পু‌লিশ প্রশাসনে সরকা‌রের কোন হস্ত‌ক্ষেপ না থাকায় তারা মুক্তভা‌বে কাজ করছে ব‌লে মন্তব্য ক‌রে‌ছেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনার তথ্য উপ‌দেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী।

শ‌নিবার ( ০২ এপ্রিল) রাজধানীর হো‌টেল অামারি‌তে ঢাকা মে‌ট্রোপলিটন পু‌লি‌শের অা‌য়োজ‌নে ‘জননিরাপত্তা বিধানে গণমাধ্যম ও পুলিশ’শীর্ষক আলোচনা সভায় তি‌নি এমন মন্তব্য ক‌রেন।

সাগর রুনি ও তনু হত্যার তদন্ত কাজ চল‌ছে। ‌কিন্তু সরকার জজ মিয়া নাটক সাজি‌য়ে বিচার কর‌ছে না জা‌নি‌য়ে ইকবাল সোবহান ব‌লেন, পু‌লি‌শের উপর অাস্থার সংকট অামরা নি‌জেরাই তৈরি ক‌রে‌ছি। একে অন্য‌কে সহ‌যো‌গিতার মধ্য দিয়ে অাস্থা ফি‌রি‌য়ে অান‌তে হ‌বে।

‌তি‌নি অারও বলেন, সব সময় পুলিশ বন্ধু হ‌তে পা‌রে না। যারা আইন মা‌নে তা‌দের বন্ধু কিন্তু অপরাধী‌দের ক্ষে‌ত্রে পুলিশকে যম হ‌তে হ‌বে।

ইকবাল সোবহান ব‌লেন, পু‌লিশ ও গণমাধ্য‌মের সম্পর্কটা সম্পূরক। কারণ মানুষ যেমন পুলি‌শের কা‌ছে সাহায্য চায় তেম‌নি অামরাও বিপদে পড়‌লে সাহায্য চাই। একে অপর‌কে সহ‌যো‌গিতা কর‌লে জন‌নিরাপত্তা বিধান করা সম্ভব।

‌তি‌নি ব‌লেন, পু‌লি‌শের বৈধ অ‌স্ত্রের অ‌বৈধ ব্যবহার যেমন কাম্য নয় ঠিক তেম‌নি কলম হা‌তে থাক‌লেই তার অপব্যবহার ঠিক নয়। পু‌লিশ ও গণমাধ্যম‌কে জবাব‌দি‌হিতার ম‌ধ্যে অাস‌তে হ‌বে।

পু‌লি‌শের ভাল কা‌জের যেমন প্রশংসা কর‌তে হবে তেমনি তাদের ক্ষমতার অপব্যবহারের চিত্রও তু‌লে ধর‌তে হ‌বে বলে যোগ ক‌রেন তি‌নি।

ডিএম‌পি ক‌মিশনার অাছাদুজ্জামান মিয়া ব‌লেন, গণমাধ্য‌মে এমন তথ্য প্রচার করা যা‌বে না যা‌তে ন্যায় বিচার ব্যাহত হয়। গণমাধ্যম ও পু‌লিশ প‌রিপূরক। গণমাধ্যম সব সময় পু‌লি‌শের পা‌শে থে‌কে‌ছে পু‌লিশও গণমাধ্য‌মের পা‌শে থে‌কে‌ছে।

তি‌নি অারও ব‌লেন, থানার মান উন্নয়‌নে কাজ চল‌ছে। সবার পরাম‌র্শে জন‌নিরাপত্তা বিধান করা হ‌বে। জনবান্ধব পু‌লিশ এক ধাপ এগি‌য়ে‌ছে। পু‌লি‌শের অ‌পেশাদার অাচরণ কামনা ক‌রি না। তা‌দের বিরু‌দ্ধে ক‌ঠোর অবস্থা‌নে পু‌লিশ। অ‌নে‌কের বিরু‌দ্ধে ব্যবস্থাও নেয়া হ‌চ্ছে।

অাইন মানার সংস্কৃ‌তি তৈরি কর‌তে হ‌বে মন্তব্য ক‌রে তি‌নি ব‌লেন, জন‌নিরাপত্তার স্বা‌র্থে ভাড়া‌টিয়া‌দের তথ্য সংগ্রহ করা হ‌চ্ছে। এ তথ্য অপব্যবহা‌রের কোন সু‌যোগ নেই।

