থাকলেও পাঁচ শতাধিক নেতা কর্মী, ব্যবসায়ী, প্রবাসিকে আটক করে মামলায় জড়িয়ে হুমকি দিয়ে হাত পা বেধে নির্যাতন করে।
সূত্রে জানায় সর্বশেষ ২৫শে মে ২নং চরবাটা ইউনিয় উপনির্বাচনে শূন্য পদে আওয়ামীলীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী আমিরুল ইসলাম রাজিবরে সমর্থনে প্রতিপক্ষ চেয়ারম্যানদের এজেন্ট বের করে ওসি কেন্দ্রে জাল ভোট দেয়।
এ সংবাদ প্রতিপক্ষ চেয়ারম্যানেরা জেনে কেন্দ্রে এসে ওসি কে বাধা দেয়। ওসি ক্ষিপ্ত হয়ে জাপার সমর্থক চেয়ারম্যান প্রার্থী সহ ৫০ জন কে পিটিয়ে আহত করেছে।
আইজির নির্দেশে নোয়াখালী পুলিশ সুপার ২৯মে চরজব্বর থানার ওসি প্রত্যাহার করে জেলা সদর পুলিশ লাইনে ক্লোস্ড করেছে।
ভূক্তভোগীরা জানান ১/১১/২০১৩ সালে ওসি এ.কে.এম এনামুল কবির চরজব্বর থানায় যোগ দান করেন। যোগদানের পর থেকেই তিনি এই উপজেলার ক্ষমতাশীন দলের একাধিক প্রভাব শালী নেতার সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তোলন।
এ সুবাদে শুরু থেকেই ওসি ওই নেতাদের নির্দেশে গত ২বছর বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের বিরোদ্ধে গাড়ি ভাংচুর, পুলিশকে বাধা, ও রাষ্টদ্রোহী শতাধিক মামলায় ২শতাধিক আসামি এজহারে অজ্ঞাত ১৫ হাজার নেতা কর্মীকে আসামী করে মামলা করেছে।
গত ২বছর ধরে প্রায় ৫শতাধিক বিরোধী দলের নেতা কর্মীর এজাহারে নাম না থাকলেও ওসি রাতে বাড়িতে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করে থানায় নিয়ে নির্যাতন করেছে। নির্যাতিত অধিকাংশই জন প্রতি ৫০ হাজার থেকে ২ লাখ টাকা মাসায়ারা দিলে তাদেরকে কোটে প্রেরণ না করে রাতেই থানা থেকে ছেড়ে দেয়।
এদিকে চরজব্বর থানা- চেয়ারম্যান ঘাট সহ বিভিন্ন সড়কে ২শতাধিক যাত্রী পরিবহন ভাড়া মোটর সাইকেল চালকের কাছ থেকে জন প্রতি মাসে ২হাজার টাকা মাসোয়ারা আদায় করে ওসি। অপর দিকে চরাঞ্চলে দীর্ঘ দিন ধরে মদ, গাজা, ইয়াবা ও ফেন্সিডিলের সিন্ডিকেট রয়েছে।
ওসি মদ প্রচার কারী ও সিন্ডিকেট দের সাথে সখ্যতা গড়ে তোলে প্রতি মাসেই তাদের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা মাসোয়ারা নিয়ে পৃষ্ঠপোষকতা করায় প্রকাশ্যে বেচাকিনা করছে সিন্ডিকেটেরা।
সরজমিনে গেলে স্থানীয়রা জানান গত এপ্রিল ও মে ২মাসে পশ্চিম চরবাটা ইউনিয়ানের চরবাটা গ্রামের ইতালি প্রাবাসি শেক মুজিবকে রাতে বাড়ী থেকে ওসি থানায় নিয়ে মামলায় জড়ানোর হুমকি দেয়। মামলা থেকে রেহাই পেতে প্রবাসি ৫ লাখ ওসি কে দিলে রাতেই থানা থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
চরক্লার্ক ইউনিয়ানের আলী আহমেদ সওদাগরকে রাতে বাড়ী থেকে ওসি আট করে থানায় নিয়ে ১লাখ টাকা মাসোয়ারা না দিলে মালায় জড়িয়ে জেলা কারাগারে প্রেরণের হুমকি দেয়। আলী আহমেদ সওদাগর রাতেই ৫০ হাজার টাকা ওসিকে মাসোয়ারা দিলে রাতেই থানা থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
চরজব্বর ইউনিয়ে কাঞ্চনবাজার মানিক সওদাগরকে রাতে ওসি বাড়ী থেকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। ওসি কে ১লাখ টাকা মাসোয়ারা না দিলে মিথ্যা মামালায় জড়িয়ে জেলা কারাগারে প্ররেণের হুমকি দেয়।
মানিক সওদাগর ৬০ হাজার টাকা মাসোয়ারা দিলে ওসি রাতেই থানা থেকে ছেড়ে দেয়। থানা হাটের ছাদিয়া ট্রেডার্স ব্যবসায়ী বেলাল হোসেন সুমন কে রাতে ওসি দোকান থেকে আটক করে থানায় নিয়ে ২লাখ টাকা মাসোয়ারা না দিলে তাকে মামলায় জড়িয়ে জেলা কারাগারে প্রেরণের হুমকি দেয়। রাতেই ব্যবসায়ী বেলাল হোসেন সুমন ১লাখ টাকা মাসোয়ারা দিলে থানা থেকে ছেড়ে দেয় ওসি।
এদিকে নোয়াখালী জেলা বার সমিতির সভাপতি ও সূবর্ণচর উপজেলা বি.এন.পির সভাপতি এডভোকেট এ.বি.এম জাকারিয়া জানান ওসি এ.কে.এম এনামুল কবির এই থানায় যোগদানের পর থেকে বি.এন.পি সহ বিরোধী দলের নেতা কর্মীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা বানোয়াট শতাধিক মামলায় এজাহারে ২শতাধিক আসামীর নাম সহ অজ্ঞাত ১৫ হাজার লোককে আসামী করেছে। মামলা ও গ্রেফতার নামে বিরোধী দলের নেতা কর্মী ও বিভিন্ন বাজারের ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে ওসি গত ২ বছরে ২/৩ কোটি টাকা চাঁদা নিয়েছে।
ওসির নির্যাতনে ৫০/৬০ জন নেতা কর্মী পঙ্গু হয়েছে। ওসি নিজেই নির্বাচন আচরণ বিধি লঙ্ঘন করে ২নং চরবাটা ইউনিয়নে উপনির্বাচনে আওয়ামীলীগের সমর্থক চেয়ারম্যানের পক্ষে জাল ভোট দেওয়ায় তাকে আইজির নির্দেশে পুলিশ সুপার থানা থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনে ক্লোস্ড করেছে।
এদিকে চরজব্বর থানার সাবেক ওসি এ.কে. এম. এনামুল কবির জানান, বর্তমানে আওয়ামীলীগ নেতাদের কথা ছাড়া পুলিশ প্রসাশন চলতে পারেনা। পুলিশের বিরুদ্ধে মামলা গ্রেফতার বানিজ্যের অভিযোগ বিরুদ্ধে থাকা স্বাভাবিক।
এই উপজেলার আওয়ামীলীগের নেতা দের নির্দেশে বিরোধী দলের নেতা কর্মীদের মামলা দিয়ে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার কৃতরা অনেকেই মাসোয়ারা দিলেও ওই টাকা নেতা দের মধ্যেও ভাগ বাটোয়ারা করা হয়েছে।
এসএইচ





