মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যে সেনাবাহিনীর নির্যাতন ও হত্যার হাত থেকে প্রাণে বাঁচতে তেলের জারিকেন নিয়ে নাফ নদী সাঁতরে বাংলাদেশে এসেছেন আরও ১৯ রোহিঙ্গা।
আজ শুক্রবার বিকেল পাঁচটার দিকে কক্সবাজারের টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ জেটি-সংলগ্ন এলাকায় আসেন তাঁরা। পরে সেখান থেকে তাঁদের উদ্ধার করে বিজিবি।
নাফ নদী সাঁতরে আসা ১৯ রোহিঙ্গা হলেন আবদুল মোনাফ (২৮), মোহাম্মদ নূর (২২), মো. আয়াছ (১৮), মো. ইয়াছিন (২০), আবদুল্লাহ (২৩), রহমত উল্লাহ (২০), আবু সৈয়দ (১৮), মোহাম্মদ নুর (১৬), কামাল হোসেন (১৫), সিরাজুল ইসলাম (২৫), নুর কবির (৩৫), মো. আইয়ুব (২২), ফয়েজ আলম (২২), আরজুর রহমান (১৮), নজির আহমদ (২৬), মো. আরজ (১৩), নবী হোসেন (১৫), আনছার উল্লাহ (১৫) ও ফয়েজ উল্লাহ (১৭)।
সাঁতরে আসা আবদুল মোনাফ জানান, গত ২০ অক্টোবর সেনাসদস্যরা তাঁদের ঘরে আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে দেয়। গ্রামের বাসিন্দাদের অবরুদ্ধ করে রাখে সেনাবাহিনী। রোহিঙ্গাদের ঘর থেকেও বের হতে দিচ্ছিল না। এ কারণে গ্রামে খাদ্যসংকট সৃষ্টি হয়। তাই পরিবারের সবাইকে নিয়ে বাংলাদেশে চলে আসার চেষ্টা করেন।
কিন্তু দংখালী প্যারাবনের ভেতর এসে দেখা যায়, ১০-১২ হাজারের মতো রোহিঙ্গা জড়ো হয়েছে। নৌকা না থাকায় বাংলাদেশে পাড়ি দিতে পারছে না। পরিবারের সবাইকে এখানে আনার জন্য সাঁতরে নৌকা নিতে এসেছেন।
আবদুল মোনাফ আরও বলেন, তাঁরা ১৯ জন শুক্রবার বেলা দুইটার দিকে মিয়ানমারের দংখালী চর থেকে শরীরের সঙ্গে জারিকেন বেঁধে সাঁতার শুরু করেন। বিকেল পাঁচটার দিকে শাহপরীর দ্বীপ জেটির কাছে এলে বিজিবির সদস্যরা নাফ নদী থেকে তাঁদের উদ্ধার করে।
এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে শাহপরীর দ্বীপ বিজিবির সীমান্তচৌকির কোম্পানি কমান্ডার আবদুল জলিল বলেন, নাফ নদীতে জারিকেন নিয়ে কয়েকজন লোককে ভাসমান দেখে বিজিবি সদস্যরা তাদের উদ্ধার করে জেটিতে নিয়ে আসেন।
টেকনাফ-২ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল এস এম আরিফুল ইসলাম বলেন, সাঁতরে বাংলাদেশে আসা ১৯ রোহিঙ্গাকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। শনিবার সকালে তাঁদের সাবরাং হারিয়াখালী সেনাবাহিনীর ত্রাণকেন্দ্রের মাধ্যমে অস্থায়ী রোহিঙ্গা ক্যাম্পে পাঠানো হবে। প্রথম আলো
জেড





