ঘূর্ণিঝড় 'রোয়ানু' উপকূলীয় অঞ্চলে আঘাত হেনেছে। বৃষ্টির পরিমাণ বেশি হওয়ায় এখন পর্যন্ত আঘাতের তীব্রতা পরিলক্ষিত হয়নি। এই আঘাতে ভোলা, সীতকুণ্ড ও পটুয়াখালীতে ৬ জনের প্রাণহানি হয়েছে। বিধ্বস্ত হয়েছে অসংখ্য ঘরবাড়ি।
এই ঘূর্ণিঝড় নিয়ে আবহাওয়া অধিদফতরের বিশেষ বুলেটিনে বলা হয়েছে, বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় 'রোয়ানু' শক্তিশালী হয়ে বাংলাদেশে উপকূলের দিকে আরও এগিয়ে এসেছে। শনিবার দুপুরের মধ্যেই এটি বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও বরিশাল উপকূল অতিক্রম করবে।
এতে আরও বলা হয়েছে, শনিবার সকাল ৬টায় ঘূর্ণিঝড়টি চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ১৯০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছে।
ঘূর্ণিঝড় রোয়ানু মূলত শুক্রবার মাঝরাতে উপকূলে আঘাত হানে। এর প্রভাবে তখন থেকে উপকূল অঞ্চলসহ সারা দেশে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। আর এই বৃষ্টিই ঘূর্ণিঝড়ের শক্তিকে দুর্বল করে দিয়েছে।
ভোলা: দুপুরে ভোলায় আঘাত হেনেছে ঘূর্ণিঝড় 'রোয়ানু'। ঝড়ে ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলায় ঘরচাপায় নারীসহ দু'জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছেন শতাধিক লোকজন।
এছাড়া ঝড়ে উপজেলার বাজারসহ বিভিন্ন এলাকায় ৫ শতাধিক ঘরবাড়ি ও দোকানপাট বিধ্বস্ত হয়েছে। এ ছাড়া লালমোহন উপজেলায় ঝড় আতঙ্কে আরও একজন মারা গেছেন। ঝড়ে দুই শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।
নিহতরা হলেন- তজুমদ্দিন উপজেলার শশীগঞ্জ গ্রামের মফিজের ছেলে মো. আকরাম (১২), একই এলাকার মো. নয়নের স্ত্রী রেখা বেগম (২৫), লালমোহন উপজেলার বাংলাবাজার এলাকার মো. ইউনুস (৫৫)। আহতদের উদ্ধার করে তজুমদ্দিন ও ভোলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সীতাকুণ্ড: সীতকুণ্ডের সলিমপুরে ঘূর্ণিঝড় 'রোয়ানু'র প্রভাবে সৃষ্ট ভারী বৃষ্টিতে পাহাড় ধসে মা-ছেলে নিহত হয়েছেন।
নিহতরা হলেন, কাজল বেগম (৫০), তার ছেলে বেলাল (১০)। এতে আহত হয়েছেন কাজলের স্বামী রফিক। শনিবার সকালে ছলিমপুর ইউনিয়নে এ পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া, বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম শহরে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
পটুয়াখালী: 'রোয়ানু'র প্রভাবে শনিবার সকালে ঝড়ে ঘর ভেঙে পড়ে পটুয়াখালী দশমিনা উপজেলার সদর ইউনিয়নে নয়া বিবি (৫২) নামে এক নারী নিহত হয়েছেন।জেলার রাঙ্গাবালী ও গলাচিপা উপজেলায় বেশকিছু কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। গাছপালার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।
পটুয়াখালীর কলাপাড়া রাডার স্টেশনের কর্মকর্তা প্রকৌশলী প্রদীপ চক্রবর্তী জানান, ঘূর্ণিঝড় রোয়ানুর ব্যাপ্তি ছিল দুটি বাংলাদেশের সমান আকৃতির।
তিনি বলেন, সাগরের উপরি ও নিম্নভাগে অবস্থান নেয় রোয়ানু। অতি বৃষ্টিই বড় ধরনের বিপর্যয় থেকে উপকূলকে রক্ষা করেছে।
প্রদীপ চক্রবর্তী বলেন, বাংলাদেশের সর্বত্র আঘাত অব্যাহত রেখেছে রোয়ানু। তবে তা অত্যন্ত দুর্বল হয়ে আঘাত হানছে।
শনিবার পায়রা সমুদ্র বন্দর এলাকা ত্যাগ করে রোয়ানুর গতিপথ মিয়ানমার ও ভারতের আসামের দিকে যাবে বলেও জানান তিনি।
এমবি





