গাইবান্ধা ১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনের উপ-নির্বাচনে দলীয় ও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ৯ জন মনোনয়নপত্র জমা দিলেও লড়াই হবে ত্রিমুখী। এরই মধ্যে জমে উঠেছে নির্বাচনী পরিবেশ।
আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য মঞ্জুরুল ইসলাম লিটন দুর্বৃত্তদের গুলিতে নিহত হওয়ার পর আসনটি শূন্য হয়।
নির্বাচন কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ১১ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছিলেন। কিন্তু মনোনয়ন পত্র জমা দানের শেষ দিন রোববার বিকেল ৫টা পর্যন্ত সময়সীমায় জমা দেন ৯ প্রার্থী। যারা মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন তারা হলেন- আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা আহমেদ, জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী দলের চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের আইন বিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) মনোনীত প্রার্থী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী প্রামানিক, স্বতন্ত্র প্রার্থী মোস্তফা মহসিন, গণফ্রন্ট মনোনীত প্রার্থী শরিফুল ইসলাম, স্বতন্ত্র প্রার্থী মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মজিদ মিয়া (বীর প্রতীক), জাতীয় পার্টি (জেপি) মনোনীত প্রার্থী ওয়াহেদুজ্জামান সরকার বাদশা, স্বতন্ত্র প্রার্থী নওশের আলী, এনপিপি মনোনীত প্রার্থী জিয়া জামান খান।
আগামী ২৩ ফেব্রুয়ারি মনোনয়ন পত্র যাচাই-বাছাই হবে। ১ মার্চ প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন এবং ভোট গ্রহণ ২২ মার্চ।
উপজেলা নির্বাচন অফিস সূত্রে জানা গেছে, জাতীয় সংসদ উপ-নির্বাচনে এই আসনের মোট ভোটার সংখ্যা ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৩৮১। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৬২ হাজার ৫৪০ জন, মহিলা ভোটার ১ লাখ ৭০ হাজার ৮৪১জন। মোট ভোট কেন্দ্রের সংখ্যা ১০৯টি।
এদিকে, উপ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর থেকেই বিভিন্ন দলের নেতা-কর্মীরা মাঠে রয়েছেন। বিশেষ করে গোলাম মোস্তফা আহম্মেদ, ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী এবং ওয়াহেদুজ্জামান সরকার বাদশার কর্মী-সমর্থকরা শুরু থেকেই নিজেদের প্রার্থীর পক্ষে ভোটারদের সাথে যোগাযোগ করছেন। তারা প্রার্থীর পক্ষে ভোটারদের কাছে নানা ফিরিস্তি তুলে ধরছেন।
স্থানিয় সূত্র অনুযায়ি, এই আসনের উপ নির্বাচনে লড়াই হবে মূলত: আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও জেপি প্রার্থীর মধ্যে। আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী গোলাম মোস্তফা আহম্মেদ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক। বর্ষিয়ান রাজনীতিবিদ হিসেবে এলাকায় তার সুনাম রয়েছে। তিনি চন্ডিপুর ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচিত চেয়ারম্যান। সাধারণ মানুষের মধ্যে তার ইমেজ অত্যন্ত শক্ত।
জাতীয় পার্টির প্রার্থী ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী সুপ্রীম কোর্টের আইনজীবী। তিনি ঢাকায় অবস্থান করলেও দীর্ঘদিন থেকে এলাকায় জাতীয় পার্টির রাজনীতির সাথে জড়িত। তিনি পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের আইন বিষয়ক উপদেষ্টা।
জেপি মনোনীত প্রার্থী ওয়াহেদুজ্জামান সরকার বাদশা জাতীয় পার্টির সাবেক সংসদ সদস্য এবং সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান। তিনি দীর্ঘদিন বেলকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানও ছিলেন।
খোঁজ নিয়ে আরও জানা গেছে, যিনি দলীয় ভোটারের বাইরে সাধারণ ভোটারদের বেশি টানতে পারবেন, চুড়ান্ত ফলাফল তার অনুকূলেই যাবে। সেদিক থেকে সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন ওয়াহেদুজ্জামান সরকার বাদশা। জনপ্রতিনিধি হিসেবে তৃণমূল মানুষের সাথে তার সম্পৃক্ততা বেশি।
জারিফ





