কলেজ ভবন সম্প্রসারণ কাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী দিয়ে করা ত্রুটিপূর্ণ কাজের প্রতিবাদ করায় শরীয়তপুর টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষকে আওয়ামী লীগ নেতা বাবু শরীফ ও তার লোকজন লাঞ্ছিত করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

বাবু শরীফ মাদারীপুর জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক বলে জানা গেছে। অধ্যক্ষকে লাঞ্ছিত করার প্রতিবাদ ও বিচারের দাবিতে কলেজ চত্বরে বিক্ষোভ করেছে শিক্ষার্থীরা। এ ব্যাপারে কলেজ কর্তৃপক্ষ বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।

কলেজ কর্তৃপক্ষ জানায়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কারিগরি অধিদফতরের অর্থায়নে প্রায় ২২ লাখ টাকা ব্যয়ে শরীয়তপুর টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের ৩ তলা ভবনের সম্প্রসারণ কাজ হাতে নেয়া হয়। এতে ফরিদপুরের মেসার্স ফোরকান আহম্মেদ খান নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে ৬ মাসের মধ্যে কাজ শেষ করার শর্তে ২০১৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে কার্যাদেশ দেয়া হয়। মেসার্স ফোরকান আহম্মেদ খানের কাছ থেকে সাব-ঠিকাদারি নিয়ে কাজটি করছিলেন মাদারীপুর জেলা আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক বাবু শরীফ।

কিন্তু নির্দিষ্ট মেয়াদ পার হয়ে গেলেও কাজটি শেষ করতে পারেননি তিনি। কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার ও কাজে ত্রুটি দেখে বিভিন্ন সময় বাধা দেন কলেজ অধ্যক্ষ এএইচএম আজহারুল হক ও তদারকির দায়িত্বে থাকা প্রকৌশলী ওমর ফারুক।

এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বুধবার দুপুরে কাজটির সাব-ঠিকাদার মাদারীপুর জেলা আওয়ামী লীগ নেতা বাবু শরীফ ও তার লোকজন অধ্যক্ষের রুমে ঢুকে অধ্যক্ষকে গালিগালাজ করেন এবং রুমের আসবাবপত্র ভাঙচুর করেন। এ সময় সহকারী শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা এগিয়ে আসলে তারা অধ্যক্ষের রুম ছেড়ে চলে যায়।

প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা কলেজ চত্বরে বিক্ষোভ মিছিল বের করে। খবর পেয়ে পালং থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

শরীয়তপুর শিক্ষা প্রকৌশল অধিদফতরের উপ-সহকারী প্রকৌশলী ওমর ফারুক বলেন, ঠিকাদার কাজ শুরু করার পর থেকেই নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করতে শুরু করে। একাধিকবার তাকে সতর্ক করা হয়েছে।

শরীয়তপুর টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ এএইচএম আজহারুল হক বলেন, ‘কাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করা ও ত্রুটি দেখে আমি তাকে কাজটি সংশোধন করে করতে বলি। বুধবার দুপুরে বাবু শরীফ তার লোক নিয়ে আমার কক্ষে ঢুকে আমাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। আমার টেবিলের গ্লাস ও আসবাবপত্র ভাঙচুর করে।’

এ ব্যাপারে আওয়ামী লীগ নেতা বাবু শরীফ বলেন, ‘অধ্যক্ষ স্যারের সঙ্গে কথা কাটাকাটিতে ভুল বোঝাবুঝি হয়েছিল। পরে স্থানীয়ভাবে বিষয়টি মীমাংসা করা হয়েছে।

শরীয়তপুর পালং থানার তদন্ত কর্মকর্তা খন্দকার ফরিদুল হক বলেন, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পরিস্থিতি শান্ত ও স্বাভাবিক ছিল বলে জানান তিনি।

ঢাকা, টাইমনিউজবিডি.কম, কেএইচ