মতবিনিময়সভায় লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পুলিশের যুগ্ম কমিশনার (ক্রাইম) কৃষ্ণপদ রায়।

সাংবা‌দিক আবেদ খান বলেন, পুলিশকে নিজেদের আরো উন্মুক্ত করতে হবে। বি‌শ্বে অাজ গণমাধ্যম ওয়াচ ডগের ভূমিকা পালন করছে এটা পু‌লিশ‌কে বুঝতে হ‌বে।

পু‌লি‌শের সাবেক আইজিপি নুরুল হুদা বলেন, গণমাধ্যমের ভূমিকা আছে বলেই এখনও সমাজ ভালো অবস্থানে আছে।

আইনজীবী মঞ্জুর মোর্শেদ ব‌লেন, ক্ষমতাসীন এবং প্রভাবশালীদের দৌরাত্ম্যের ফলে দায়িত্বে পালন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এমন বক্তব্য পুলিশের মুখ দিয়ে আসায় বিষয়টি গুরুত্বের দাবি রাখে।

সাংবা‌দিক নঈম নিজাম ব‌লেন, পু‌লিশ‌কে রাজ‌নৈ‌তিক স্বা‌র্থে ব্যবহার করা থে‌কে বের হ‌য়ে অাস‌তে হ‌বে। অাস্থার জায়গাটা বাড়া‌নোর জন্য গণমাধ্যম ও পু‌লি‌শের ম‌ধ্যে পারস্পরিক যোগা‌যোগ বাড়া‌তে হ‌বে। তাহ‌লেই পু‌লি‌শের মাধ্য‌মে অসাধ্য কিছু সাধন করা সম্ভব।

সাংবা‌দিক ম‌তিউর রহমান চৌধুরী ব‌লেন, পু‌লিশ অবশ্যই অামা‌দের বন্ধু। এখনও অ‌নেক ক্ষে‌ত্রে কেন এজাহার নেয়া হ‌চ্ছে না। কেন পু‌লি‌শের গাড়ি রাস্তার উল্টো প‌থে চল‌বে। অা‌গে নি‌জে আইন মান‌তে হ‌বে তারপর অপর‌কে মান‌তে বাধ্য কর‌তে হ‌বে।

সাংবাদিক মঞ্জুরুল ইসলাম বলেন, যতক্ষণ পর্যন্ত মানুষ পুলিশকে বিশ্বাস পুরোপুরি করে উঠতে না পারছে ততক্ষণ পরযন্ত পুলিশের বাড়িওয়ালা-ভাড়াটিয়ার তথ্য আদায়ের প্রক্রিয়া বন্ধ রাখা উচিত। বরং জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যকে যাচাই বাছাই করলে বেশি কাজ হবে।

আইনজীবী শ ম রেজাউল করিম বলেন, প্রভাবশালীদের ক্ষেত্রেও আইনের কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করলে পুলিশের প্রতি জনগণের আস্থা ফিরে আসবে। সাংবাদিক নাইমুল ইসলাম খান বলেন, আস্থা ফেরাতে পুলিশেরই ভূমিকা রাখতে হবে বেশি।

সাংবাদিক মুন্নী সাহা বলেন, ভালো পুলিশ এবং ভালো সাংবাদিকের মেলবন্ধন ঘটতে হবে। তাহ‌লে জন‌নিরাপত্তা নি‌য়ে ভাব‌তে হ‌বে না।

মতবিনিময় অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ‌সি‌নিয়র সাংবা‌দিক মঞ্জুরুল আহসান বুলবুল। মতবিনিময় সভায় আরো উপস্থিত ছিলেন অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান, সাবেক তথ্য কমিশনার সাদেকা হালিম, নির্বাচন পরযবেক্ষক নাজমুল আহসান কলিমুল্লাহ, সৈয়দ আবুল মকসুদ, ফকির আলমগীর, নিরাপত্তা বিশ্লেষক মোহাম্মদ আলী শিকদার প্রমুখ। এ সময় অনুষ্ঠানে বিভিন্ন গণমাধ্যমের শীর্ষ সংবাদ কর্তারা অংশ নেন।

ওএফ