বরিশাল বিভাগের সরকারি স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসকের ১ হাজার ৬১টি পদের মধ্যে ৫০৭টি পদ শূন্য। কর্মরত ৫৫৪ জন চিকিৎসকের মধ্যে জুনিয়র চিকিৎসক ২৮৫ জন।

সরকারি এক কর্মকর্তা বলেন, বরিশাল বিভাগে প্রায় এক কোটি মানুষের স্বাস্থ্য সেবার জন্য সরকারিভাবে রয়েছে দুটি মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, পাঁচটি জেলা সদর হাসপাতাল, ৪০টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, ৭০টি উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র ও ২৬৬টি ইউনিয়ন স্বাস্থ্য কেন্দ্র।

স্বাস্থ্য বিভাগের উপ-পরিচালক ডা. এ টি এম মিজানুর রহমান জানান, বরিশাল বিভাগের এক কোটি মানুষের স্বাস্থ্য সেবার জন্য যে সংখ্যক স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠান থাকার কথা, তার চেয়ে বেশি আছে। কিন্তু এই স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত সংখ্যক চিকিৎসক নেই। এখানে প্রায় অর্ধেক পদ শূন্য পড়ে আছে।

বরিশাল স্বাস্থ্য বিভাগের এক পরিসংখ্যানে দেখা গেছে- এখানে ১৮ হাজার মানুষের জন্য একজন চিকিৎসক থাকার কথা। কিন্তু অর্ধেক পদ খালি রয়েছে। আবার যে সকল চিকিৎসক কর্মরত রয়েছেন- তাদের অর্ধেক জুনিয়র চিকিৎসক।

বরিশাল বিভাগের বিভিন্ন সরকারি স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসকের পদ রয়েছে ১ হাজার ৬১টি। এর মধ্যে কর্মরত আছেন ৫৫৪ জন। আর শূন্য পদের সংখ্যা ৫০৭টি। কর্মরত ৫৫৪ জন চিকিৎসকের মধ্যে সদ্য ৩৩তম বিসিএস থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত ২৮৫ জন।

শূন্য পদগুলো ৩৪তম বিসিএসের মাধ্যমে নিয়োগ পাওয়া চিকিৎসক থেকে পূরণ হতে পারে বলে জানান স্বাস্থ্য বিভাগের সহকারী পরিচালক ডা. বাসুদেব কুমার দাস। চিকিৎসকের স্বল্পতায় সবচেয়ে খারাপ অবস্থা বরগুনা জেলায়। সেখানে ১৪১টি পদের মধ্যে চিকিৎসক আছেন মাত্র ৪৬ জন। তার মধ্যে ৩৩তম বিসিএসের মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত ১৮ জন।

জেলা কিংবা উপজেলায় চিকিৎসক সংকট থাকলেও বরিশাল বিভাগীয় শহর কেন্দ্রিক সরকারি স্বাস্থ্য সেবা প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসক সংকট নেই বললেই চলে। বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে রেজিস্ট্রার, সহকারী রেজিস্ট্রার ও মেডিক্যাল অফিসারের ৭৯টি পদে কর্মরত আছেন ৬৪ জন। এখানে শূন্য রয়েছে ১৫টি পদ।

একইভাবে মেডিক্যাল কলেজের অধীনে বরিশাল সদর হাসপাতালে ১৮ পদে কর্মরত আছেন ১৬ জন।
এ ব্যাপারে বরিশাল বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. বিনয় কৃষ্ণ বিশ্বাস জানান,  ইতোপূর্বে চিকিৎসকের পদায়নের বিষয় তদারকি করত স্থানীয় বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক কিংবা সিভিল সার্জনরা। এতে করে সমানভাবে চিকিৎসক বণ্টন করা হতো। কিন্তু বর্তমানে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে সরাসরি পদায়ন দেওয়া হয়ে থাকে বলে তাদের কিছুই করার থাকে না। তাই এক জেলায় বেশি আর অন্য জেলায় কম সংখ্যক চিকিৎসক কাজ করছেন। এতে অনেকাংশে স্বাস্থ্য সেবা ব্যাহত হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।

এমএ