দেশে গ্যাসের সংকট না কাটায় কমছে না ভোগান্তি। চাহিদার এক-তৃতীয়াংশের বেশি গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে শিগিগরই দূর হচ্ছে না চাহিদা ও সরবরাহের ঘাটতি। বিদ্যমান সংকটে শিল্প উৎপাদন সক্ষমতা কমে গেছে। দিনের বেশির ভাগ সময় গ্যাস না পেয়ে অনেক বাড়িতে রান্নার চুলা জ্বলছে না।

নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধির মধ্যে গ্যাসের এই সংকট সার্বিক অর্থনীতি ও জনজীবনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। ঘাটতি মেটাতে বড় আকারে স্থানীয় গ্যাসের জোগান বাড়ানোর উপায় শিগিগরই করা যাচ্ছে না। আবার নগদ অর্থের সংকটে বিদেশ থেকে গ্যাস (এলএনজি) আমদানি বাড়ানো যাচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে গৃহস্থালির চেয়ে শিল্প ও সার কারখানায় এবং বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাসের জোগান যতটুকু সম্ভব বাড়াতে অগ্রাধিকার দিচ্ছে সরকার।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গ্যাসের পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় ঢাকা মহানগর, সাভার, গাজীপুর, আশুলিয়া, নারায়ণগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন এলাকার বেশির ভাগ শিল্পকারখানা দিনের অনেক সময় বন্ধ থাকছে। এছাড়া রাজধানীর টিকাটুলী, যাত্রাবাড়ী, মোহাম্মদপুর, মিরপুর, ধানমন্ডি, হাতিরপুল, পুরান ঢাকা, শ্যাওড়া, রামপুরাসহ অনেক স্থানে বাসাবাড়িতে দিনের একটি বড় অংশ গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। কোথাও গ্যাস পাওয়া গেলেও তার চাপ কম। রান্নায় বিকল্প উপায়, অর্থাৎ এলপিজি, কেরোসিনের চুলা ও বৈদ্যুতিক চুলার ব্যবহারে সীমিত আয়ের মানুষ হিমশিম খেতে শুরু করেছে।

পেট্রোবাংলার পরিচালক (অপারেশন) প্রকৌশলী মো. কামরুজ্জামান খান বলেন, ‘সরবরাহে ঘাটতির কারণে চাহিদা অনুযায়ী গ্রাহক পর্যায়ে গ্যাস বিতরণ করা যাচ্ছে না। দেশে উৎপাদনে ঘাটতি আছে। আবার বিশ্ববাজারে দাম বেড়ে যাওয়ায় আমরা খোলাবাজার থেকে এলএনজি আমদানিও এখন বন্ধ রেখেছি। দীর্ঘ মেয়াদে চুক্তির আওতায় গ্যাস আমদানি হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘আমরা দেশীয় উৎপাদন ও আমদানি—দুটিই বাড়ানোর পরিকল্পনা করছি। নতুন কুপ খনন ও গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানের কাজ চলছে।

এইচএম