দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া-বিষয়ক সহকারী মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী নিশা দেশাই বিসওয়াল বলেছেন, জুলহাজ মান্নানের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের তদন্তের চূড়ান্ত পরিণতি দেখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র।
আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে নিশা দেশাই এ মন্তব্য করেন। দুপুরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর দপ্তরে প্রায় দেড় ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক করেন তিনি।
নিশা দেশাই বলেন, ‘আমরা জুলহাজ মান্নানের নৃশংস হত্যাকাণ্ডে অত্যন্ত মর্মাহত ও ক্ষুব্ধ। তিনি মার্কিন সরকারের একজন কর্মী ছিলেন। বাংলাদেশে যেসব সাহসী লোকজন এখানকার বৈচিত্র্যময় সংস্কৃতিকে এগিয়ে নিতে চেয়েছিলেন, তাঁদের মৃত্যুতেও আমরা মর্মাহত। আজকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে সন্ত্রাসবাদ দমনের ক্ষেত্রে আমরা কোথায় কোথায় সহযোগিতা করে এগিয়ে নিতে পারি, সে বিষয়ে আলোচনা করেছি।’
বাংলাদেশে সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী ঘটনাবলি ও হামলার পর আইএস দায় স্বীকার করে আসছে। বাংলাদেশে আইএসের উপস্থিতি সম্পর্কে জানতে চাইলে নিশা দেশাই বলেন, ‘জুলহাজ মান্নানের হত্যাকারীদের খুঁজে বের করে বিচারের কাঠগড়ায় দাঁড় করাতে সরকার যা যা করছে, সে বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আমাদের জানিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে আমাদের যেখানে সহযোগিতা করার সুযোগ আছে, সেখানে আমরা হাত বাড়িয়ে দিতে তৈরি আছি।
তবে আমরা এই হত্যাকাণ্ডের তদন্ত এবং দোষীদের খুঁজে বের করার যে চেষ্টা বা প্রয়াস চলছে, তার চূড়ান্ত পরিণতি দেখতে চাই।’তিনি আরও বলেন, ‘আইএস, আল-কায়েদা ও আইএস-এর মতো সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো এখানকার বিভিন্ন সন্ত্রাসী ঘটনায় যে দায়িত্ব স্বীকার করে আসছে, সেটিকে আমরা বিবেচনায় নিয়ে থাকি।
কারণ, এসব সংগঠন হয় সন্ত্রাসী ঘটনা ঘটাচ্ছে কিংবা এখানকার সংগঠনগুলোর সঙ্গে নিজেদের মধ্যে একটা যোগসূত্র স্থাপনের চেষ্টা চালাচ্ছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই। বাংলাদেশের মতো সুন্দর একটি দেশে এসব সন্ত্রাসী সংগঠন যাতে ঘাঁটি গাড়তে না পারে, সে ব্যাপারে বাংলাদেশ সরকারকে নিয়ে তাদের প্রতিহত করতে আমরা বদ্ধ পরিকর।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বলেন, ‘এদেশীয় সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে বলে আমরা মার্কিন প্রতিনিধিদলকে অবহিত করেছি। মার্কিন সহকারী পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমাদের বলেছেন, তাঁরা এফবিআইয়ের মাধ্যমে আমাদের সহযোগিতা করতে চান।
আমরা বলেছি, যেখানে এফবিআইয়ের সহযোগিতা লাগবে আমরা সেখানে সেই সহযোগিতা নেব। আমরা তাঁদের এটাও বলেছি, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের ব্যাপারে তাঁদের কাছে আগাম কোনো তথ্য থাকলে সেটা যেন তাঁরা আমাদের দেন। তাহলে আমরা সন্ত্রাসীদের প্রতিরোধ করতে পারব। যুক্তরাষ্ট্র আমাদের এসব ব্যাপারে আগাম তথ্য দিয়ে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে।’
এমআর





