বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে সম্মানিত হওয়া প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘দেশের উন্নয়নে আমি আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করছি। বিদেশে দেশের ভাবমূর্তি তুলে ধরা ও বাংলাদেশকে শান্তির দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছি। বিশ্বনেতারা এই কাজের মূল্যায়নটাই করছেন।’
আজ বুধবার প্রধানমন্ত্রীর জন্য নির্ধারিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের হুইপ শহীদুজ্জামান সরকারের এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। ডেপুটি স্পিকার ফজলে রাব্বী মিয়ার সভাপতিত্বে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এই অধিবেশন শুরু হয়।
আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রাপ্য সম্মানের কৃতিত্ব জনগণকে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যে সম্মান পাচ্ছি, সেটা আমার নয়, বাংলাদেশের জনগণের সম্মান। এ জন্য জনগণের কাছে আমি কৃতজ্ঞ। কারণ, ভোট দিয়ে নির্বাচিত করে তাদের সেবা করার সুযোগ দিয়েছে বলেই আমি আজকে এই কাজ করার সুযোগ পেয়েছি।’
জাপান সফরে সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ নিয়ে আলোচনা প্রসঙ্গে সংরক্ষিত মহিলা আসনের সাংসদ নূর-ই-হাসনা লিলি চৌধুরীর সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে সংসদ নেতা বলেন, জাতীয় বা আন্তর্জাতিক সম্মেলনে আনুষ্ঠানিক বিষয়ের বাইরেও জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ নিয়ে আলোচনা হয়। জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের জিরো টলারেন্স ও কঠোর অবস্থানের কথা বিশ্বনেতারা জানেন।
জাপান সফরে বৈঠক চলাকালে যে কথা হয়েছে, তা আনুষ্ঠানিক নয় বলে জানান শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের জঙ্গিবিরোধী অবস্থানের ভূয়সী প্রশংসা করা হয়েছে। জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদবিরোধী কর্মকাণ্ডে আমাদের সহায়তা দেওয়ার কথা বলেছি। আমি বলেছি, সবার সহায়তা নিয়ে আমরা জঙ্গিবাদ দমন করতে পারি।’
সরকারি দলের আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিমের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলের মতো দক্ষিণ এশিয়ায়ও বিস্তৃতি লাভ করেছে। এটি আঞ্চলিক শান্তি, নিরাপত্তা ও উন্নয়নের জন্য হুমকি। এই বাস্তবতায় নিরাপত্তা সহযোগিতার মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়াকে একটি শান্তিপূর্ণ অঞ্চল হিসেবে প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এ অঞ্চলের দেশগুলো একত্রে কাজ করতে পারে।
আওয়ামী লীগের ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর আরেক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, শিক্ষার সুযোগ সৃষ্টি করলে এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হলেই নারীর ক্ষমতায়ন হবে। ক্ষুদ্রঋণের সমালোচনা করে এই প্রশ্নের উত্তরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘মাইক্রো ক্রেডিট নিয়ে যারা কাজ করে, তারা দীর্ঘমেয়াদি এবং টেকসই উন্নয়নে কোনো কাজ করতে পারে না। ঋণ নেয় আর প্রতি সপ্তাহে তা শোধ করে। আমাদের সরকারের নেওয়া প্রকল্প একটি বাড়ি একটি খামার দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়ের ব্যবস্থা করছে।’
আরেক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশের মানুষকে যেন খাদ্যসংকটে পড়তে না হয়, এ জন্য আমরা খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করছি।’
এমআইএস





