গত বছর বাংলা বর্ষবরণে ঘটে যাওয়া নারী লাঞ্ছনাকারীদের শাস্তির দাবিতে সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট ও বাংলাদেশে নারীমুক্তি কেন্দ্রের যৌথ উদ্যোগে বৃহস্পতিবার (১৩ এপ্রিল) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
নারীমুক্তি কেন্দ্রের সভাপতি সীমা দত্তের সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য দেন নারীমুক্তি কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক মর্জিনা খাতুন, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের সভাপতি নাঈমা খালেদ মনিকা ও সাংগঠনিক সম্পাদক মাসুদ রানা। সমাবেশ পরিচালনা করেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি ইভা মজুমদার।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, গত বছর পহেলা বৈশাখে প্রকাশ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে নারীরা লাঞ্ছনার শিকার হন। সেই বর্বর ঘটনার এক বছর হতে চললো। অথচ এই এক বছরেও দোষীদের শাস্তির আওতায় আনতে পারেনি পুলিশ।
প্রাথমিকভাবে নিপীড়নকারীদের ছবি প্রকাশ করে ধরিয়ে দিতে পুলিশের পক্ষ থেকে এক লাখ টাকা পুরস্কারও ঘোষণা করা হয়। কিন্তু পুলিশ এখন তদন্ত রিপোর্ট দিয়েছে পহেলা বৈশাখে নাকি লাঞ্ছনার ঘটনাই ঘটেনি!
তাই তারাও নিপীড়নকারীদের খুঁজে পায়নি। তদন্তের নামে এ প্রহসনের কারণে একের পর এক ঘটনার বিচারহীনতায় নিপীড়নকারীরা প্রশ্রয় পাচ্ছেন। ফলে ধর্ষণ,নির্যাতন, খুন অব্যাহতভাবে বেড়েই চলছে। তনু ধর্ষণ-হত্যা এই বিচারহীনতারই পরিণতি।
তারা আরও বলেন, যেখানে রাষ্ট্রের দায়িত্ব ছিল লাঞ্ছনাকারীদের খুঁজে বের করে বিচার করা, তা না করে এবার পহেলা বৈশাখে নিরাপত্তার নামে সার্বজনীন এই উৎসবকে সংকুচিত করা হচ্ছে।
বিচারহীনতা ও প্রশাসনের এবারের উদ্যোগ মানুষের নিরাপত্তাহীনতাকে বাড়িয়ে তুলবে এবং সাম্প্রদায়িক চিন্তা প্রসারিত হবে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাই এবং জনগণকে আহ্বান করছি, আপনারা দলে দলে সাহসের সঙ্গে পহেলা বৈশাখে অংশ নিন।
নেতারা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে মানুষকে মুক্ত স্বাধীনভাবে বর্ষবরণ উদযাপনের পরিবেশ তৈরির পাশাপাশি গত বছর নারী লাঞ্ছনাকারীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
ওএফ





