সর্বনিম্ন ধাপের মূল বেতন ৮ হাজার ২০০ টাকা আর সর্বোচ্চ ধাপে ৮০ হাজার টাকা সুপারিশ করে বহুল কাঙ্ক্ষিত পে-কমিশনের প্রতিবেদন পেশ করা হয়েছে।
রোববার সকাল ৯টায় সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের কাছে রিপোর্ট তুলে দেন কমিশনের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন।
প্রতিবেদন পাওয়ার পর অর্থমন্ত্রী বলেন, এটি একটি ভালো রিপোর্ট। সরকার খুশি মনে এ নতুন বেতন কাঠামো ২০১৫-১৬ অর্থবছর (আগামী ১ জুলাই) থেকে কার্যকর করবে।
প্রস্তাবিত অষ্টম বেতন কাঠামোতে ১৬টি স্কেল গ্রেড রাখা হয়েছে। এ ছাড়া বাড়ি ভাড়া, গৃহনির্মাণ, চিকিৎসা ভাতাসহ অন্যান্য আর্থিক সুবিধা বাড়ানোর প্রস্তাবও থাকছে।
বর্তমানে ২০০৯ সালে প্রণয়ন করা বেতন কাঠামো অনুযায়ী সর্বোচ্চ মূল বেতন ৪৫ হাজার টাকা এবং সর্বনিম্ন ৪ হাজার ১০০ টাকা। আর এ কাঠামোতে রয়েছে ২০টি গ্রেড।
‘জাতীয় বেতন স্কেল-২০০৯’-এ সর্বোচ্চ ৭৪ শতাংশ পর্যন্ত বেতন বৃদ্ধি করা হয়েছিল। এই মুহূর্তে সরকারি চাকরিজীবীরা ২০ শতাংশ মহার্ঘ ভাতা পাচ্ছেন, যা ২০১৩ সালের ১ জুলাই থেকে কার্যকর করা হয়েছে।
প্রতিবেদন জমা দেওয়ার পর ফরাসউদ্দিন নতুন বেতন কাঠামোতে কী কী সুপারিশ করা হয়েছে সে ব্যাপারে ব্রিফিং করেন।
মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন জানান, নতুন বেতন কাঠামোতে ১৬টি ধাপ করার সুপারিশ করা হয়েছে, বর্তমানে ২০টি ধাপ আছে। ছয় সদস্যের পরিবারকে একক ধরে করা নতুন বেতন কাঠামোতে সর্বনিম্ন বেতন স্কেল আট হাজার ২০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ ৮০ হাজার টাকা নির্ধারিত করার সুপারিশ করা হয়েছে। এতে ধাপ ‘এক’ এর সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন হবে নির্ধারিত ৮০ হাজার টাকা আর ১৬তম ধাপধারীদের বেতন স্কেল হবে আট হাজার ২০০ টাকা। এ ছাড়া সরকারি চাকুরিতে প্রথম শ্রেণির কর্মকর্তা হিসেবে যোগদানকারীদের স্কেল হবে ২৫ হাজার টাকা।
ফরাসউদ্দিন জানান, পদোন্নতি হোক বা না হোক সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ১৫ বছরে দ্বিগুণ করার সুপারিশ করা হয়েছে। এ ছাড়া সচিবদের ৮০ হাজার টাকার সঙ্গে আরও চার হাজার টাকা অতিরিক্ত দেওয়া, সিনিয়র সচিবদের বেতন ৮৮ হাজার টাকা এবং কেবিনেট সচিব ও প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখ্য সচিবের বেতন এক লাখ টাকা করার সুপারিশ করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এই বেতন কাঠামো কার্যকর হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে মহার্ঘ ভাতা বিলুপ্ত বলে গণ্য হবে।
ফরাসউদ্দিন জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের জন্য আলাদা বেতন কাঠামো করা যেতে পারে। তবে সেক্ষেত্রে জাতীয় বেতন কাঠামোর ধাপগুলো যেন বজায় রাখা হয়-সেটি সরকার বিবেচনা করবে।
সরকারি চাকরিজীবীদের আবাসন সংকট মেটানেরা জন্য কিছু আবাসন নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে ফ্ল্যাট তৈরির প্রস্তাব দিয়েছে কমিশন। এ ছাড়া ১০ বা ২০ জন সরকারি চাকরিজীবীরা মিলে গ্রুপ করে জমি কিনে ফ্ল্যাট নির্মাণ করতে পারেন। সেক্ষেত্রে সরকার যেন স্বল্প মূল্যে প্রত্যেককে ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেয়, সে সুপারিশ করা হয়েছে।
ফরাসউদ্দিন জানান, পেনশন বর্তমান ৮০ শতাংশ থেকে ৯০ শতাংশে উন্নীত করা যায় কিনা, সেটি বিবেচনার সুপারিশ করা হয়েছে। এ ছাড়া স্বেচ্ছা অবসরের চাকরির বয়স ২৫ বছর থেকে কমিয়ে ২০ বছর করা এবং কল্যাণ ফান্ডকে পুনর্গঠিত করে বিমা, পেনশন ও কল্যাণ ফান্ড ব্যবস্থাপনা নামে তিনটি আলাদা বিষয় করার সুপারিশ করা হয়েছে।
ফরাসউদ্দিন জানান, রাজধানীর দৈনিক বাংলায় থাকা সরকারি জমি থেকে ২০-২৫ কাঠা জমি বিক্রি করে একটি ব্যাংক গঠনের সুপারিশ করা হয়েছে। এই ব্যাংকের নাম ‘সমৃদ্ধির সোপান ব্যাংক’ করার প্রস্তাব করা হয়েছে। ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন হবে ৪০০ কোটি টাকা। ব্যাংকটি উন্নয়ন ও বাণিজ্যিক ব্যাংক হিসেবে কাজ করবে। এই ব্যাংক থেকে ‘এক অংকে’ সুদে ঋণ দেওয়া সম্ভব হবে বলেও মনে করছে কমিশন। সরকারি চাকরি আকষর্ণীয় না হলে আগামী দিনের প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা সম্ভব হবে না—এমনটা উল্লেখ করে ফরাসউদ্দিন বলেন, একটি স্থায়ী বেতন ও চাকরি কমিশন গঠনের সুপারিশ করা হয়েছে। নতুন এ বেতন কাঠামোর সুপারিশগুলো বাস্তবায়ন করলে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন গড়ে ৬৩ দশমিক ৭ শতাংশ বাড়বে।
নতুন বেতন কাঠামোর প্রতিবেদন পাওয়ার পর অর্থমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আজ রিপোর্টটি পেয়েছি। এটি পর্যবেক্ষণ করব। আগামী বছরের ১ জুলাই থেকে এটি কার্যকর করা হবে।
কেএইচ, জেএ





