বৃহত্তর যশোর জেলাকে বিভাগ করার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে যশোর সমিতি ও যশোর বিভাগ আন্দোলন পরিষদ। একইসঙ্গে মাগুরা জেলাকে প্রস্তাবিত ফরিদপুর বিভাগের অন্তর্ভুক্ত না করারও দাবি জানানো হয়।

বুধবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) এ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে যশোর সমিতির সাধারণ সম্পাদক কাজী রফিকুল ইসলাম জানান, যশোর জেলা বাংলাদেশের সবচেয়ে পুরাতন জেলা ও সমগ্র ভারতের মধ্যে প্রথম জেলা।

১৯৭১ সালে দেশ স্বাধীন হওয়ার পরে যে ১৯টি জেলা ছিল তার মধ্যে যশোরও একটি। এক সময় বর্তমান খুলনা বিভাগ যশোর জেলার মহকুমা বলে পরিচিত ছিল।

এ মহকুমা যশোর জেলা হওয়ার ৬১ বছর পর ও ১০০ বছর পর জেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়। নিজের আওতাভুক্ত এ মহকুমা বিভাগে ও পরবর্তীতে সিটি করপোরেশনের মর্যাদা পেয়েছে। অথচ যশোর এখনও অবহেলিত অবস্থায় রয়েছে।

এ যশোরে ১৮৩৮ সালে জিলা স্কুল, ১৮৫৪ সালে পাবলিক লাইব্রেরি, ১৮৬৮ সালে দেশের প্রথম ইংরেজি প্রত্রিকা প্রকাশ, ১৮৭৫ সালে কেন্দ্রীয় কারাগার, ১৯০১ সালে সদর হাসপাতাল, ১৯৪১ সালে বিমানবন্দর স্থাপন, ভারত বিভাগের পর যশোরে প্রথম শ্রেণীর সেনানিবাস গঠন করা হয়।

যশোরের এ বিমানবন্দর বাংলাদেশের একমাত্র বিমান প্রশিক্ষণ কেন্দ্র ও যশোর সেনানিবাস দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সেনা সদস্যদের বাসস্থান।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, মাগুরা জেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করার আগ পর্যন্ত ১৮৪৬ সাল থেকে ১৯৮৪ সালের ১ মার্চ পর্যন্ত যশোরের অন্তর্ভুক্ত ছিল।

যশোর ও মাগুরার সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য একে অপরের অবিচ্ছেদ্য অংশ। অথচ এখন এ মাগুরাকে যশোর থেকে পৃথক করার পরিকল্পনা চলছে। যা কোনো ভাবেই মেনে নেওয়া সম্ভব নয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, যশোর জেলা থেকে সূচনা হয় নীল বিদ্রোহ, বৃটিশ বিরোধী ভারত ছাড় আন্দোলন, তেভাগা আন্দোলন, বিধবা বিবাহ আন্দোলন, সতীদাহ প্রথাবিরোধী আন্দোলন, ভাষা আন্দোলনসহ নানা আন্দোলনের।

দেশের প্রধান ৫টি রাজস্ব প্রদানকারী জেলার একটি হলো যশোর। যশোর জেলা খাদ্যশস্য, মাছের পোনা, সবজি, খেজুরের গুড়, ফুল, গাড়ির যন্ত্রাংশ উৎপাদনে বিখ্যাত।

মরমি সাধক ফকির লালন শাহ, কবি ফররুখ আহমেদ, মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত, কবি গোলাম মোস্তফা, চিত্রশিল্পী এসএম সুলতান, ওস্তাদ রবি শঙ্করসহ অনেক গুণীজন যশোর জেলাকে করেছেন আলোকিত।

সব পরিস্থিতি বিশ্লেষণে যশোর জেলাকে বিভাগ করার জোড় দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে মাগুরা, ঝিনাইদাহ ও নড়াইলের পাশাপাশি চুয়াডাঙ্গা, কুষ্টিয়া ও মেহেরপুরকে যশোরের অন্তর্ভুক্ত করারও দাবি জানানো হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন—যশোর সমিতির সভাপতি আব্দুল কাদের সিদ্দিকী, সাধারণ সম্পাদক কাজী রফিকুল ইসলাম, যশোর বিভাগ আন্দোলন পরিষদের আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার আব্দুস সাত্তার, সদস্য সচিব হাসানুজ্জামান বিপুল প্রমুখ।

এমকে