আলোচিত সাত খুনের মামলার প্রধান আসামি নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বরখাস্ত কাউন্সিলর নূর হোসেনের শূন্য পদের উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ ও গণনা শেষ হয়েছে। প্রাপ্ত ফলাফলে বেসরকারিভাবে জয়ী হয়েছেন শ্রমিক লীগের সাবেক সভাপতি আবদুল মতিন মাস্টারের ছেলে আরিফুল হক হাসান। তার প্রাপ্ত ভোট ৩ হাজার ৩৩৭।

হাসানের নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী তার চাচাতো ভাই সিদ্ধিরগঞ্জ ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি নজরুল ইসলাম ওরফে ছোট নজরুল। তিনি পেয়েছেন ২ হাজার ৪৩৬ ভোট। তৃতীয় স্থানে রয়েছেন কেন্দ্রীয় ওলামালীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আমির হোসেন ভাণ্ডারি। তিনি পেয়েছেন ২ হাজার ৪০০ ভোট।

এ ছাড়াও নির্বাচনে প্রার্থী ব্যবসায়ী আব্দুল আজিজ পেয়েছেন ৩৮ ভোট ও রাসেল পেয়েছেন ৪৬ ভোট।

রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. তারিফুজ্জামান জানান, কঠোর নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার সকাল ৮টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে চলে ভোটগ্রহণ। সিদ্ধিরগঞ্জের শিমরাইল, আটি, ওয়াপদা কলোনি, উত্তর আজিবপুর ও আওলাবন এলাকা নিয়ে ৪ নম্বর ওয়ার্ড গঠিত। এ ওয়ার্ডে মোট ভোটার সংখ্যা ১৪ হাজার ১০৬ জন। এর মধ্যে ৬০ ভাগের বেশি ভোটার ভোট দিয়েছেন।

উপনির্বাচনে ৫টি কেন্দ্রের সবগুলোই ঝুঁকিপূর্ণ চিহ্নিত করেছিল নির্বাচন কমিশন। ৫টি কেন্দ্রের প্রতিটিতেই ছিল একজন করে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট। এ ছাড়া কেন্দ্রের ভেতরে ছিল ১২ জন পুলিশ ও ১৪ জন আনসার সদস্য। এক প্লাটুন বিজিবিও নিয়োজিত ছিল নিরাপত্তার দায়িত্বে। ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে পুলিশের ৩টি মোবাইল টিম কেন্দ্রগুলো পর্যবেক্ষণে ছিল। র‌্যাব-১১ এর ৪টি টিম স্ট্রাইকিং ফোর্স হিসেবে কাজ করেছে। ইপিবিএন এর একটি টিমও ছিল নিরাপত্তায়।

অনুপ্রবেশের অভিযোগে ভারতের কারাগারে বন্দি রয়েছেন নূর হোসেন। এদিকে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ আইনে এক বছরের সাজাপ্রাপ্ত নূর হোসেনকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় বহিষ্কার করলে তার ওয়ার্ডের শূন্য পদে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে নির্বাচন কমিশন।

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র ও ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর নজরুল ইসলাম এবং আইনজীবী চন্দন কুমার সরকারসহ সাতজন অপহৃত হন। ৩০ এপ্রিল নজরুল ইসলামসহ ছয়জনের লাশ শীতলক্ষ্যা নদীতে ভেসে ওঠে। পরদিন ১ মে আরও একজনের লাশ পাওয়া যায় নদীতে।

কেএইচ