রামপাল বিদুৎ প্রকল্প বাতিলের দাবিতে প্রগতিশীল ছাত্র জোটের পূর্ব ঘোষিত কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিন থেকে মিছিল শুরু করে শাহবাগের দিকে যেতে থাকলে পুলিশ দফায় দফায় বাঁধা ও ব্যারিকেট দিয়ে থামাতে চেষ্টা করে।

ছাত্র জোটের কর্মীরা সকল বাঁধা ও ব্যারিকেট ভেঙ্গে শাহবাগে অবস্থান নিয়ে সমাবেশ করেন।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন প্রগতিশীল ছাত্র জোটের সমন্বয়ক নাঈমা খালেদ মনিকা, বক্তব্য রাখেন সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্ট কেন্দ্রিয় সভাপতি ইমরান হাবিবব রুমন, বাংলাদেশ ছাত্র ফেডারেশনের সভাপতি সৈকত মল্লিক, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক জিলানী শুভ, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রীর যুগ্ম আহবায়ক ইকবাল, ছাত্র ঐক্য ফোরামের আহবায়ক সরকার আল ইমরান প্রমূখ।

নেতৃবৃন্দ বলেন, জাতীয় কমিটি ও প্রগতিশীল ছাত্র জোট দীর্ঘদিন সুন্দরবন নিকটে রামপাল বিদুৎ কেন্দ্র নির্মাণের ক্ষতির দিক তুলে ধরে ধারাবাহিক ভাবে আন্দোলন করে আসছে। কিন্ত সরকার সে কথায় কর্নপাত না করে গত ১২ জুলাই নির্মাণ চুক্তি স্বাক্ষর করে। এ নির্মাণ চুক্তি বাতিল ও সুন্দর ধ্বংসের সকল চুক্তি ও কর্মকান্ড বন্ধের দাবিতে আজ প্রগতিশীল ছাত্র জোটের রাজপথে অবস্থান কর্মসূচিতে পুলিশের দফায় দফায় হামলায় আহত হয় সমাজতান্ত্রিক ছাত্র ফ্রন্টের প্রগতি বর্মন তমা, গোবিন্দ দাস, অরূপ দাস শ্যাম, মশিউর রহমান, হোসাইনুল আরোফিন সেতু, বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী মাহমুদুল রহমান রুমি, বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাদ্দাম হোসেন জয়,মারিয়া ফেরদৌসসহ ২০ জন নেতা কর্মী আহত হয়। আহতরা ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা গ্রহণ করে।

নেতৃবৃন্দ হামলায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেন এবং হামলার সাথে জড়িত পুলিশ সদস্যদের বিচারের দাবি করে বলেন, এ পর্যন্ত সারাবিশ্বে আবিষ্কৃত ৫০ প্রজাতির ম্যানগ্রোভ উদ্ভিদের মধ্যে ৩৫টি পাওয়া গেছে সুন্দরবনে। এ বনে ৩৩৪টি প্রজাতির উদ্ভিদেরও দেখা মেলে। ৫০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী,৩২০ প্রজাতির পাখি,৫০ প্রজাতির সরীসৃপ,৮ প্রজাতির উভচর,৪০০ প্রজাতির মাছসহ পৃথিবীর বিখ্যাত রয়েল বেঙ্গল টাইগারের আবাসস্থল আমাদের এই সুন্দরবন। লাখ লাখ মানুষের জীবিকা ও কোটি কোটি মানুষকে ঝড়-জলোচ্ছাস থেকে রক্ষাকারী সুন্দরবন ১৯৯২ সালে রামসার সাইট হিসেবে স্বীকৃতিপ্রাপ্ত,১৯৯৭ সালে ইউনেস্কো কর্তৃক বিশ্ব ঐত্যিহবাহী স্থান হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ ফরেস্ট সুন্দরবন। মাছ, গাছ, মধু, গোলপাতা, শত শত প্রজাতির বন্যপ্রাণীসহ প্রাকৃতিক স¤পদেও আধার এই সুন্দরবন। ৪০০ খাল, ছোটবড় ২০০টি দ্বীপ সমন্বয়ে গঠিত সুন্দরবন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অপূর্ব লীলাভূমি। এ কথা আজ সর্বগ্রাহ্য যে, বিদ্যুতের অনেক বিকল্প আছে কিন্তু সুন্দরবনের কোন বিকল্প নাই। তাই কোন শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষই সুন্দরবন ধ্বংস করে এমন প্রকল্প মেনে নিতে পারে না। এই ভয়াবহ প্রকৃতি বিনাশী তৎপরতা ও অপরাধ মেনে নেবেন না। আসুন,সারাদেশে স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়সহ এলাকায় এলাকায় প্রতিরোধ আন্দোলন গড়ে তোলার   আহবান জানান এবং এই হামলার প্রতিবাদে আগামী ১৮আগষ্ট সারা দেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।

এফএফ