খাবারের দাম নিয়ে বাগ্বিতণ্ডার জের ধরে চট্টগ্রাম আদালত ভবনের নিচতলায় পুলিশের দুটি ক্যানটিন ভাঙচুর করা হয়েছে। আজ সোমবার বিকেলে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ জানায়, আদালত চত্বরে পার্ক করে রাখা বিভিন্ন গাড়ির চালকেরা ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িত। তারা আদালতের হাজতখানার সামনে এক কনস্টেবলকেও মারধর করেন।
চট্টগ্রাম আদালত ভবনের নিচতলায় নগর ও জেলা পুলিশের দুটি ক্যানটিন রয়েছে। ক্যানটিন দুটিতে পুলিশ সদস্যরা ছাড়া অন্যদেরও খাওয়ার সুযোগ রয়েছে।
সোমবার বিকেলে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, নগর পুলিশের ক্যানটিনের চেয়ার-টেবিল ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। পড়ে আছে ভাত-তরকারি। এই ক্যানটিনের পাশের জেলা পুলিশ ক্যানটিনেরও একই অবস্থা।
নগর পুলিশের ক্যানটিনের পরিচালনার দায়িত্বে থাকা কনস্টেবল মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘এক বিচারকের গাড়িচালক মোখলেসুর রহমান বেলা দুইটার দিকে ক্যানটিনে ভাত খেয়ে বিল না দিয়ে বের হয়ে যান। তখন তাঁকে বিল দিয়ে যেতে বলি। তিনি আবার ক্যানটিনে প্রবেশ করেন। কিন্তু বিল বেশি রাখা হয়েছে উল্লেখ করে গালিগালাজ করতে থাকেন। এমনকি ক্যাশবাক্সও আমার দিকে ছুড়ে মারেন। এ সময় ক্যানটিনে থাকা লোকজন তাকে সরিয়ে দেন।’
জহিরুল ইসলাম বলেন, বেলা তিনটার দিকে মোখলেসুরের নেতৃত্বে ১০-১২ জন গাড়িচালক লাঠিসোঁটা নিয়ে ক্যানটিনে হামলা করেন। তারা ক্যানটিনের সব মালপত্র তছনছ করেন। প্রায় ১০০ জনের দুপুরের খাবারও নষ্ট করে দেন। এ সময় ক্যাশবাক্সে থাকা প্রায় পাঁচ হাজার টাকাও লুট হয়। ক্যানটিন ভাঙচুরের পর হাজতখানার সামনে মো. জাহাঙ্গীর নামের এক কনস্টেবলকে মারধর করেন গাড়িচালকেরা।
তবে এই অভিযোগ অস্বীকার করে গাড়িচালক মোখলেসুর রহমান বলেন, ‘আমি দুপুরে ডিম ও ডাল দিয়ে ভাত খাই। এ জন্য আমার কাছে ৬০ টাকা বিল দাবি করা হয়। খাবারের দাম বেশি কেন রাখা হয়েছে, জানতে চাইলে ক্যানটিনের লোকজন আমাকে মারধর করেন। এই খবর আমি অন্য গাড়িচালকদের জানাই। এরপর কী হয়েছে আমি জানি না।’
জেলা পুলিশ ক্যানটিনের শ্রমিক এবাদুল হক বলেন, ১০ থেকে ১২ জন লোক কোনো কারণ ছাড়াই হঠাৎ ক্যানটিনে ঢুকে ভাঙচুর শুরু করেন। এতে ৮০ জনের খাবার নষ্ট হয়েছে। এর আগে তারা পাশের নগর পুলিশের ক্যানটিনেও হামলা চালান।
জানতে চাইলে চট্টগ্রাম নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (প্রসিকিউশন) নির্মলেন্দু বিকাশ চক্রবর্তী বলেন, খাবারের দাম বেশি নেওয়া হয়েছে—এ অভিযোগ করে গাড়িচালকেরা আদালত ভবনের নিচতলায় থাকা দুটি পুলিশ ক্যানটিন ভাঙচুর করেন। বিষয়টি চট্টগ্রাম মুখ্য মহানগর হাকিম শাহজাহান কবিরকে জানানো হয়। পরে তিনি দুই পক্ষকে ডেকে সমঝোতা করে দিয়েছেন।
ইআর





