ঈদে দেশে সড়ক, রেল ও নৌ-পথে ১২১টি দুর্ঘটনায় ১৮৬ জন নিহত ও ৭৪৬ জন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি।

আজ ১৫ জুলাই শুক্রবার সকালে রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী এই তথ্য তুলে ধরেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিবছর ঈদ কেন্দ্রিক সড়ক দুর্ঘটনা আশংকাজনক হারে বেড়ে যাওয়ায় গত তিন বছর যাবত বিষয়টি তারা পর্যবেক্ষণ করে আসছে। এবারের ঈদে লম্বা ছুটি থাকায় ঈদযাত্রা অনেকটা স্বস্তিদায়ক হলেও সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে বলে দাবি করে সংগঠনটি।

ঈদের ছুটি শুরুর দিন ১ জুলাই থেকে ঈদ শেষে বাড়ি থেকে কর্মস্থলে ফেরা ১২ জুলাই পর্যন্ত বিগত ১২ দিনে ১২১টি দুর্ঘটনায় ১৮৬ জন নিহত ও ৭৪৬ জন আহত হয়েছে। একই সময়ে ৩টি নৌ দুর্ঘটনায় ১১ জন নিহত ও ৮ জন আহত হয়েছে।

আরো জানানো হয়, এসব দুর্ঘটনায় ১০ নিখোঁজের সংবাদ গণমাধ্যমে এসেছে। এ সময়ে রেলে কাটা পড়ে ২ জন, চলন্ত ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে ১ জন সহ মোট ৩ জন নিহত হয়।

প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত ১ জুলাই থেকে ১২ জুলাই পর্যন্ত ঈদযাত্রায় ১২১টি সড়ক দুর্ঘটনা, ৩টি নৌ দুর্ঘটনা, ৩টি রেল দুর্ঘটনা সংঘটিত হয়।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, উল্লে­খিত সময়ে চট্টগ্রামে ১২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৬ জন নিহত, ৮ জন আহত হয়। ঢাকার ধামরায়ে ৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত, ২৩০ জন আহত হয়। সিরাজগঞ্জে ৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৮ জন নিহত, ১০ জন আহত হয়। বরিশালে ১০টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৪ জন নিহত, ৩৫ জন আহত হয়। টাঙ্গাইলে ৯টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৫ জন নিহত, ১২ জন আহত হয়। কুমিল্লায় ৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৬ জন নিহত, ২১ জন আহত হয়। ময়মনসিংহে ৫টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৪ জন নিহত, ৮৫ জন আহত হয়। মানিকগঞ্জে ৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ জন নিহত, ৩৫ জন আহত হয়। নাটোরে ৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৬ জন নিহত, ১৯ জন আহত হয়। মাদারীপুরে ২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২ জন নিহত, ৭০ জন আহত হয়। রংপুরে ২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৯ জন নিহত হয়। কক্সবাজারে ৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ জন নিহত হয়। গোপালগঞ্জে ৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪ জন নিহত হয়। কিশোরগঞ্জে ৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ জন নিহত, ১০ জন আহত হয়। ঝালকাটিতে ৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ জন নিহত, ২ জন আহত হয়। পাবনায় ৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ জন নিহত, ৫ জন আহত হয়। মুন্সিগঞ্জে ১টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ জন নিহত, ৩৫ জন আহত হয়। গাজীপুরে ৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪ জন নিহত, ২০ জন আহত হয়। গাইবান্ধায় ২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৬ জন নিহত হয়। রাজশাহীতে ২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪ জন নিহত হয়। দিনাজপুরে ৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ জন নিহত হয়। নারায়ণগঞ্জে ১টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪ জন নিহত, ৫০ জন আহত হয়। চুয়াডাঙ্গায় ১টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৩ জন নিহত হয়। হবিগঞ্জে ১টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১ জন নিহত হয়। বগুড়ায় ১টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১ জন নিহত, ২ জন আহত হয়। নেত্রকোনায় ১টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১ জন নিহত হয়। ফেনীতে ১টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১ জন নিহত হয়। সিদ্দিরগঞ্জে ২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১ পুলিশ সদস্য সহ ৩ জন নিহত হয়। ফরিদপুরে ১টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২ জন নিহত, ১৫ জন আহত হয়। শেরপুরে ২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২ জন নিহত হয়। সাতক্ষীরায় ১টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১ জন নিহত হয়। কুষ্টিয়ায় ১টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১ জন নিহত হয়। শরিয়তপুরে ১টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১ জন নিহত হয়। লালমনিরহাটে ২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২ জন নিহত, ৫ জন আহত হয়। বান্দরবানে ১টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১ জন নিহত, ২ জন আহত হয়। ল²ীপুরে ২টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১ জন নিহত, ২০ জন আহত হয়। বাগেরহাটে ১টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১ জন নিহত হয়। ঢাকার আশুলিয়ায় ১টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১ জন নিহত, ২০ জন আহত হয়। ঢাকা মহানগরীতে ৪টি সড়ক দুর্ঘটনায় ৪ জন নিহত হয়। ভোলায় ১টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২০ জন আহত হয়। বরিশালের আগৈলঝরায় ১টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১৫ জন আহত হয়।

এদিকে নৌপথে ঢাকার সদরঘাটে লঞ্চের ধাক্কায় পল্টুন ভেঙে নদীতে পড়ে ২ শিশু নিহত হয়। চট্টগ্রামে হালদা নদীতে নৌকাডুবিতে ৪ জন নিহত, ৯ জন নিখোঁজ হয়। বরিশালে লঞ্চ-স্টিমার সংঘর্ষে ৫ জন নিহত, ৮ জন আহত হয়।

রেলপথে চট্টগ্রাম মিরসরাইয়ের দূর্গাপুরে রেলে কাটা পড়ে ১ জন নিহত হয়। ঢাকার বনানীতে ট্রেনের ধাক্কায় ১ জন নিহত ও ময়মনসিংহে ঈশ্বরগঞ্জে চলন্ত ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে ১ জন নিহত হয়।

একই সময়ে সিরাজগঞ্জের মুলিবাড়িতে মাইক্রোবাসের সিলিন্ডার বিস্ফোরণে চালক আলমগীর হোসেন মোল্লা নিহত হয়। চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে পাকিস্তানি নাগরিক জহির খান, নারায়ণগঞ্জের সিদ্দিরগঞ্জে আমর্ড পুলিশ সদস্য মহিদুল হাসান, বগুড়ায় শান্তমরিয়ম ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক আলমগীর হোসেন সরকার, নাটোরে মিরপুর ভয়েজার ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের শিক্ষিকা জিনাত রেহেনা, গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে আলোকিত বাংলাদেশ পত্রিকায় সাংবাদিক ইসমাইল শরীফ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত হয়।

পর্যবেক্ষণে দেখা যায় মোট যানবাহনের ৪৬ ভাগ মোটর সাইকেল, ৩২ ভাগ বাস, ১৮ ভাগ নছিমন-করিমন-ভটভটি, ৪ ভাগ অন্যান্য।

ইআর/এআই