বঙ্গোপসাগরে জেলেদের জালে ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ। বরগুনার জেলে পল্লীগুলোতে তাই হঠাৎ করেই যেন খুশির জোয়ার বইছে। গত ৫/৬ দিন ধরে মাছ ধরার ট্রলারগুলো গভীর সমুদ্র থেকে ইলিশ বোঝাই করে তীরে ফিরে আসছে।
ফলে বরগুনা ও পাথরঘাটার মৎস্যবন্দরের জেলে, আড়ৎদার ও মৎস্যজীবিদের মুখে হাসি ফুটেছে। ব্যস্ত সময় পার করছে জেলে পাড়ার মানুষেরা।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, বরগুনা ও পাথরঘাটা, কুয়াকাটা, আলীপুর ও মহিপুরের মৎস্যআড়ৎ গুলোতে এখন উৎসব মুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। সংশ্লিষ্ট শ্রমিকদের হাতে যেন একদম সময় নেই।
কেউ বরফ ভাঙ্গছেন আবার কেউ মাছ প্যাকেট করছে দেশের বিভিন্ন মোকামে পাঠানোর জন্য। অপরদিকে মাছ সরবরাহের জন্য সারিসারি পিকআপ ও ট্রাক অপেক্ষায় রয়েছে। এছাড়া দুরদুরান্তের পরিবহনের ছাদেও ককসিট বোঝাই করে ইলিশ বহন করতে দেখা গেছে।
বরগুনা জেলার কমিশন এজেন্ট ব্যবসায়ীরা জানান, বর্তমানে স্থানীয় আড়ৎগুলোতে ৮’শ থেকে ৯’শ গ্রামের প্রতিমন ইলিশ ২০- ২৫ হাজার টাকায়, ৭’শ থেকে ৮’শ গ্রামের প্রতিমন ইলিশ ১৯ হাজার টাকায় ও ৪’শ থেকে ৫’শ গ্রামের প্রতিমন ১২-১৫ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
অগভীর সমুদ্রের খুটা জালেও প্রচুর ইলিশ ধরা পরছে। বৃহস্পতিবার রাতে এফবি টিপু নামের একটি ট্রলার ১৫৮ মন ইলিশ নিয়ে মহিপুর ঘাটে এসে প্রায় ২৫ লাখ টাকায় বিক্রি করে।
মহিপুর শাহিনা ফিসের মালিক মোঃ ইলিয়াস রেজা বলেন, গত কয়েক দিন ধরে ছোট বড় সব মাছ ধরার ট্রলারই প্রচুর মাছ নিয়ে ঘাটে আসছে। বিগত কয়েক বছর এরকম মাছ ধরা পড়েনি। এবছর মনে হয় ভালই লাভ করতে পারব। মাছের দামও তুলনা মূলক কম বলে তিনি জানান।
মহিপুর মৎস্য আড়তদার সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক নিমাই চন্দ্র দাস জানান, ভালই মাছ ধরা পরছে। এভাবে মাছ ধরা পড়লে জেলেরা লাভবান হবে। ইলিশের দাম কিছুটা কম হলেও জেলেরা খুশি। গভীর সাগর থেকে প্রতিটি ট্রলার কম বেশি মাছ নিয়ে ঘাটে আসছে। এ কারণে মৎস্যবন্দরের প্রাণ ফিরে এসেছে।
মহিপুর মৎস্য আড়তদার সমবায় সমিতির সভাপতি মো.ফজলু গাজী জানান, এবছর শুধুমাত্র মহিপুর থেকে গত ৪/৫ দিনে দেশের বিভিন্ন মোকামে প্রায় তিন হাজার মন ইলিশ মাছ চালান হয়েছে।
কোস্টগার্ড পাথরঘাটা স্টেশন কমান্ডার লে. এফ এ রউফ বলেন, ইতিমধ্যে সাগরে মাছধরা পড়তে শুরু করেছে। গভীর সমুদ্রে নৌবাহিনীর টহল অব্যাহত রয়েছে।
বরগুনা জেলা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা চৌধুরি বলেন, গভীর ও অগভীর সমুদ্রে বেশ ইলিশ ধরা পড়ছে। মৎস্য অধিদফতরের কার্যকরী পদক্ষেপ ও পরিকল্পণা কারণেই (প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষা, জাটকা সংরক্ষণ, জেলেদের ভিজিএফ/পুর্ণবাসন) ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে।
এমবি





