গত ১৩ জুলাই (বৃহস্পতিবার) কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা প্রকাশ করা হয়। এতে বুয়েটের ২ জন শিক্ষার্থী গুরুত্বপূর্ণ পদে আসীন হন। কমিটিতে পদ প্রাপ্তরা হলেন- ২১ ব্যাচের শিক্ষার্থী ইমতিয়াজ হোসেন রাহিম রাব্বি ও ১৭ ব্যাচের হাসিন আজফার পান্থ। পান্থ পেয়েছেন তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদকের পদ। রাব্বি কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন।
রাজনীতি মুক্ত বুয়েটে ছাত্রলীগের পদ নেওয়ায় সাধারণ শিক্ষার্থীরা এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানায়। সাধারণ শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে ইমতিয়াজ হোসেন পদত্যাগ পত্র জমা দেন বলে জানা যায়। কিন্তু ছাত্রলীগের বিশ্বস্ত সুত্র জানায়, তিনি তার পদে এখনো আসীন রয়েছেন।
এছাড়া ছাত্রলীগের পদ না পেলেও সক্রিয় রাজনীতির সাথে যুক্ত কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে। নানা কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে তারা তাদেরকে জানান দিচ্ছেন বলে অভিযোগ করেছে বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এদের মধ্যে অরিত্র ঘোষ, মিশু দত্ত, আসিফ আল জাবির, তানভীর স্বপ্নীল, সাগর বিশ্বাস জয়, অর্ঘ্য দাস সহ কয়েকজনের ব্যাপারে ছাত্রলীগ সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ প্রতিবেদকের হাতে এসেছে। জানা যায়, তারা ছাত্রলীগের বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণ করে থাকেন। এর মধ্যে সাগর বিশ্বাস জয়ের সাথে ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হুসাইনের ছবি সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরতে দেখা গেছে।

এদিকে সুনামগঞ্জে ঘুরতে গিয়ে ৩৪ জন বুয়েট শিক্ষার্থী আটক হলে বুয়েটে সক্রিয় হয় ছাত্রলীগ ও তাদের মদদ পুষ্টরা। ওই ৩৪ জন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে কোন রাজনীতি বা অপরাধ সংশ্লিষ্টতা না পাওয়ায় তাদেরকে জামিন দেয় আদালত।
কিন্তু ৬ আগস্ট (রোববার) দুপুরে ‘রাইস এবভ এক্সট্রিমস : প্রোটেস্ট ফান্ডামেন্টালিজম’ এর ব্যানারে ছাত্রলীগ মদদ পুষ্ট ৩০-৩৫ জন শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গনে ওই ৩৪ জন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে তদন্তের দাবিতে মানববন্ধন করে। মানববন্ধনে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে অরিত্র ঘোষ, মিশু দত্ত, আসিফ আল জাবির, তানভীর স্বপ্নীল, সাগর বিশ্বাস জয়, অর্ঘ্য দাসসহ ছাত্রলীগ মদদ পুষ্ট শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন। মানববন্ধনে উপস্থিত অধিকাংশ শিক্ষার্থীই আহসান উল্লাহ হলের।
সুত্র জানায়, আহসান উল্লাহ হলে ছাত্রলীগের কার্যক্রম এখনো দৃশ্যমান। ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় পদ প্রাপ্ত অনেক নেতা এই হলে নিয়মিত যাতায়াত করেন।
মানববন্ধনের বিষয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা জানান, কাদেরকে উদ্দেশ্য করে এ মানববন্ধন করা হয়েছে সে বিষয়ে আমরা অবগত নই। এ মানববন্ধনে যারা উপস্থিত ছিলেন তারা শুধু তাদের মতামতই প্রকাশ করেছেন, যা সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নয়।
এবিষয়ে ইলেকট্রিক্যাল এন্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ১৮ ব্যাচের শিক্ষার্থী রিকন খন্দকার বলেন, এ মানবন্ধনের বিষয়ে আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা অবহিত ছিলাম না। মানববন্ধনের বিষয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অবহিত করার জন্য কোন ঘোষণাও দেওয়া হয়নি, হুটহাট মুষ্টিমেয় কিছু শিক্ষার্থীরা এটা করেছেন। কেন করেছে, সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে বিষয়টি অস্পষ্ট।

মানববন্ধনের বিষয়ে ছাত্রলীগের কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০ ব্যাচের শিক্ষার্থী সাগর বিশ্বাস জয় জানান, মানববন্ধনটি কারা করেছে সেটি জানি না। আমি ক্যাম্পাসে হেঁটে যাচ্ছিলাম, তখন দেখি কয়েকজন মানববন্ধন করতেছে। মানবন্ধনটির বিষয়টি আমার কাছে যৌক্তিক মনে হয়েছে। তাই আমি মানববন্ধনে দাঁড়িয়েছি। কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেনের সঙ্গে তার ছবি উঠার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, সাদ্দাম ভাইয়ে সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত সম্পর্ক থাকতেই পারে। আমি কোন রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে জড়িত নই।
এ বিষয়ে ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০ ব্যাচের শিক্ষার্থী তানভীর স্বপ্নীলের সঙ্গে যোগযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এ ব্যাপারে বুয়েটের ছাত্রকল্যাণ পরিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান বলেন, গতকালকের মানবন্ধনের বিষয়ে আমি অবহিত। আমি যতটুকু জানি সাধারণ শিক্ষার্থীর ব্যানারেই মানববন্ধন হয়েছে। যেহেতু ক্যাম্পাসে রাজনীতি নিষিদ্ধ সুতরাং এখানে যারা মানববন্ধন করেছে তারা সকলেই সাধারণ শিক্ষার্থী।
গতকালকের মানববন্ধনের বিষয়ে সাধারণ শিক্ষার্থীরা অবহিত নয়, এমন তথ্য ড. মিজানুর রহমানকে জানানো হলে তিনি বলেন, এ বিষয়টি আমি জানিনা।
উল্লেখ্য, ২০১৯ সালে শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের হত্যাকাণ্ডের মধ্য দিয়ে নৃশংসতম একটি অধ্যায়ের সাক্ষী হয় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)। এরপর শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও দাবির পরিপ্রেক্ষিতে বুয়েটে ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়। শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার ব্যাপারেও নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়।
এনএইচ





