গত তিন বছরের মধ্যে ২০১৫-১৬ অর্থবছরের ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন হার সর্বনিম্ন।

একে একে পেরিয়ে গেছে অর্থবছরের ১০টি মাস অথচ বাস্তবায়ন হার মাত্র ৫১ দশমিক ৩৪ শতাংশ। এতে করে বাকি দুই মাসে সরকারের লক্ষ্য উদ্দেশ্য পূরণ হওয়া নিয়ে সংশয় দেখা গেছে।

সরকারের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগ (আইএমইডি) থেকে পাওয়া তথ্যে দেখা গেছে, একই সময়ে ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ৫৬, ২০১৩-১৪ অর্থবছরে ৫৪ এবং ২০১২-১৩ অর্থবছরেও ৫৪ শতাংশ এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছিলো। অথচ চলতি অর্থবছরে এডিপি বাস্তবায়ন হার মাত্র ৫১ দশমিক ৩৪ শতাংশ।

চলতি অর্থবছরে মোট এডিপি বরাদ্দ ৯৩ হাজার ৮শ ৯৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারি অর্থায়ন ৬১ হাজার ৮শ ৪০ কোটি ও প্রকল্প সাহায্য ২৯ হাজার ১শ ৬০ কোটি টাকা।

অথচ ১০ মাসে মোট বরাদ্দ থেকে এডিবি বাস্তবায়ন মাত্র ৪৮ হাজার ২০৪ কোটি টাকা বা ৫১ দশমিক ৩৪ শতাংশ। এর মধ্যে জিওবি ৩১ হাজার ৮৭ কোটি এবং প্রকল্প সাহায্য ১৫ হাজার ১শ ৯৩ কোটি। চলতি অর্থবছরে এক হাজার ১শ ৫৫টি প্রকল্পের বিপরীতে এডিপি বাস্তবায়িত হয়েছে।

এডিপি বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে আইএমইডি সচিব ফরিদ উদ্দিন আহম্মদ চৌধুরী বলেন, ১০ মাসে ৫১ শতাংশ এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছে। শেষের দুই মাসে আরও বাড়বে। প্রকল্প বাস্তবায়নে ঠিকাদারের বিল বকেয়া শেষ মাসেই পরিশোধ হবে। এতে করে এডিপি বাস্তবায়নের হার আরও বেড়ে যাবে।

বছর শেষে কতো শতাংশ এডিপি বাস্তবায়ন হতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমরা তো শতভাগ এডিপি বাস্তবায়ন করতে চাই। বাকিটা অপেক্ষা করতে হবে।

আইএমইডি সূত্র থেকে জানা গেছে, সব মন্ত্রণালয় এখনও এডিপি বাস্তবায়নের সর্বশেষ তথ্য দেয়নি। এতে করে খাতওয়ারী তথ্য দিতে আরও কিছুদিন সময় লাগবে।

তবে ২০১৫-১৬ অর্থবছরের মার্চ মাস পযর্ন্ত নয় মাসে আরএডিপি-তে দেশের সাতটি বড় খাতে বাস্তবায়ন হার ৫০ শতাংশ অতিক্রম করতে পারেনি। বরাদ্দের অর্ধেক অর্থ এসব বিভাগের পকেটেই রয়ে গেছে বলে অভিযোগ।

আইএমইডি দেয়া তথ্যে দেখা গেছে, সেতু বিভাগে মোট বরাদ্দ রয়েছে সাত হাজার ৬শ ৭০ কোটি ১৯ লাখ টাকা।

কিন্তু চলতি বছরের নয় মাসে খরচ হয়েছে মাত্র ২৮ শতাংশ। অন্যদিকে, রেলপথ মন্ত্রণালয় ৩২, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ ৩৫, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা ৪৮, শিক্ষা ৪৫, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ ৩১ ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় নয় মাসে মাত্র ৩২ শতাংশ খরচ করতে পেরেছে।

এসএম