অন্তহীন সমস্যায় জর্জরিত নোয়াখালীর সরকারী চিকিৎসা সহকারী প্রশিক্ষণ বিদ্যালয় (ম্যাট্স)। ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণী কর্মচারী ৫৩ জন মধ্যে ধাপে ধাপে অবসরে যাওয়ার পর থেকে নতুন জনবল নিয়োগ না হওয়ায় দীর্ঘ ২৫ বছর ৪৩ জনের পদ শুন্য রয়েছে।

জনবল সংকট থাকায় একজনে একাধিক দায়িত্ব পালন করছে। ফলে ম্যাট্সে জনবল সংকটে স্থবির হয়ে পড়েছে প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম।

এই বিদ্যালয় ছাত্রাবাসে শিক্ষার্থী বাড়লেও আসন সংখ্যা বাড়েনি। ইন্টার্নী শিক্ষার্থীদের হাসপাতালে যেতে সরকারী যানবাহন না থাকায় আসা যাওয়ায় নিরাপত্তার বিঘ্নি ঘটছে।

এদিকে বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টির পানি বাইরে যাওয়ার ড্রেন না থাকায়, অভ্যন্তরীণ চলাচলের রাস্তা নিচু হওয়ায় স্থায়ী জলাবদ্ধতায় বিদ্যালয়ের পরিবেশ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত ঘটছে।

অপর দিকে এ বিদ্যালয়ে চারদিকে পাকা সীমানা প্রাচীরের ওপরে কাঁটা তারের বেড়া নির্মান না করায় বাইরের বখাটে যুবকেরা দিনে ও রাতে ভিতরে ঢুকে ছাত্রাবাসের মেয়ে শিক্ষার্থীদের উত্ত্যক্ত করায় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে।

সূত্রে জানায়, ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশে সরকারী ৮টি ম্যাট্সের মধ্যে নোয়াখালী জেলা শহর মাইজদী ওই সরকারী চিকিৎসা সহকারী প্রশিক্ষণ বিদ্যালয় (ম্যাট্স) স্থাপিত হয়েছে।

একই সময় নোয়াখালী সরকারী চিকিৎসা সহকারী প্রশিক্ষণ বিদ্যালয়ে (ম্যাট্স) ৫০ জন শিক্ষার্থীকে ভর্তি করে পুরাতন হাসপাতালের আধা পাকা জরাজীর্ণ টিনসেড ও পাকা ভবনে শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

৩ বছরের কোর্সে প্রতি শিক্ষাবর্ষে ৫০ জন করে ছেলে ও মেয়ে সহ দেড়শ আসনে শিক্ষার্থী ভর্তি হয়ে ৩’শ জন শিক্ষার্থী ছাত্রাবাসে গাদাগাদি করে অবস্থান করছে।

সূত্রে আরও জানায়, ২০১০-১১ শিক্ষাবর্ষে নতুন করে ইন্টার্নি সহ ৪ বছরের কোর্সে উন্নিত করা হয়েছে।

নতুন ছাত্রাবাস ভবন নির্মাণ না করেই প্রতি শিক্ষাবর্ষে ১’শ জন শিক্ষার্থী ভর্তি করায় বর্তমানে দেড়শ আসনের স্থলে ৩’শ জন শিক্ষার্থী ওই জরাজীর্ণ ঘরের বিভিন্ন কক্ষে গাদাগাদি করে ফ্লোরিং ও ছাত্রাবাসে মানবেতর জীবন কাটছে।

ইন্টার্নি শিক্ষার্থীরা এই বিদ্যালয় থেকে কার্য দিবসে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে আসা যাওয়া করতে সরকারী যানবাহন না থাকায় নিজস্ব খরচে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হাসপাতালে যেতে হয়। সবচেয়ে মেয়ে শিক্ষার্থীরা নিরাপত্তাহীন ভাবে ইর্টানি শীপ করতে হাসপাতালে যাতায়াত করছে। শ্রেণিকক্ষেও জানালা জরাজীর্ণ ও অরক্ষিত থাকায় একটু বৃষ্টি হলেই ভেতরে পানি ঢুকে পাঠদানের পরিবেশ না থাকায় শিক্ষার্থীদের ছুটি দিতে হয়।

এদিকে বৃষ্টি হলে ছাত্রাবাসের ভিতরে উপরের ছাদ থেকে পানি চুসে শিক্ষার্থীদের বই, আসবাবপত্র ভিজে ও ফ্লোরে পানি জমে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে যায়।

অপরদিকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা নোয়াখালী স্বাস্থ্য প্রকৌশলী অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছেন ম্যাটসের চারদিকে সীমানা প্রাচীরের ওপরে কাটাতার ও সংস্কার করতে ১ বছর আগে প্রায় ১৭ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও ঠিকাদার অধিকাংশ কাজ না করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের যোগসাজশে লাখ লাখ টাকা অগ্রিম বিল নিয়ে যায়। ম্যাটসের অভ্যন্তরের সড়ক উচু করে পাকা করা, ড্রেন নির্মান, ছাত্রাবাসের নতুন ভবন ও পুরাতন ছাত্রাবাস সংস্কার করতে কর্তৃপক্ষ একাধিকবার লিখিত অভিযোগ করলেও আমলে নেয়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা জানান, সরকারী ৮টি সহ বেসরকারী ১৪৫টি ম্যাট্স এ প্রায় ১ লাখ শিক্ষার্থী প্রতি ডিসেম্বরে বোর্ড চুড়ান্ত পরীক্ষায় অংশ গ্রহণ করে ৫ মাস পর পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করা হয়। এতে অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীরা পরবর্তী জুন মাসে পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে কৃতকার্য হতে ১ মাস সময় যথেষ্ট নয়।

অন্যদিকে বাংলাদেশে ৮টি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় লাখ লাখ পরীক্ষার্থী অংশ গ্রহণ করে ২ মাস পরেই ফলাফল প্রকাশ করা হলে পরবর্তী প্রস্তুতির জন্য অকৃতকার্য ছাত্ররা প্রস্তুতি নিতে যথেষ্ট সুযোগ থাকে।

অথচ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বোর্ড ১ লাখ ম্যাট্স শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করতে কর্তৃপক্ষ দায়িত্ব-কর্তব্য অবহেলায় অহেতুক ৫ মাস বিলম্ব করে ফলাফল প্রকাশ করায় অকৃতকার্য ছাত্রদের পরবর্তী পরীক্ষার প্রস্তুতি নিয়ে পাশ করতে সুযোগ দেয় না।

জনবল সংকটের মধ্যে প্রশাসনিক কর্মকর্তা শূণ্য পদে ১ জনের স্থলে ১ জন, লাইব্রেরিয়ান ১ জনের স্থলে ১জন, ক্যাশিয়ার ১ জনের স্থলে ১ জন, স্টোর কিপার ১ জনের স্থলে একজন, স্টোনো টাইপিস্ট ১ জনের স্থলে ১ জন, আর্টিস্ট ১ জনের স্থলে ১জন, টিউটর স্যানিটেশন ১ জনের স্থলে ১ জন, আই.সি.টি ১ জনের স্থলে ১ জন, টেকনিশিয়ান ২ জনের স্থলে ১ জন (ফিজিওলোজি), অফিস সহকারী কাম মুদ্রাক্ষরিক ৪ জনের স্থলে ৩ জন, অডিও ভিজুয়েল অপারেটর ১ জনের স্থলে ১ জন, গাড়ি চালক ২ জনের স্থলে ১ জন, ল্যাবরেটরী এটেন্টডেন্ট ২ জনের স্থলে ১ জন, টেক্সিডারমিস্ট ১ জনের স্থলে ১ জন, এম.এল.এস.এস ২৪ জনের স্থলে ১১ জন, কুক/মশালচি ৭ জনের স্থলে ৫ জন ও সুইপার ২ জনের স্থলে ১ জন সহ ৪৩টি পদ শূণ্য রয়েছে।

এদিকে অধ্যক্ষ ডাক্তার সালাহ উদ্দিন শরীফ টাইমনিউজকে জানান, দীর্ঘদিন ধরে ম্যাট্সে জনবল ও যানবাহন সংকটে প্রশাসন ও একাডেমিক কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে রয়েছে। একই সময় নতুন ছাত্রাবাস নির্মান না করায় দেড়শ আসনের স্থলে ৩’শ জন শিক্ষার্থী গাদাগাদি করে অবস্থান করায় মানবেতর জীবন কাটছে।

নতুন ছাত্রাবাস নির্মান, অভ্যন্তরীন সড়ক উঁচু করে সংষ্কার ও সীমানা প্রাচীরের উপরে কাঁটা তার দিতে মহা-পরিচালক স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সহ নোয়াখালী স্বাস্থ্য প্রকৌশলীকে একাধিকবার লিখিত ভাবে অবহিত করলেও আমলে নেয়নি।

এ অবস্থা চলতে থাকলে ম্যাট্সের প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম স্থবিরতা ও শিক্ষার্থীদের পড়ার পরিবেশের মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত ঘটবে।

এসএইচ