নগরীতে যানজটের পাশাপাশি খুলনায় যত গুলি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে তার অধিকাংশ সড়ক দুর্ঘটনার মূল কারন অনিয়ন্ত্রিত মাহিন্দ্রা। অভিযোগ পথচারি ও যাত্রিদের।
নগরীর নতুন রাস্তা মোড় পার হওয়া এক পথচারি মো: হানিফ বলেন, ছোট্র এই রাস্তাটি পার হতে ভয় হচ্ছিল কখন বেপরোয়া মাহিন্দ্রা এসে আমাকে পিষে দেয়। এই সেদিন নতুন রাস্তা থেকে একটু আগে বিজিবি’র সামনে নয়াবাটি মোড়ে রাস্তা পার হওয়ার সময় মাহিন্দ্রার ধাক্কায় একজন দৌলতপুর গ্রিল ব্যাবসায়ি মারা যান।
মাহিন্দ্রার উঠার সময় এক যাত্রি শাহরিয়ার আজাদ সুজন বলেন, নিয়ম অনুযায়ি মাহিন্দ্রার পিছনে ৩জন ও সামনে ২জন বসানোর কথা কিন্তু তারা পিছনে অতিরিক্ত ১জন ও ইঞ্জিনের উপর ২জন নিয়ে বেপরোয়া ভাবে খুলনা-যশর সড়কে চলাচল করে। কিন্তু অনেক সময় দেখা যায় যে পিছনে ৪জনের মধ্যে একজন যদি সুঠাম দেহের অধিকারি হয় তাহলে পিছন থেকে একজন বাইরে পড়ে যাওয়ার মতো অবস্থা হয়। এতে তারা কোন তোয়াক্কা করেনা । অতিরিক্ত এই বোঝা নেয়ার কারনে তারা গাড়িকে কন্ট্রোল করতে পারেনা, যার জন্য এদের মাধ্যমে বেশি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, একটি গোপন সুত্রে জানাযায়, বেপরোয়া মাহিন্দ্রা চালানোর অন্যতম কারন অধিকাংশ চালক নেশাগ্রস্ত এবং ক্ষমতাসীন সরকার দলীয় লোক। তাদের পিছনে রয়েছে প্রভাবশালী নেতা ও পুলিশ। তাই সবকিছু অনিয়ম দেখেও নীরবতা পালন করে কর্তৃপক্ষরা। এসব গাড়ির পেছনে কেএমপি পুলিশ কন্ট্রোল রুমের মোবাইল নম্বর লেখা থাকে যেন পুলিশই এদের নিয়ন্ত্রণ করছে। অধিকাংশ এই চালকরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে। এদের অধিকাংশ ক্ষমতাসীন সরকার দলীয় লোক। সরকারের পক্ষ থেকে কোন কর্মসূচি আসলে তারা বাস্তবায়নে মরিয়া হয়ে উঠে। তাই তাদের কেউ কিছু করতে পারে না।
নিরাপদ সড়ক চাই (নিসচা)’র কেন্দ্রীয় সদস্য ও খুলনা সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন বিপ্লব ‘টাইমনিউজবিডি’কে জানান, অধিকাংশ সড়ক দুর্ঘটনার মূল কারণ মাহিন্দ্রা। কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, চালকদের লাইসেন্স আছে কিনা এই ব্যাপারে বিশেষ নজর দিতে হবে। এছাড়া বিআরটি’র মাধ্যমে চালকদের নির্দিষ্ট তালিকা করে তাদেরকে প্রশিক্ষন এর আওতায় আনা প্রয়োজন।
ভুক্তভোগী যাত্রীরা বলেন, ওদের আচরণ অনেক বাজে। তাদের সাথে কথা কাটা-কাটি হলে তারা যাত্রীদের মারতে আসে। জোড়াগেট থেকে ফেরিঘাট যেখানে ভাড়া হয় মাত্র ৫টাকা, সেখানে ওরা নেয় ১০টাকা। বারবার ভ্রাম্যমাণ আদালত জরিমানা করলেও তারা অপরাধ থেকে ফিরে আসছেনা।
অনুসন্ধানে দেখা যায়, মাহিন্দ্রা চালকদের অধিকাংশ মাদকাসক্ত। তারা ইয়াবা, গাঁজা, ইত্যাদি খেয়ে রাস্তায় গাড়ি চালায়। ফলে সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনা বেশি ঘটে। যেখানে সেখানে পার্কিং করে কোন তোয়ক্কা করে না। ওরা এতটাই মারমুখী থাকে যে গায়ে হাত তুলতেও দিদ্বা করে না। এ কারণে ইজিবাইক চালকদের সাথে তাদের কয়েকবার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ হয়। কিছু নেতা মাহিন্দ্রা সংগঠনের নামে লুটে নিচ্ছে বিপুল পরিমাণ টাকা।
নগরীর বেবিট্যাক্সী ড্রাইভার্স ইউনিয়নের সভাপতি শেখ নজরুল ইসলাম জানান, মাহিন্দ্রার সংখ্যা ৭০০/৮০০ আর চালক ৩৪০০ যারা সমিতির সদস্য। আমাদের সদস্য হতে ৫০ টাকা করে নেই। এছাড়া প্রতিমাসে ৩০০ টাকা করে নেই। এই টাকা সদস্যদের কল্যানে ব্যায় হয়। কেউ মারা গেলে ৫০০০ টাকা অনুদান দেওয়া হয়।
মাহিন্দ্রা চালকরা জানান, বেবিট্যাক্সী ড্রাইভার্স ইউনিয়নে সদস্য হওয়া বাধ্যতামূলক। সদস্য হতে ৫০০ থেকে ১০০০টাকা হারে নেওয়া হয়।
চালক ফারুক জানান, মাহিন্দ্রা প্রতিদিন ভাড়া আগে ৭০০ টাকা এখন ৫৫০টাকা দেয়া লাগে। ভাই রাস্তায় এতো বেশি গাড়ি যে ভাড়ার টাকা উটাতে হিমশিম খাওয়া লাগে আর সংসার চালাতে কষ্ট হয়ে যায়। তাই অতিরিক্ত বোঝা বহন করতে বাধ্য হই। আামাদের এই ভাড়া ইইনিয়ন ঠিক করে দেয়। তারা যদি ৩০০ টাকা ভাড়া করতো তাহলে আমরা অতিরিক্ত বোঝা কমিয়ে দিতাম।
মামুন/এআই





