আওয়ামী লীগের আইনবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল মতিন খসরু বলেছেন, ‘শুধু বিজিবি-পুলিশ বাহিনী দিয়ে দেশের পরিস্থিতি স্বভাবিক করা সম্ভব নয়। এজন্য জনগণের সহযোগিতা লাগবে।গণতান্ত্রিক শাসন ব্যবস্থায় সংলাপের বিকল্প নেই। তবে বোমাবাজদের কাছে আত্মসমর্পণ করে সংলাপ সম্ভব নয়।’
শনিবার রাতে রাজধানীর বিয়াম মিলনায়তনে বিবিসি-বাংলাদেশ সংলাপে পানেল আলোচক হিসেবে তিনি এ কথা বলেন।
এ সময় আব্দুল মতিন খসরুর উদ্দেশে অপর প্যানেল আলোচক বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর করে বলেন,‘আপনি বলছেন সংলাপ সম্ভব নয়। তাহলে সংলাপের জন্য তলে তলে আপনাদের লোক প্রাক্তন প্রধান নির্বাচন কমিশনার শামসুল হুদাকে পাঠিয়েছেন কেন?’
বহুদলীয় শাসনব্যবস্থায় বিরোধী পক্ষের সঙ্গে আলাপ- আলোচনা অপরিহার্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘বোমা মারা বন্ধ করতে পারবেন না। আবার সংলাপও করবেন না। তাহলে পারেন টা কী?কথা বলতে আপনাদের সমস্যা কেন?’
আরেক প্যানেল সদস্য তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রাক্তন উপদেষ্টা মেজর জেনারেল(অব.)গোলাম কাদের বলেন, ‘দেশ ভয়ংকর শোচনীয় অবস্থায় পড়েছে। এ অবস্থা থেকে বের হওয়ার জন্য সংলাপ অবশ্যই করতে হবে।আমার দেশের পরিস্থিতি আরো খারাপের দিকে যাবে।তারপর একটা সমাধান বের হবে।’
খুব শিগগরই একটা সমাধান বের হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. তাসনিম সিদ্দিকী বলেন, ‘পুরো রাজনৈতিক ব্যবস্থা সংকটের মধ্যে পড়েছে।এ অবস্থা থেকে বের হতে সংলাপের বিকল্প নেই।’
সহিংসতার খবর গণমাধ্যমে দেখানোর বিষয়ে দর্শদের এক প্রশ্নের জবাবে আব্দুল মতিন খসরু বলেন, ‘সহিংসতার খবর মিডিয়ায় দেখানো বন্ধ করে দেওয়া উচিৎ।’
একই বিষয়ে তাসনিম সিদ্দিকী বলেন, ‘আসল সমস্যা আগে সমাধান করতে হবে।খবর দেখানো বন্ধ করে লাভ হবে না। মানুষকে দেশের পরিস্থিতি জানতে দিতে হবে।’
সৌদি আবরে নারী গৃহকর্মী পাঠানোর বিষয়ে দর্শকের প্রশ্নের জবাবে শাহজাহান ওমর বলেন, ‘সৌদি আরবের লোকেরা বর্বর।তাই সৌদিতে নারীদের পাঠানো বন্ধ করতে হবে।যখন পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ সৌদিতে নারী পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছে, তখন বাংলাদেশ থেকে লোক পাঠানো হচ্ছে।’
বাংলাদেশেই নারীদের জন্য কর্মসংস্থানের বেশি সুযোগ সৃষ্টি করা উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এ বিষয়ে আব্দুল মতিন খসরু বলেন, ‘সৌদিতে নারীদের পাঠানোর আগে সরকার নিরাপত্তার বিষয় নিশ্চিত করবে।দেশে হোক আর বিদেশে হোক নারীদের কর্মসংস্থানের সুযোগ দিতে হবে।’
এএইচ





