অপারেশন থিয়েটারে এক বৃদ্ধার শরীরে অস্ত্রোপচার করছিলেন সার্জন (শল্যচিকিৎসক)। তাকে সহযোগিতা করছেন এপ্রোন (সজ্জাবরণী) পরা দুই সহযোগী। পেছনে দাঁড়িয়ে রয়েছেন নার্স।
আপাতদৃষ্টিতে সব ঠিকঠাক মনে হলেও দুই সহযোগীর পরিচয় পেলে চোখ কপালে উঠতে বাধ্য। তারা যে ওই হাসপাতালের ঝাড়ুদার!
এ চিত্র মাগুরা ২৫০ শয্যা হাসপাতালের। রোববার সকাল ১০টায় শুরু হওয়া আনোয়ারা বেগম নামের এক রোগীর হাতে ওই অস্ত্রোপচারে দুই ঘণ্টারও বেশি সময় লাগে। অস্ত্রোপচার করেন ডা. শফিউর রহমান।
তার সহযোগী ছিলেন সুবাস চন্দ্র বিশ্বাস ও আবু বক্কার। হাসপাতালে তারা নিয়োগ পেয়েছেন এমএলএসএস কাম ওয়ার্ডবয় হিসেবে। তবে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর কাজও করেন তারা।
সূত্র জানায়, এ হাসপাতালে তিনজন সার্জন অস্ত্রোপচার করে থাকেন। সপ্তাহে দু’দিন করে (মোট ছয় দিন) অস্ত্রোপচার করেন তারা। দিনে চার-পাঁচটি বা তারও বেশি অস্ত্রোপচার হয়ে থাকে এখানে।
এ সময়ে তাদের সহযোগী হিসেবে অন্তত দু’জন করে চিকিৎসক বা সহকারী সার্জন থাকার কথা। কিন্তু জনবল সংকটের কারণে ওয়ার্ডবয়, পিয়ন, ঝাড়–দারকে নিয়েই অস্ত্রোপচারের জটিলতম কাজটি করে থাকেন সার্জন।
অস্ত্রোপচারের জন্য অপরিহার্য একজন এনেসথেসিস্ট (অজ্ঞানবিদ)। সূত্রমতে, হাসপাতালটিতে ৬ মাস এ পদটি শূন্য। জরুরি ক্ষেত্রে তাই জরুরি বিভাগের মেডিকেল অফিসার অরুণ কান্তি ঘোষকে এনেসথেসিস্টের কাজ করতে হয়।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডা. শফিউর রহমান বলেন, অপারেশনের সময় একজন সার্জনের সহযোগিতার জন্য অন্তত দু’জন সহযোগী ডাক্তার থাকা প্রয়োজন। কিন্তু চিকিৎসক সংকট থাকায় ডাক্তারের পরিবর্তে পিয়ন-সুইপারদের দিয়েই কাজ করতে হচ্ছে। তিনি বলেন, এ কারণে একটি সাধারণ অপারেশনেও অতিরিক্ত সময় লাগছে। যথাযথ সেবাও রোগীদের দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার বিকাশ কুমার সিকদার বলেন, হাসপাতালটির নামই শুধু ২৫০ শয্যার হাসপাতাল। পুরনো ১০০ শয্যা হাসপাতালের জনবল কাঠামো অনুযায়ী যে পরিমাণ চিকিৎসক-কর্মচারী প্রয়োজন ছিল সেটিও এখন পর্যন্ত নেই।
তিনি বলেন, ১০০ শয্যা হাসপাতালের জন্য চিকিৎসক-কর্মচারী মিলে এখানে মঞ্জুরি করা পদ ২০৩ জনের। এর মধ্যে চিকিৎসকের পদ ২৯টি। বর্তমানে চিকিৎসক রয়েছেন ১৯ জন। মোট জনবল ১৬৬ জন।
এমএম





