নরসিংদীর শিবপুরে ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে যাত্রীবাহী দুটি বাসের মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন নিহত হয়েছেন।

বুধবার বিকাল সোয়া ৫টার দিকে কারারচর এলাকায় এই দুর্ঘটনার পর দুটি বাসেই আগুন ধরে যায়। এসময় দুই ঘণ্টা বন্ধ ছিল মহাসড়কে গাড়ি চলাচল।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ভৈরব থেকে ঢাকাগামী সোহাগ পরিবহনের একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে মনোহরদীগামী মেঘালয় পরিবহনের একটি বাসের সংঘর্ষ ঘটে। এসময় গ্যাস সিলিন্ডার বিস্ফোরিত হয়ে দুটি বাসেই আগুন ধরে যায়।

নরসিংদীর জেলা প্রশাসক আবু হেনা মোরশেদ জামান, দুর্ঘটনার পরপরই ছয়জনের মৃত্যুর খবর।লাশগুলো এবং আহত কয়েকজনকে নরসিংদী সদর হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়া হয়। সন্ধ্যায় হাসপাতাল মর্গে গিয়ে মোট সাতজনের লাশ দেখা যায়।

দুর্ঘটনায় আহতদের মধ্যে ১৩ জনকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। হাসপাতালে আনার পরপরই দুজনের মৃত্যু হয় বলে ঢামেক পুলিশ ফাঁড়ির পরিদর্শক মোজাম্মেল হক জানিয়েছেন।

হাসপাতালে মারা যাওয়া দুজনের নামই আব্দুল হান্নান বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা। এদের একজনের বয়স ৬৫ বছর, অন্যজনের বয়স ৫০ বছর।

রাত সোয়া ৯টার দিকে রেজিয়া বেগম (৪৫) নামে আরও একজন মারা যান বলে পুলিশ কর্মকর্তা মোজাম্মেল জানান।

নরসিংদীতে থাকা সাতটি লাশের মধ্যে দুজনের পরিচয় জানা গেছে। তারা হলেন- কিশোরগঞ্জ জেলার কেন্দুয়া গ্রামের সোহানা আহামেদ (২৪) এবং নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার হাইরমারা গ্রামের মজনু মিয়া (৫০)।

নিহতদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। শিশুটিসহ অন্য পাঁচজনের পরিচয় পাওয়া যায়নি।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে নরসিংদী থেকে ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা গিয়ে বাস দুটির আগুন নেভায়। জেলা প্রশাসক মোরশেদ জামান ও পুলিশ সুপার শেখ মো. রফিকুল ইসলামও যান সেখানে।
দুর্ঘটনার পর যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে কয়েকশ’ গাড়ি সড়কের উভয় পাশে আটকা পড়ে। আগুন নিভিয়ে গাড়ি দুটি সরানোর পর সন্ধ্যা ৭টায় গাড়ি চলাচল পুনরায় শুরু হয়।

ঢাকা, ৬ আগস্ট, টাইমনিউজবিডি.কম, জেআই