সদরঘাট নৌবন্দর দিয়ে নদীপথে যাত্রীদের চলাচল বাড়ে বিকেলের পর। দক্ষিণাঞ্চলের দিকে লঞ্চ ছেড়ে যায় সন্ধ্যার পর। ফলে ইফতারের সময় বেশ সরগরম থাকে সদরঘাট নদীবন্দর।

বলা যায়, মাহে রমজানে সব ব্যস্ততার মাঝে ইফতারির আগ মুহূর্তে জমে উঠে লঞ্চ টার্মিনালের যাত্রাপথের ইফতারি। গ্যাংওয়েতে ইফতার সামগ্রীর পসরা সাজিয়ে বসেন হকাররা। চলতি পথে কেউ ওখান থেকেই ইফতার সামগ্রী কেনেন। আবার কেউ লঞ্চে লঞ্চে ফেরি করা হকারের কাছ থেকে নেন ছোলা, মুড়ি, বেগুনি, পেঁয়াজু ও অন্যান্য ইফতার সামগ্রী।

ইফতারের আধঘণ্টা আগে যাত্রী ও লঞ্চকর্মীরা ব্যস্ত হয়ে পড়েন ইফতার নিয়ে। শুধু রোজাদাররাই নন ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই যোগ দেন এ আয়োজনে। এতে টার্মিনাল জুড়ে তৈরি হয় মানুষে মানুষে সম্প্রীতির এক আবহ। বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত সদরঘাট টার্মিনাল ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে। সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালে হকাররা এক লঞ্চ থেকে অন্য লঞ্চে বিভিন্ন ইফতার সামগ্রী নিয়ে ছুটছেন। আবার অনেকে টার্মিনালেই পসরা সাজিয়ে বসেছেন। যাত্রীরা তাদের কাছ থেকে কিনে নিচ্ছেন পছন্দের ইফতার সামগ্রী।

মিরপুর থেকে আজমল হোসেন এসেছেন অগ্রিম টিকিট নিতে। বাসায় ফিরবেন কিন্তু সময় একবারেই নেই। কিছুক্ষণ পর ইফতারি করতে হবে, এজন্য হালকা কিছু কিনছেন ইফতারি করার জন্য। তার মত আরো অনেকেই লঞ্চ টার্মিনালে ইফতারি কিনে ইফতারি করছেন। এতে কারো আনন্দের কোন কমতি নেই।

বরিশালের সুরভী লঞ্চে দায়িত্বে থাকা শফিক বলেন, ‘পুরো রোজার মাসে লঞ্চেই ইফতার করতে হয়। এক সঙ্গে বেশি মানুষের সঙ্গে ইফতার করলে সওয়াবও বেশি হয়। এতে আমাদের মাঝে এক ধরনের আনন্দ বিরাজ করে।’ লঞ্চঘাট ঘুরে দেখা গেল যাত্রীরা প্রতিটি লঞ্চের ডেকে বসে সারিবদ্ধভাবে গাদাগাদি করে বসেছেন ইফতারি করার জন্য। এছাড়াও ছোট ছোট দলে ভাগ হয়ে চলছে ইফতারির আয়োজন। কেউ একা আবার কেউ স্বজনদের নিয়ে ইফতার করছেন।

সদরঘাটের কুলি মোবারক ও তার সতীর্থ আরো কয়েকজন একসঙ্গে বসেছেন ইফতার করতে। তাদের ইফতার সামগ্রীতে তমন ভাল কিছু না থাকলেও দেখা গেল ছোলা, আলুর চপ, বেগুনি, পেঁয়াজু, মুড়ি। মোবারক বলেন, ‘ভাই আমরা সারাদিন যে কষ্টের কাজ করি তা রোজা রেখে করতে পারি না। আর কাজ না করলে সংসার চালাবো কি করে। তবে সব রোজা যে রাখি না তা নয়, কিছু রাখি, কিছু বাদ যায়। রোজা থাকি আর নাই থাকি, ইফতার করি সকলে মিলে। কারণ, সকলে মিলে একসঙ্গে ইফতার করলে এর মধ্যে একটা আলাদা আনন্দ খুজে পাই।’

তবে কেবিনের যাত্রীদের ইফতারির আয়োজনে রয়েছে ভিন্নতা। অনেককেই দেখা গেছে বাসা থেকে নিয়ে এসেছেন ইফতারির নানা পদ। বাসা থেকে হালিম, ছোলা, পেঁয়াজু ও আলুর চপ তৈরি করে এনেছেন। লঞ্চের কর্মীরাও যাত্রীদের লঞ্চে ওঠার জন্য হাঁকডাকের ফাঁকে ফাঁকে আয়োজন করে চলেছেন ইফতারির। তাদের সে আয়োজনে খেজুর, শরবত, ছোলা, মুড়ি, বেগুনি, পেঁয়াজু। আর রয়েছে বিশেষ একটা যত্ন।

টার্মিনাল ভবনের সামনে বিকাল গড়াতেই হোটেল ও ফুটপাত টেবিল পেতে দোকানিরা বসে পড়েন ইফতারির পসরা নিয়ে। শামিয়ানা টানিয়ে ইফতারি বিক্রির আলাদা ব্যবস্থা করে হোটেলগুলো। সব দোকানের সামনে ক্রেতাদের ভিড় লেগে থাকে ইফতারের আগ পর্যন্ত।

জেআই