নাটোরে বাস ও লেগুনার মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৫ জন হয়েছে। আহত হয়েছে অন্তত ৪৫ জন। আহতদের নাটোর সদর হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শনিবার (২৫ আগস্ট) বেলা ৩ টার দিকে বড়াইগ্রাম উপজেলার নাটোর-পাবনা মহাসড়কের বনপাড়া সাদিয়া ফিলিং স্টেশনের সামনে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
রাত ১১ টা পর্যন্ত নিতদের মধ্যে ১৩ জনের নাম জানা গেছে। এরা হলেন- লেগুনার চালক ঠাকুরগাঁওয়ের রহিম আলী (২৮), নাটোরের বড়াইগ্রামের নারায়ণপুরের রজুফা বেগম (৫০), শেফালী বেগম (৪৫), জামাইদিঘার লগেনা বেগম (৬৫), পাবনার দাশুড়িয়া মিরকামারি গ্রামের শাপলা আক্তার (২০), শাপলার মেয়ে সুমাইয়া আক্তার (১১ মাস), পাবনার পাকশি এলাকার সোবহান আলী (৭৫), টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার রোকন শেখ (২২), পাবনার পাকশীর সোবহান মন্ডল (৫০) ও মূলাডুলি শ্মশানপাড়ার আদুরি বিশ্বাস (৩৫), তার মেয়ে স্বপ্না বিশ্বাস (দশ মাস), ছেলে প্রত্যয় বিশ্বাস (১২), পাবনার ঈশ্বরদী মিরকামালী গ্রামের সালামতের মেয়ে সুরাইয়া খাতুন (০২)। এদের মধ্যে সুরাইয়া খাতুন রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছে।
রামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ উপ-পরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলাম শফিক এতথ্য নিশ্চিত করেছেন। নিহত অপর দুই জনের পরিচয় জানা যায়নি।
নাটোর ফায়ার স্টেশনের অফিসার মহিউদ্দিন জানান, বনপাড়া থেকে একটি যাত্রীবাহী লেগুনা রাজাপুরের দিকে যাচ্ছিল। পথে লেগুনাটি বনপাড়া সাদিয়া ফিলিং স্টেশনের সামনে পৌঁছলে পাবনা থেকে বগুড়াগামী চ্যালেঞ্জার পরিবহনের একটি বাসের (ঢাকা মেট্রো চ- ৫৬৫৯) সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এতে ১৪ জন নিহত ও অন্তত ৪৫ জন আহত হন।
আহতদের এলাকাবাসী, লালপুর ফায়ার সার্ভিস ও বনপাড়া হাইওয়ে পুলিশ উদ্ধার করে এলাকার বিভিন্ন ক্লিনিক ও বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করে।
ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার খবর পেয়ে নাটোরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রাজ্জাকুল ইসলাম ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। তিনি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহত প্রত্যেকের পরিবারের জন্য ২০ হাজার টাকা অনুদান ও আহতদের বিনামূল্যে চিকিৎসার ঘোষণা দেন।
এদুর্ঘটনায় নাটোরের অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সাইদুজ্জামানকে প্রধান করে একটি ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে ঘটনার তদন্ত রিপোর্ট সংশ্লিষ্ট দপ্তরে দাখিলের জন্য নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
এমবি





