অনেকে আছেন, যারা বউয়ের ভয়ে দুর্নীতি করেন না। সমাজে নারীদের সচেতন করা গেলে দুর্নীতি অনেকাংশে কমে আসতে পারে।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান ইকবাল মাহমুদ আজ রোববার ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) আয়োজিত এক সভায় এ মন্তব্য করেন।

সাবেক এক সহকর্মীর উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন স্ত্রীর বাধার কারণে ওই সহকর্মীর ঘুষের টাকা বেহাত হয়ে গিয়েছিল।

নারীদের অসচেতনতার কারণে আজ অনেকে দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়ছেন। অথচ অনেক ক্ষেত্রে ওই অবৈধ কাজের ফল ভোগ করতে হচ্ছে নারীকেই, মন্তব্য করেন তিনি।

দুদক চেয়ারম্যান বলেন, স্বামীর অবৈধ আয়ে স্ত্রীর নামে সম্পদ অর্জনসংক্রান্ত ৯০ শতাংশ মামলায় স্ত্রী এ সম্পর্কে কিছুই জানেন না। অথচ আইনে ওই কিছুই না-জানা নারীকেই আসামি করা হচ্ছে।

ইকবাল মাহমুদ বলেন, গত দুই বছরের মধ্যে আমরা একজন নারীকে পেয়েছি, যিনি স্বামীর অবৈধ আয় সম্পর্কে জানেন বলে জানিয়েছেন।

সভায় দুদকের বিভিন্ন পরিসংখ্যান নিয়ে টিআইবির করা একটি কার্যপত্র উপস্থাপন করেন টিআইবির প্রোগ্রাম ম্যানেজার শাম্মী লায়লা ইসলাম।

এতে বলা হয়, গত এক যুগে দুদকে দায়ের করা ২৯টি মামলায় ২৯ জন নারীকে স্বামীর দুর্নীতির কাজে সহযোগিতা বা জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন বা তথ্য গোপনের অভিযোগে আদালত কারাদণ্ড এবং আর্থিক জরিমানা করা হয়েছে। ২৯ জনের মধ্যে ২৬ জনকেই স্বামীর দুর্নীতিতে সহায়তা করার অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে সাজা দেয়া হয়েছে। ২৫ জন তিন বছর এবং একজনকে দুই বছরের সাধারণ কারাদণ্ড দেয়া হয়েছে। ২০০৭ সাল থেকে চলতি বছরের মার্চ মাস পর্যন্ত প্রায় সব কটি মামলাতেই অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ বা সম্পদ বাজেয়াপ্ত করা হয়, যার পরিমাণ ৫০ লাখ থেকে ৮০ কোটি টাকা পর্যন্ত।

সভায় টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামানও অবৈধ সম্পদের দায় যাতে নারীকে নিতে না হয়, সে জন্য নারীর সচেতনতার বিষয়টিতে গুরুত্ব দেন। একইভাবে নারীর সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং ক্ষমতায়ন জরুরি বলে উল্লেখ করেন। দুদকের পক্ষ থেকেও ক্যাম্পেইন বা প্রচারের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানান তিনি।

সভায় নারীনেত্রী খুশী কবির, রোকেয়া কবীর, মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম, অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের দেশীয় পরিচালক ফারাহ কবির, অধ্যাপক আসিফ নজরুল, আইনজীবী তানবীর সিদ্দিক প্রমুখ অংশ নেন।

এসএম